সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাছরাঙা কি শুধু মাছ খায়? মোটেও না। ছোট মাছরাঙাদের প্রিয় খাদ্য চিতি কাঁকড়া। এমনকি ছোট সাপও অবলীলায় খেয়ে ফেলে। পোকামাকড়ও খায়। মাছ যে একেবারে খায় না তা নয়। চিংড়ি খায়। মাড স্কিপার বা উভচর মাছও খায়।
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাছরাঙা কি শুধু মাছ খায়? মোটেও না। ছোট মাছরাঙাদের প্রিয় খাদ্য চিতি কাঁকড়া। এমনকি ছোট সাপও অবলীলায় খেয়ে ফেলে। পোকামাকড়ও খায়। মাছ যে একেবারে খায় না তা নয়। চিংড়ি খায়। মাড স্কিপার বা উভচর মাছও খায়।
সম্প্রতি কণ্ঠী মাছরাঙা নিয়ে একটি গবেষণা করেছে জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জেডএসআই)। চারমাস ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। তারপর এই তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। জেডএসআইয়ের সহকারি অধিকর্তা কৌশিক দেউটির নেতৃত্বে গবেষক দেবলীনা বিশ্বাস মাছরাঙাদের নিয়ে গবেষণা করেছেন। দিন কয়েক আগে সে গবেষণা ইতালির ‘রিসার্চ ইন অর্নিথোলজি’ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতে ১২ প্রজাতির মাছরাঙা মূলত পাওয়া যায়। যার মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন অরণ্যেই আছে ৯ প্রকার। এর আগে কণ্ঠী মাছরাঙাদের নিয়ে এরাজ্যে সেভাবে গবেষণা হয়নি। কৌশিকবাবু বলেন, ‘এই পাখি ম্যানগ্রোভ পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়লে এই গবেষণা কাজে আসবে। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়া থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত জীবনচক্রই মূলত তুলে ধরা হয়েছে গবেষণা পত্রে।’ গবেষণায় উঠে এসেছে, ডিম ফুটে মাছরাঙার ছানা বড় হওয়া পর্যন্ত কাঁকড়া, পোকা, সাপ, চিংড়িই মূলত ডায়েট। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরনোর পর বাসা ছেড়ে উড়ে যেতে ৩৩ দিন সময় লাগে পাখিগুলির।
গোসাবায় ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চলেছে পর্যবেক্ষণ। ম্যানগ্রোভ পরিবেশে নদীর জল থেকে প্রায় দেড় ফুট উঁচু একটি গাছে বাসা বেঁধেছিল কণ্ঠী মাছরাঙারা। সেখানে ডিম পাড়ে। তা ফোটার সাতদিন বাদে বাচ্চাদের চোখ ফুটতে শুরু করে। দশ দিন পর শারীরিক গঠন বৃদ্ধি শুরু হয়। ১৪ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে পালক গজায়। আকারে অনেকটাই বড় হয়ে ওঠে ছানাগুলি। ধাপে ধাপে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর তখন বাচ্চাদের খাবার খাওয়ানো শুরু করে মা ও বাবা মাছরাঙা। জঙ্গল, নদী থেকে শিকার করে আনে কাঁকড়া-চিংড়ি ইত্যাদি।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৩৩ দিন বাসায় থাকাকালীন ৭০ শতাংশ সময় সকালের দিকে বাচ্চাদের খাইয়েছে মাছরাঙারা। জোয়ারের সময় খাবার সংগ্রহ করে ওরা। কণ্ঠী মাছরাঙা হল কিংফিসার। ইংরেজি নামটি নানা কারণে অধিক পরিচিত।