Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিস্মৃতির অন্তরালে মানকরের স্বাধীনতা সংগ্রামী গিরিজাশঙ্কর, মূর্তি স্থাপনের দাবি

স্বদেশী আন্দোলনে উত্তাল বাংলা। মাথায় স্বদেশী কাপড়ের ভারী বোঝা নিয়ে এক যুবক হাজির হলেন আসানসোলে আত্মীয়ের বাড়িতে, আশ্রয় নেবেন বলে।

বিস্মৃতির অন্তরালে মানকরের স্বাধীনতা সংগ্রামী গিরিজাশঙ্কর, মূর্তি স্থাপনের দাবি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল, মানকর: স্বদেশী আন্দোলনে উত্তাল বাংলা। মাথায় স্বদেশী কাপড়ের ভারী বোঝা নিয়ে এক যুবক হাজির হলেন আসানসোলে আত্মীয়ের বাড়িতে, আশ্রয় নেবেন বলে। আত্মীয় ভয়ে আশ্রয় দিলেন না, যদি তাঁর কোলিয়ারির চাকরি খোয়া যায়। যুবকটি পড়লেন বিড়ম্বনায়। অবশ্য উপস্থিত বুদ্ধির জোরে ছদ্মবেশে সরাইখানায় রাত কাটিয়ে সেই দ্রব্যগুলি পৌঁছে দিলেন নির্দিষ্ট আস্তানায়। অল্প কয়েকদিন পরে পিকেটিং করতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়লেন যুবক, শাস্তি হাজতবাস। যুবকের নাম গিরিজাশঙ্কর ভট্টাচার্য। মানকরের রাইপুরের এই যুবক সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যাচ্ছেন বিপ্লবী। প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকায় তাঁর আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হোক।

Advertisement

গিরিজাশঙ্করের পুত্র সুশান্ত ভট্টাচার্য জানান, মানকর ছিল বিপ্লবীদের আখড়া। মানকরের রংমহলে তাঁরা মিলিত হতেন। বিপ্লবী যাদবেন্দ্র পাঁজা, রাঙাখুলার নিরোদ মিত্র, জিতেন চৌধুরী, রাজকৃষ্ণ দীক্ষিত, অভিরামপুর সহ স্থানীয় জমিদাররা আসতেন বৈঠকে। আলোচনা চলত স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে। স্বদেশী আন্দোলনের গোপন কাজে ডাক পড়ত যুবক গিরিজাশঙ্করের। 
সুশান্তবাবু বলেন, বাবার মুখে শুনেছি বাক্সবন্দি বিভিন্ন জিনিস রাতের অন্ধকারে মাঠের আল বেয়ে নিয়ে যেতে হতো, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হতো। কোনওভাবেই যেন পুলিস বা গুপ্তচর কারও চোখে না পড়ি। তবে পুলিসের নজর বাবার উপর ছিল। অবশেষে পিকেটিং করতে গিয়ে ধরা পড়ে জেলে যান। যদিও পরে তিনি ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বাবার মুখে শুনতাম সেই সময় বিপ্লবীদের কীভাবে অত্যাচার করা হতো। বিপ্লবীদের গোপন কাজ করার জন্য যাতে পুলিসের নজরে না আসে, সেজন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করতে হতো। যে কোনও যুবক এসে যুক্ত হলে তাকে দিয়ে গোপন কাজ করানো হতো না। তবে বাবা খুব অল্প বয়স থেকেই স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর উপর গোপন কাজের ভার পড়ত।  স্বাধীনতা পরবর্তী যুগে গিরিজাশঙ্কর ভট্টাচার্যকে তাম্রপত্র দিয়ে সম্মান জানান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি। পেনশনেরও ব্যবস্থা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীর আর এক পুত্র তাপস ভট্টাচার্য বলেন, বাবার জন্ম ১৩০৮ সালে ১৫ বৈশাখ। মারা যান ১৩৯২ সালে আষাঢ় মাসে। বাবা বেঁচে থাকতে স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন করতেন। বাবা মারা যাওয়ার পরেও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রত্যেক বছর স্বাধীনতা দিবসে ভোরবেলা বাড়ির সবাই একসঙ্গে হাজির হয়ে পতাকা উত্তোলন করি। তাঁর মেয়ে গীতা আচার্য বলেন, বাবার মূর্তি হলে এলাকার মানুষরা ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হবেন। এলাকার বাসিন্দা তথা শিক্ষিকা পারমিতা রজক বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ হওয়া দরকার। বীরত্বের ইতিহাস না হলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাবে।
•-গিরিজাশঙ্কর ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ