সংবাদদাতা, চাঁচল: জমি মাপার ভুয়ো নোটিস পাঠিয়ে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠল মালদহের চাঁচল থানার মল্লিকপাড়া এলাকায়। অভিযোগকারী নুরবানু বিবির অভিযোগ, তাঁর জা নুরেশা খাতুন জমি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভুয়ো নোটিস পাঠিয়েছেন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে। চিঠিটি দেখতে অনেকটা সরকারি অফিসের মতো হলেও তাতে ছিল না দপ্তরের নাম, সিল ও সই। তাঁর দাবি, পরিকল্পনা করেই এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা রয়েছে, নির্ধারিত দিনে জমি মাপা হবে। উপস্থিত না থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ভয় দেখিয়ে আমাদের জমি দখল করতে চাইছে নুরেশা ও তার স্বামী। নুরবানু বলেন, জমি মাফিয়াদের সঙ্গে হাতমিলিয়ে নুরেশা এই চিঠি পাঠিয়েছেন। চাঁচল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পৈতৃক জমি সংক্রান্ত বিবাদটি অনেক দিনের। নৈধা কবিলহাট মৌজায় প্রায় ৩৬ শতক ডাঙা জমি রয়েছে নুরবানুর পরিবারের নামে। ওয়ারিশ সূত্রে সেই জমির মালিকানা তিন ভাই ও দুই বোনের। এক বোনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চারজনের মধ্যে জমি বণ্টনের কথা থাকলেও এক ভাই আমালুদ্দিনের স্ত্রী নুরেশা বেশি জমি দাবি করছেন বলে অভিযোগ। নুরবানুর দাবি, আমরা ভাগ অনুযায়ী জমি নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি বেশি অংশ নিতে চাইছেন। সেই কারণেই মিথ্যে কাগজপত্র তৈরি করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন।
এই একই অভিযোগ করেছেন নুরবানুর আরেক জা ফরিদা বিবিও। তাঁর মন্তব্য, আমাকেও একই রকম ভুয়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেটি দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম সরকারি। কিন্তু ভালো করে দেখে বুঝি নকল। আমরা চাই পৈতৃক জমি সমানভাবে বন্টণ করা হোক। কিন্তু আমালুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মানতে চাননি। জমি দখলের ষড়যন্ত্র করে ভুয়ো চিঠি পাঠাচ্ছেন। চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন,অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নোটিসের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হবে। চিঠিতে কোনও সিল বা সই নেই বলে চাঁচল ১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক অমিত দাস মন্তব্য করতে চাননি।
এবিষয়ে নুরেশা খাতুনের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।