Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাসিক চার্জ ১০০ টাকা! মিলছে ব্যস্ত রাস্তায় সাইকেল চালানোর ‘অনুমতি’

মাসিক চার্জ ১০০ টাকা! মিলছে ব্যস্ত রাস্তায় সাইকেল চালানোর ‘অনুমতি’
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: অ্যাপ নির্ভর সংস্থায় খাবার ডেলিভারি কাজ করেন। আর্থিক অবস্থা খারাপ বলে বাইক নেই। ভরসা একটি সাইকেল। অর্ডার নিয়ে রেস্তরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ করে যান গ্রাহকের কাছে। এদিনও ডেলিভারি করতে যাচ্ছিলেন দেবাশিস সাহা নামে ওই কর্মী। বালিগঞ্জের কাছে তাঁর পথ আটকান ট্রাফিক বিভাগের এক পুলিস। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তায় সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ। জরিমানা দিতে হবে আপনাকে। ১০০ টাকা দিন। অবশ্য টাকা নিয়ে ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের অফিসের পক্ষ থেকে আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হবে। সেটি সঙ্গে রাখবেন। তাহলে আগামী একমাস আপনাকে এই রাস্তায় কেউ আর ধরবেন না।’

Advertisement

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। শহরের  সাইকেল আরোহীদের প্রশ্ন, ‘পুলিস কিসের ভিত্তিতে এই টাকা নিচ্ছে? কোন আইনে, পুলিসের কোন নির্দেশিকার ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে এই ‘মাসিক চার্জ’? যে স্লিপটি দেওয়া হচ্ছে সেটির কি আইনি বৈধতা আছে? নাকি লালবাজারের অজান্তেই বেআইনিভাবে ‘ছাড়পত্র’ দিয়ে দিচ্ছে ইস্ট ট্রাফিক গার্ড?’ বিতর্কের জবাবে লালবাজার স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘এ ধরনের কোনও নির্দেশিকা লালবাজার দেয়নি।’ পাশাপাশি সাইকেল আরোহীদের থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ট্রাফিক বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।  
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতার ৭১টি রাস্তায় দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় সাইকেল চালানো নিষেধ। কলকাতা পুলিসের অফিসিয়াল সাইটেও এ তথ্য রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম ভাঙলে জরিমানা নেওয়ার কোনও নির্দেশ নেই। তবে সাইকেল বাজেয়াপ্ত করতে পারে পুলিস। এবং ‘পেটি কেস’ হিসেবে ১০ টাকা জরিমানা করতে পারে। জরিমানা নিয়ে রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বালিগঞ্জের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে সরকারি শিলমোহর দেওয়া একটি সাদা কাগজ। তাতে লেখা ‘বাই সাইকেল’। লেখা আছে তারিখ। দেবাশিস বলেন, ‘২০ মার্চ বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিস বলেছে, লালবাজারের অর্ডারে দু’দিন করে আমরা একটি স্পটে থাকি। মাসে একটি করে কেস দেওয়া হবে। ট্রাফিক গার্ডের এই স্লিপ থাকলে সাইকেল চালানোর অনুমতি পাওয়া যাবে।’
‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোটর ভেহিকেলস রুলস, ১৯৮৯’য়ের ২৯১ ধারায় স্পষ্ট লেখা, ‘পুলিস কমিশনারের অর্ডার মোতাবেক শহরের নির্দিষ্ট রাস্তাগুলিতে শুধুমাত্র মোটরচালিত যান চলতে পারবে। সাইকেল, সাইকেল ভ্যান, রিকশ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’ সেই নির্দেশে জরিমানার কথা লেখা নেই। কারণ সাইকেল মোটরচালিত যান নয়। কলকাতা সাইকেল সমাজের আহ্বায়ক রঘু জানা বলেন, ‘পার্ক স্ট্রিট, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ সহ একাধিক এলাকায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ আসছে। আমরা লালবাজারে গিয়ে পুলিস কমিশনারের সঙ্গে আগেও কথা বলেছি। লালবাজার আমাদেরও জানিয়েছিল, জরিমানার কোনও নির্দেশ কলকাতা পুলিস দেয় না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ