Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভূমিধসের ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও রিল বানানোর ভিড় বেলগাছিয়ায়

ভূমিধসের ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও রিল বানানোর ভিড় বেলগাছিয়ায়
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভেঙে টুকরো রাস্তাঘাট। খুঁটি ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। জমিতে চওড়া ফাটল। হেলে গিয়েছে বাড়িঘর। আবর্জনার পাহাড়ে মিথেন গ্যাসের আস্তরণ। মাঝেমধ্যেই আগুন ধরছে। এক ঝলক দেখলে মনে হবে, ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল এলাকা। তারপর বিধ্বংসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো আতঙ্কে। তার মধ্যেই হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড় যেন হয়ে উঠেছে ঘুরতে যাওয়ার জায়গা। ডিজাস্টার ট্যুরিজমের টানে ও ছবি তুলতে দলে দলে মানুষ আসছেন। বিঘ্নিত হচ্ছে নিরাপত্তা। ভিড় সামলাতে নাজেহাল পুলিস। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে ভয়াবহ ভূমিধস নামে। বিপর্যস্ত হয় জল সরবরাহকারী মূল পাইপলাইন। রীতিমতো নির্জলা দশা কুড়িটি ওয়ার্ডের। তা সামাল দিতে হিমশিম প্রশাসন। ভূমিধস পরিস্থিতি ক্রমে আরও সঙ্গিন হয়ে পড়ছে। যত সময় গড়াচ্ছে ফাটল বাড়ছে। ভাগাড়ের প্রায় দেড় বর্গ কিলোমিটার পরিধিজুড়ে ফাটল। তা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় বস্তির বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে লাগাতার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিও সোশ্যাল মিডিয়া প্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ভাগাড়। রবিবার বেলা গড়াতেই দলে দলে মানুষ আসা শুরু। জমাট ভিড় বেলগাছিয়ার ঝিল রোডে। কেউ ছবি তুলছেন। কেউ ভিডিও। রিল বানাতে হুড়োহুড়ি। অতি উৎসাহীরা যাতে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাছাকাছি যেতে না পারেন তার জন্য চোখ রাঙানি পর্যন্ত দিতে হয় পুলিসকে। মোতায়েন করা হয় সিভিক ভলান্টিয়ার।

Advertisement

ভাগাড়ের ভূমিধস কিংবা ভেঙে যাওয়া বাড়িঘরের ছবি তুলতে আসা কয়েকজনের বক্তব্য, ‘টিভি, মোবাইলে দেখলাম পরিস্থিতি খুব খারাপ। নিজের চোখে একবার দেখতে এলাম বুঝলেন।’ কেউ বললেন, ‘মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হয়েছে। কয়েকটি ছবি তুলতে এলাম।’ এরই মধ্যে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জনাকয়েক তরুণী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলেন। সটান পুলিসের কাছে গিয়ে আবদার, ‘ছোট্ট রিল বানিয়ে দু’মিনিটের মধ্যে ফিরে আসব। আটকাবেন না প্লিজ।’ শেষমেশ পুলিসের বকুনি খেয়ে মুখ ভার করে ফিরলেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিস আধিকারিকদের বক্তব্য, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে অনেকে ছবি তুলতে চলে আসছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার নেশায় অনেকেই আজকাল অসংবেদনশীল হয়ে উঠছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ