নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের বনাঞ্চল ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। বেহাত হয়ে গিয়েছে বনবিভাগের বিস্তীর্ণ জঙ্গলভূমি। জঙ্গল কেটে বড় বড় ফার্ম হাউস, রিসর্ট গড়ে উঠেছে। নিজ ভূমিতে আদিবাসী ও জনজাতি মানুষজন কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। বনের পশু-পাখিরা আশ্রয় হারাচ্ছে। তাই এবার বেহাত হয়ে যাওয়া বনভূমির জমি উদ্ধারে নেমেছে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ। বেআইনিভাবে গড়ে তোলা ফার্ম হাউস ও রিসর্টের মালিকদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, দখল হয়ে যাওয়া বনভূমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেআইনিভাবে গড়ে তোলা রিসর্ট ও ফার্ম হাউস মালিকদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি জামবনী ব্লকের গিধনী এলাকায় চার হাজার হেক্টর জমিতে শালগাছ লাগিয়ে বনভূমি বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের বনভূমির হ্রাস ও হাতির পালের তাণ্ডব ঘিরে সর্বস্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বনভূমি এলাকার আদিবাসী মানুষ জঙ্গল নির্ভর জীবিকা হারাচ্ছে। জঙ্গল থেকে হাতি ও হরিণের দল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। পর্যটনের প্রসারে গত কয়েক বছরে জেলার আর্থিক ছবি বদলেছে। সেখানে জঙ্গলভূমি দখল করে গাছ কেটে একাধিক বড় ফার্ম হাউস ও রিসর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইন মেনে কাজ করা হচ্ছে না।
বিনপুর-২ব্লকের বেলপাহাড়ী এলাকায় বনবিভাগের জমি দখল করে একাধিক রিসর্ট গড়ে উঠেছে। শাল, পিয়াল, মহুল গাছ কেটে সাফ করে ফেলা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের শালবনী এলাকায় বড় ফার্ম হাউস, বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বেআইনি এই কাজকর্মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ দেরিতে হলেও নড়েচড়ে বসেছে। ঝাড়গ্রাম জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর শহর ও পর্যটনস্থল এলাকায় জমির দাম বেড়ে গিয়েছে। পর্যটকদের বড় একটা অংশ বেলপাহাড়ীর অরণ্য এলাকার সৌন্দর্য দেখতে আসে। সেখানে বড় বড় রিসর্ট তৈরি হচ্ছে। রিসর্টে থাকছে সুইমিং পুল। ফলে দাম বাড়ছে জমির। এলাকার রায়ত জমি প্রতি কাঠা পাঁচ-সাত লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র বনবিভাগের জমিও দখল করে নিচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া বনদপ্তরের গবেষণা বিভাগের ২৫হেক্টর জঙ্গলভূমি দখল হয়ে গিয়েছে। একাধিক বড় গাছ কেটে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। বনবিভাগের ভাস্করকাটার বৃহৎ জমি এলাকাও বেহাত হয়েছে। প্রান্তিক এলাকার বনবিভাগের জমিও এবার বাদ যাচ্ছে না।
জেলার বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আন্দোলনের এক কর্মী বলেন, এখানে জঙ্গলভূমির চরিত্র বদলে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণীরা আশ্রয় হারাচ্ছে। খাবারের সন্ধানে হাতির পাল, হরিণ, নেকড়ে, খরগোশ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এর মূল কারণ বনভূমি হ্রাস। বনভূমি রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বনবিভাগ এবার উদ্যোগ নিচ্ছে। দেরিতে হলেও এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।