নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১৭ আগস্ট, ১৯৪৫। তাইওয়ান যাত্রার আগে নেতাজি শেষ মিটিং করেছিলেন এই বাড়িতে বসেই। ভিয়েতনামে এখানেই ছিল আজাদ হিন্দ ফৌজের সদর কার্যালয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবার উদ্যোগী হলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভিয়েতনামের তদানীন্তন ৭৬, পল ব্লানচি রোডের (এখন হাইবা ত্রুং রোড) এই বাড়ির মালিক ছিলেন ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগের (আইআইএল) সাইগন (হালের হো চি মিন সিটি) কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রৌচণ্ডী। উত্তরাধিকার সূত্রে সেই বাড়ির মালিকানা এখন রয়েছে তাঁর ছেলে ইতিহাসবিদ জেবি মোরের হাতে। প্রধানত ইতিহাসবিদ মোরের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছে সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক। বিস্তারিত জানিয়ে গত ১১ জুন মোদিকে চিঠি পাঠিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক জি দেবরাজন। যদিও রবিবার রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত কোনও জবাব আসেনি বলেই দাবি করেছে দল।
চিঠিতে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে তা জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ না হলে একটি ইতিহাস সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ভিয়েতনাম সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়ি অধিগ্রহণ করে রক্ষণাবেক্ষণ করুক ভারত সরকার। এখানে নেতাজি মেমোরিয়াল এবং একটি রিসার্চ সেন্টার তৈরি হোক। এর ফলে প্রৌচণ্ডী এবং তাঁর মতো তৎকালীন সাইগনের যেসব ভারতীয় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদেরও শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে।
দেবরাজন বলেন, জেবি মোরে বর্তমানে ফ্রান্সে থাকেন। কোনও সূত্রে তিনি এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঐতিহাসিক নিদর্শন হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না। জেবি মোরে নিজে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাতে চাননি। তবে মোদিকে উদ্দেশ্য করে তিনি একটি নোট লিখেছেন। সেটিও আমরা চিঠির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছি। আমাদের আশা, এই ব্যাপারে মোদি সরকার নিশ্চয় সহযোগিতা করবে। ফরওয়ার্ড ব্লকের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে খবর।