অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: সিজারিয়ান ডেলিভারিতে রাজ্যের মধ্যে সচরাচর প্রথম সারিতেই দেখা যায় নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালকে। কিন্তু, এবার তা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। বিগত কয়েক বছরে জেলা হাসপাতালে সিজারিয়ানের বদলে নর্মাল ডেলিভারিতে জোর দিয়েছে নদীয়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। তার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। তিনবছর আগে জেলা হাসপাতালে সিজারিয়ান প্রসবের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। এখন সেটাই কমিয়ে ৬০ শতাংশ নামিয়ে আনা গিয়েছে।
চলতি বছরে নদীয়া জেলা হাসপাতালে পাঁচ মাসে নর্মাল ডেলিভারি হয়েছে এক হাজারের বেশি গর্ভবতী মায়ের। যদিও এখনও সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যাই বেশি। তবে নর্মাল ডেলিভারির প্রবণতা বাড়ায় খুশি স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। মূলত যে সমস্ত মা প্রথমবার সন্তান প্রসব করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নর্মাল ডেলিভারি করানো হচ্ছে নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, যে সমস্ত মা আগেই সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান প্রসব করেছেন, তাঁরা দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ করলে তাও সিজারিয়ান পদ্ধতিতেই করতে হচ্ছে।
নদীয়া জেলার সহ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত দাস বলেন, আমরা গর্ভবতী মায়েদের নর্মাল ডেলিভারিতে জোর দিচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়। তাতে অনেকটাই সফলতা এসেছে। যাঁরা প্রথমবার মা হচ্ছেন তাঁদের নর্মাল ডেলিভারিই করানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ৩০৯০জন গর্ভবতী সন্তান প্রসব করেছেন। যার মধ্যে ১০৬১জন গর্ভবতী নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেছেন। আর সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে ২০২৯ জনের। অর্থাৎ চলতি বছরে প্রায় ৬৪ শতাংশ সিজারিয়ান ডেলিভারি করা হয়েছে নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালে। যেখানে গত বছর সিজারিয়ান ডেলিভারি ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশের কাছাকাছি।
নদীয়া জেলা হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন, আমাদের আগে সিজারিয়ান ডেলিভারি অনেক বেশি ছিল। এখন আমরা সেটা ৬০ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে এনেছি। গত তিন বছরে আমরা গর্ভবতী মায়েদের নর্মাল ডেলিভারির উপর জোর দিয়েছি।
জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, সরকারি হাসপাতালে সি-সকেশান প্রসবের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। কিন্তু, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সিজারিয়ান পদ্ধতিতেই প্রসব করানো হচ্ছে। আমরা তাদের সঙ্গেও কথা বলছি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের ক্ষেত্রে নর্মাল ডেলিভারি সর্বোত্তম ও নিরাপদ। তবে বর্তমানে সিজারিয়ান ডেলিভারিই যেন সাধারণ ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সিজারিয়ান ডেলিভারির ফলে মায়েদের শরীরের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে। অপরদিকে, নর্মাল ডেলিভারিতে মা ও নবজাতক তুলনামূলকভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং জটিলতা কম থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকাও বলছে, কোনও দেশের মোট প্রসবের মধ্যে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। অথচ বাস্তবে এই হার অনেক ক্ষেত্রেই অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, বর্তমানে অনেক মা-ই প্রসববেদনা সহ্য করতে চান না সেজন্য সিজারিয়ান পদ্ধতির দিকেই ঝুঁকছেন। কিছু ক্ষেত্রে আবার চিকিৎসক সময় বাঁচাতে বা ঝুঁকি এড়াতে সিজার করছেন। এতে এখন সিজারিয়ান পদ্ধতিই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।