সংবাদদাতা, লালবাগ: লালগোলায় টাকা চুরির সন্দেহে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে নগ্ন করে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় বছর ন’য়ের ওই ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরে ছাত্রের পরিবার লালগোলা থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। পুলিস অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম হাকিম শেখ ওরফে রুবেল। ঘটনা জানাজানি হতেই ওই বেসরকারি স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়ার অভিভাবকরা রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ধৃতকে শুক্রবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ভগবানগোলার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে লালগোলার একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলের শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভগবানগোলা থানার কালীনগরের বাসিন্দা তাঁর ছেলেকে জানুয়ারি মাসে লালগোলার একটি আবাসিক স্কুলে ভর্তি করেন। অভিযোগ, গত সোমবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাকিম শেখের ৬ হাজার টাকা খোয়া যায়। তিনি সন্দেহ করেন তৃতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়া সেই টাকা চুরি করেছে। তিনি তল্লাশির জন্য ওই পড়ুয়াকে বাথরুমে নিয়ে যান। টাকা না পেয়ে নগ্ন করে মারধর করেন বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রের বাবা বলেন, সোমবার ছেলেকে মারধরের পর আমাকে ফোন করে স্কুলে ডাকা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে ঘণ্টা দু’য়েক ছেলের বিষয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু টাকা চুরির সন্দেহে ছেলেকে যে মারধর করা হয়েছে ও ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে সেই বিষয়টি বেমালুম চেপে যায়। আমি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চাই। প্রথমে রাজি না হলেও পরে ছেলেকে আমার সামনে আনা হয়। ছেলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। জ্বরে কাতরাচ্ছে। গোটা শরীরে কালসিটে পড়ে গিয়েছিল। ছেলেকে নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করি। তারপর স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি এসডিপিওকে জানাই। তিনি লালগোলা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা করতে বলেন। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য স্কুলের অন্যতম কর্ণধারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজ করা হলেও উত্তর দেননি। লালগোলার বিডিও দেবাশিস মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি একটি বেসরকারি স্কুলে ঘটেছে। তবুও খতিয়ে দেখব।