Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তুমুল ধস্তাধস্তি, ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতি সরকারি সম্পত্তির, আক্রান্ত মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরাও

সোমবার বিধানভার অধিবেশনে ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। চারজন বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়। তারপর মার্শাল ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের তুমুল ধস্তাধস্তিও বাধে।

তুমুল ধস্তাধস্তি, ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতি সরকারি  সম্পত্তির, আক্রান্ত মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরাও
  • ২৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার বিধানভার অধিবেশনে ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। চারজন বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়। তারপর মার্শাল ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের তুমুল ধস্তাধস্তিও বাধে। অভিযোগ উঠেছে, বিধানসভার সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছেন বিজেপি বিধায়করা। এমনকী আক্রান্ত হয়েছেন বিধানভার মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরাও। অন্যদিকে, হেয়ার স্ট্রিট থানায় মার্শালের নামে পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।

Advertisement

এদিন ঘটনার সূত্রপাত বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ির একটি ‘পয়ন্টে অব অর্ডার’ তোলার পরই। অশোকবাবু প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘গত সপ্তাহে বিলের উপর আলোচনায় আমার গোটা বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হল কেন?’ উত্তরে বিধানভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা সরকার পক্ষের বক্তব্য না শুনে হট্টগোল করে বেরিয়ে গিয়েছেন। তাই বিধানসভার রুল অনুযায়ী আপনাদের বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
এরপরই, বিজেপি বিধায়করা অধিবেশন কক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু করেন। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের সংযত হওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। কিন্তু সেসব তোয়াক্কা না করে বিজেপি বিধায়করা কাগজ ছিঁড়তে থাকেন এবং ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান। ওই কারণে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, মনোজ ওঁরাও, দীপক বর্মন এবং অগ্নিমিত্রা পালকে সাসপেন্ড করা হয়। সাসপেন্ডেড বিজেপি বিধায়কদের মার্শাল ডেকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। কিন্তু বিজেপি সদস্যরা বেরতে রাজি হননি। আর তখনই বিধানসভার মার্শাল ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের ধস্তধস্তি বেধে যায়। এমনকী প্রায় হাতাহাতি বাধারও উপক্রম হয়। বিশেষ করে, বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী ও সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুমুল ধস্তধস্তি হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। আর এই ঘটনার মধ্যেই বিজেপির শঙ্কর ঘোষ মাটিতে পড়ে যান। কিছুক্ষণ যাবৎ এই পরিস্থিতি চলে। তারপর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু কিছু সময় পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবার ফিরে এসে স্পিকারের আসনের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানাতে থাকেন। তাতে ফের বেধে যায় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা। 
অভিযোগ উঠেছে, বিজেপির এদিনের কাণ্ডে কয়েকজন মহিলা নিরাপত্তারক্ষীর হাতে চোট লেগেছে। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে আহত হয়েছেন ১৪ জন নিরাপত্তারক্ষী। টেবিল এবং বেশ কয়কটি স্ট্যান্ড ভেঙে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সম্পত্তির মেরামত বাবদ বিজেপি বিধায়কদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতে পারে। জানা গেল বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, বিধানসভা হল গণতন্ত্রের মন্দির। অথচ জায়গাটিকে কুস্তির আখড়ায় পরিণত করার চেষ্টা করেছে বিজেপি!
অন্যদিকে, বিজেপি পরিষদীয় দলের দাবি, মার্শাল ও তাঁর দলবলের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের বিধায়করা। তাঁদের ঘড়ি, চশমা প্রভৃতি ভেঙে গিয়েছে। এজন্যই তাঁদের তরফে পুলিসে এফআইআর করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ