নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর ও মালদহ: দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! কারণ, মুখ খুলেছেন নির্যাতিতা নিজেই। অভিযোগ করেছেন, ওই রাতে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধেই শারীরিক নির্যাতন চালান সহপাঠী ডাক্তারি পড়ুয়াও। তখনই দুষ্কৃতীরা এসে পড়ে। মোটা টাকা চাইতে থাকে। বেগতিক বুঝে সহপাঠী পালিয়ে যান। বান্ধবীর কাতর আর্তিও তিনি কানে তোলেননি। শেষে নিরুপায় হয়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে থাকেন তিনি। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। তাঁকে ধরে ফেলে দুষ্কৃতীরা। তাদের একজন তাঁকে ধর্ষণও করে।
মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে তদন্তকারী অফিসারদের কাছে ছবির মতো পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন নির্যাতিতা। সেখানে আগাগোড়াই সহপাঠীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বীকার করে নিয়েছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি সহপাঠীর সঙ্গে স্বেচ্ছায় কলেজ ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু, এমন ভয়ানক ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। নির্যাতিতার জবানবন্দি গ্রহণের পরই রাতেই ওয়াশিফ আলি নামে ওই সহপাঠীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ওয়াশিফের বাড়ি মালদহের কালিয়াচকে।
ঘটনার পর থেকে নির্যাতিতার বাবাও আঙুল তুলেছিলেন সহপাঠীর দিকেই। গ্রেফতারের পর তিনি খানিক স্বস্তিতে। তদন্তে আস্থাও রেখেছেন। বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার মায়ের মতো। আমি যদি কোনও কথায় ওঁকে আঘাত দিয়ে থাকি, ছেলে হিসেবে ক্ষমা চাইছি। ওঁর কাছে শুধু চাইছি, মেয়ে ন্যায়বিচার পাক। ওকে নিয়ে আমি ওড়িশায় চলে যাব।’ এসিপি সুবীর রায় এদিন বলেন, ‘নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই ডাক্তারি পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
পুলিশ তদন্তে নেমেই পুরুষ বন্ধুটিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছিল। গতকাল নির্যাতিতার জবানবন্দি নেওয়ার পরই গোটা ঘটনাক্রম স্পষ্ট হয়ে যায়। সূত্রের খবর, নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, সহপাঠীকে বিশ্বাস করে ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তাঁকে জঙ্গলের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অমতে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করা হয়। শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঠিক সেই সময় তিন দুষ্কৃতী আসে। বন্ধুটি তাঁকে ফেলে চলে যান। ডাক্তারি পড়ুয়াকে একা পেয়ে দুষ্কৃতীরা ঘিরে ধরে। নির্যাতিতা বয়ানে জানিয়েছেন, তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি। দুষ্কৃতীদের একজন তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তখনই সেখানে চলে আসে আরও দু’জন দুষ্কৃতী।
নির্যাতিতার বয়ানের পরই ক্রাইম সিনের পরিধি বেড়েছে। বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আরও অনেকটা বাড়তি জায়গা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ঘটনার সময় ছোটাছুটি ও ধস্তাধস্তি হয়। তাই এলাকাটি বাড়ানো হয়েছে। ওয়াশিফের পরিবার বর্ধিষ্ণু। বাবা আনিসুর রহমান কালিয়াচকের সিলামপুর-১ পঞ্চায়েতের কংগ্রেস সদস্য ছিলেন। এলাকায় রহমান সাহেবের যথেষ্ট সুনাম।