নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে হুকিং ধরে সাড়ে ন’কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে বিদ্যুৎ দপ্তর। প্রায় ৭২০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। বড় দোকান ও বেশকিছু হোটেলে হুকিং করে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছিল। অনেকে মিটার ‘ট্যাম্পারিং’ করে রেখেছিল। বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে বলে বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। আধিকারিকরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দোকান এবং হোটেলগুলিতে অভিযান চালায়। বিদ্যুৎ দপ্তরের বর্ধমানের আরএম গৌতম দত্ত বলেন, বিদ্যুৎ চুরি করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাজুড়ে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বোরোর মরশুমে সাবমার্সিবল থেকে দেদার জল তোলা হয়। অনেক সময় হুকিং করে তা চালানো হয়। সেই কারণে এই সময় বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশে বহু হোটেলে মিটার ট্যাম্পারিং করার অভিযোগ ওঠে। সেই হোটেলগুলিতেও লাগাতার অভিযান চালানো হবে। এক আধিকারিক বলেন, এখন পরিষেবায় ঘাটতি নেই। লোডশেডিং হয় না বললেই চলে। লো-ভোল্টেজও কমে গিয়েছে। উন্নত পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। তাই বিদ্যুত চুরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। আগামী দিনে জেলায় একাধিক নতুন সাবস্টেশন করা হবে। সেটা হলে গ্রীষ্মের মরশুমেও কোথাও লো-ভোল্টেজ হবে না।
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কাউকে কাউকে সাত থেকে আট লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বড় দোকান চালানোর পরও তারা দিনের পর দিন মিটার ‘ট্যাম্পারিং’ করে চলছিল। জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ে না দিলে থানায় এফআইআর করা হবে। বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করতে রাতেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। আগে তার থেকে সরাসরি হুকিং করা হতো। এখন অনেক জায়গায় কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এখন সরাসরি তার থেকে হুকিং করার সুযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছে। সেই কারণে তারা মিটার ট্যাম্পারিং করছে। এই কাজ করার জন্য বেশকিছু দক্ষ ‘মিস্ত্রি’ প্রতিটি এলাকায় রয়েছে। তারা এক থেকে দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে এই কারসাজি করে দিচ্ছে। এখন শহরগুলিতে কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরে প্রতিটি গ্রামে কেবল বসানো হবে। বিদ্যুৎ চুরি কমার পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাও মিটে যাবে। ঝড় দিলে তার ছিঁড়ে অঘটন হয়। মৃত্যুও হয়ে থাকে। কেবলে সেই ঘটনা ঘটবে না।
আর এক আধিকারিক বলেন, আগে গ্রামীণ এলাকায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির মধ্যে হুকিং করার প্রবণতা থাকত। এখন উল্টো হয়ে গিয়েছে। এখন অর্থবানদের একটা অংশ কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি করছে। তবে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিদ্যুৎ দপ্তরও কোমর বেঁধেছে।