নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অবশেষে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে সাহস দেখাল বর্ধমান পুরসভা। মঙ্গলবার ঢলদিঘির কাছে একটি বহুতলের উপরের অংশ ভাঙতে শুরু করেছে। বুধবারও ভাঙা চলবে। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, নির্মাণকারী জি-প্লাস ফোরের অনুমতি নিয়েছিল। অথচ তিনি আটতলা বিল্ডিং করেছিলেন। অনুমতি না নেওয়া অংশটি ভেঙে ফেলা হবে। কয়েক দিনের মধ্যে আরও একটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে।
স্থানীয়রা বলেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেক অসাধু প্রমোটারদের বুকে কম্পন ধরে গিয়েছে। শহরে শুধু ওই দু’টি নয়, আরও বহু অবৈধ নির্মাণ তৈরি হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে ৫০টির বেশি অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে নোটিস করা হবে। প্রথমে তাদের নিজেদেরকে সেগুলি ভাঙার জন্য বলা হবে। তারা সেই কাজ না করলে পুরসভা সেগুলি ভাঙবে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েকজন অবৈধ নির্মাণকারীর মাথার উপর প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে। সেগুলি আদৌ পুরসভার ভাঙার সাহস দেখাবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ঢলদিঘির কাছে ওই নির্মাণটি নিয়ে বহুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। মাঝে একবার পুর কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়। তারপরও সেখানে নির্মাণ কাজ চলতে থাকে। পুরসভার সঙ্গে টক্কর নিতে যাওয়ার জন্যই এই পরিণতি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আমরা বহুদিন ধরেই লড়াই করছি। শুধু একটি বা দু’টি অবৈধ নির্মাণ ভাঙলে হবে না, সবগুলির ক্ষেত্রে একই পদক্ষেপ নিতে হবে। শহরের বহু পুকুর ভরাট হয়ে নির্মাণ হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া ঢলদিঘির কাছে ওই বিল্ডিংটির অবৈধ নির্মাণের পুরো অংশ ভাঙা হচ্ছে কি না সেদিকেও লক্ষ্য রাখব। এদিন কয়েকজন হাতুড়ি নিয়ে সেটি ভাঙতে গিয়েছিল। এতবড় বিল্ডিং শুধু হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা যায় না। পুর কর্তৃপক্ষর দাবি, সমস্ত অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এতবড় বিল্ডিং ভাঙা হয়নি। অন্য শহরগুলিতেও এই নজির নেই। অনেক শহরে অবৈধ নির্মাণকারীদের জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তা ভাঙার সাহস দেখানো হয় না। বর্ধমান পুরসভা অনেক বাধা টপকে সেটি ভাঙতে শুরু করেছে বলে আধিকারিকদের দাবি।
পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ওই নির্মাণকারীকে একাধিকবার নোটিস করা হয়েছিল। অবৈধ নির্মাণ তাকেই ভাঙতে বলা হয়েছিল। তিনি সেটা করেননি। সেই কারণে আমরা ভাঙতে শুরু করেছি। আরও একটি অবৈধ নির্মাণ কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে ফেলা হবে। শহরের বাসিন্দারা বলছে, পুর কর্তৃপক্ষ এভাবে ‘দাবাং’ ভূমিকা নিলে অবৈধ নির্মাণে রাশ আসবে। অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ নির্মাণ করার আগে একবার হলেও ভাববে। নিজস্ব চিত্র