নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যেখান দিয়ে মিছিল গেল শুধু সেই রাস্তার ক্রসিংয়ে বন্ধ করা হল যান চলাচল। মিছিল চলে গেলেই ফের চালু করে দেওয়া হল ক্রসিং। বুধবার এভাবে শহর যানজট মুক্ত রাখল পুলিস।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যেখান দিয়ে মিছিল গেল শুধু সেই রাস্তার ক্রসিংয়ে বন্ধ করা হল যান চলাচল। মিছিল চলে গেলেই ফের চালু করে দেওয়া হল ক্রসিং। বুধবার এভাবে শহর যানজট মুক্ত রাখল পুলিস।
এ কৌশল অনেকটা স্লুইস গেট খোলা-বন্ধের মতো। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পেলে জল ঢোকা ঠেকাতে সাময়িকভাবে স্লুইস গেট বন্ধ করে দেয় কলকাতা পুরসভা। মধ্য কলকাতায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রার সময় রাজপথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে সেই টেকনিকই কাজে লাগাল লালবাজার। এ কৌশল কাজে দিল। কলেজ স্ট্রিট থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত বিরাট মিছিল হয়েছে বুধবার। সঙ্গে হয়েছে বৃষ্টি। তা সত্ত্বেও মিছিলের জেরে তেমন যানজটের ঝক্কি পোহাতে হয়নি মানুষকে।
বুধবার দুপুর একটায় কলেজ স্কোয়ারের সামনে জমায়েত শুরু হয় তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের। তার আধ ঘণ্টা আগে নিরাপত্তা বিষয় ও রাস্তার হাল হকিকত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে নেন পুলিস কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা। তারপর ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। দুপুর পৌনে দু’টো নাগাদ মিছিলের উৎসস্থলে পৌঁছন তৃণমূলনেত্রী। এরপর বন্ধ করা হয় শিয়ালদহ থেকে মহাত্মা গান্ধী রোড-সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তা। সে সময় হাওড়াগামী যানবাহন গিরিশ পার্ক মোড় দিয়ে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ধর্মতলাগামী যান মৌলালি হয়ে এসএন ব্যানার্জি রোড হয়ে এগয়।
একটা বেজে ৫৩ মিনিটে মিছিল শুরু হয়। তখন বন্ধ করা হয় নির্মলচন্দ্র দে স্ট্রিট ও বউবাজার ক্রসিং। পদযাত্রার অগ্রভাগ সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে পৌঁছয় দু’টো ১৫ মিনিটে। মিছিলের পিছনের অংশ তখন মেডিক্যাল কলেজ পেরচ্ছে। সে সময় মহাত্মা গান্ধী রোড, মৌলানা সওকত আলি স্ট্রিট খুলে দেয় পুলিস। লেনিন সরণি ক্রসিংয়ে পৌঁছে আচমকা দাঁড়িয়ে পড়েন মমতা। পুলিসকে কিছু নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, রুট বদল করতে চান। আগে ঠিক ছিল এসএন ব্যানার্জি রোড থেকে ধর্মতলা মোড়ে পৌঁছে বাঁদিকে সভামঞ্চে উঠবেন। শেষমুহূর্তে প্ল্যান বদলে লেনিন সরণি দিয়ে টিপু সুলতান মসজিদ হয়ে ধর্মতলা মোড়ে পৌঁছবেন ঠিক হয়। তখন দ্রুত পরিকল্পনায় বদল এনে লেনিন সরণি বন্ধ করে দেয় পুলিস। মিছিল লেনিন সরণি দিয়ে এগতে শুরু করলে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার-গণেশ অ্যাভিনিউ ক্রসিংয়ে যান চলাচল হয়ে যায় স্বাভাবিক। ফলে জ্যাম মুক্ত হয় সে অংশ। বিরাট পদযাত্রা ধর্মতলা মোড়ে পৌঁছলে সাময়িকভাবে চারমুখী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর তৃণমূলনেত্রী বক্তব্য শুরু করার পর পার্ক স্ট্রিট থেকে উত্তরমুখী যান চলাচল শুরু করে দেয় পুলিস।
এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, ধর্মতলায় ২১ জুলাই সভা নিয়ে মামলা হয়েছে হাইকোর্টে। বাম আইনজীবী সংগঠন মামলা করেছে। তাদের বক্তব্য, শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিক পুলিস। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মিছিল ও জমায়েত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করা এবং জনজীবনের স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করতে প্রাক-পরিকল্পনা করা হোক। মামলায় পুলিসের প্রতি সরাসরি আবেদন, যাতে- প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট প্ল্যান প্রস্তুত থাকে। অফিসযাত্রী, রোগী পরিবহণ ও জরুরি পরিষেবায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে। সভার দিন সিসিটিভি ও নজরদারির মাধ্যমে সবদিক যেন নজরে রাখা হয়। আইনজীবীদের মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার মানে অন্যের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত করা নয়।