নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বিনপুর-১ ব্লকের ‘বনপুকুরিয়া আদিবাসী ল্যাম্পস লিমিটেড’ সমবায় ব্যাঙ্ক তিন মাস ধরে বন্ধ হয়ে থাকায় রামগড়ের ৭ হাজার আদিবাসী গ্ৰাহক চরম সমস্যায় পড়ছেন। আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বনির্ভর দলের মহিলাদের কাজকর্মও বন্ধ। সরকারি সহায়তায় মেলা চাষের সার, বীজ পাওয়াও বন্ধ। জেলার আদিবাসী শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জেলা আদিবাসী অনগ্ৰসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক মনমোহন ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। সমবায় ব্যাংকে গত বছর জুন মাস থেকে ম্যানেজার নেই। ডিসেম্বর মাসের পর থেকে ব্যাংকের কাজকর্ম পুরো বন্ধ হয়ে যায়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আদিবাসী মহিলারা সমবায় ব্যাংকটির উপর নির্ভরশীল ছিলেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শালপাতা দিয়ে খাবারের ডিশ, হস্তশিল্প, জৈব সার, গাছের চারা তৈরির কাজ করতেন। ঘরে থেকেই রোজগার বাড়ছিল। আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাদের কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মহিলাদের অনেকেই দিনমজুরের কাজে ফিরছেন। এলাকার কৃষকরা সমবায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষবাসের কাজ করতেন। চাষের কাজে তাদের এখন চড়া সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।
গ্ৰাহকদের অনেকেই তালাবন্ধ সমবায় ব্যাংকে গিয়ে অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তাঁরা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের কোন দপ্তরে গিয়ে সমস্যার কথা জানাতে হবে তা তাঁরা জানেন না। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য অঞ্জনা চালক বলেন, আমাদের গ্ৰুপে পাঁচজন আদিবাসী ও সাতজন জেনারেল মহিলা আছেন। এলাকার আদিবাসী মহিলাদের ১৫০টি স্বনির্ভর দল রয়েছে। সমবায় ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গোষ্ঠীর সব কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মহিলারা আবার দিন মজুরের কাজে ফিরে যাচ্ছেন। রামগড়ের বাঁকশোলের বাসিন্দা গ্ৰাহক মান সিং হেমব্রম বলেন, আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছি। অসময়ে ঋণ পাওয়া থেকে শোধ করা এখানেই করতাম। এলাকা থেকে দূরের ব্যাংকে যেতে হচ্ছে। গ্ৰাহক ভগবান হেমব্রম বলেন, গতবছর জুন মাসের পর থেকে ব্যাংকে নতুন করে ম্যানেজার নিয়োগ হয়নি। তখন থেকেই ডামাডোল চলছে। মকরের সময় ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে উৎসবও ভালোভাবে করতে পারিনি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজু হাঁসদা বলেন, ঝাড়গ্রাম জেলা অনগ্ৰসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে সমবায় ব্যাংকটি রয়েছে। গ্ৰাহকদের অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্থানীয় চাষিরা সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন। রাজ্য সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য অনেক কাজ করছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। দরামগড় গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষ্মীরানি বাগ বলেন, পঞ্চায়েতের কাছে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।