Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

মালিক হওয়া সহজ নয়

কলিযুগে বাঁচতে গেলে টাকা লাগে। এই সহজ কথা সহজে মাথায় গেঁথে গেলেই বিপত্তি। তাহলেই প্রয়োজন পড়ে শর্টকাটের। সাধ জাগে মালিক হওয়ার।

মালিক হওয়া সহজ নয়
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলিযুগে বাঁচতে গেলে টাকা লাগে। এই সহজ কথা সহজে মাথায় গেঁথে গেলেই বিপত্তি। তাহলেই প্রয়োজন পড়ে শর্টকাটের। সাধ জাগে মালিক হওয়ার। নিজের, পরিবারের, পাড়া-প্রতিবেশীর... সকলের। আর এই মালিক হওয়ার লড়াইয়ে বারবার ফিরে আসে অপরাধ, রক্তপাত, হিংসা, বিশ্বাসঘাতকতা। এরাই গল্পের মূল চরিত্র। ‘মালিক’ ছবিরও। 
পর্দায় গোলাগুলি, রক্তপাত দেখতে দেখতে দর্শক ক্লান্ত হয়ে পড়েন না? পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধ, অস্থিরতার আবহে এই প্রশ্ন স্বাভাবিক। উত্তরটা হল, দক্ষ অভিনেতার কাঁধে দায়িত্ব থাকলে, খুনও উপভোগ্য হয়। ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’, ‘সত্যা’, ‘রইস’ বা ‘মির্জাপুর’— এর মতো গ্যাংস্টার অ্যাকশন ড্রামা তার প্রমাণ। পুলকিতের এই ছবির ইউএসপি হলেন রাজকুমার রাও। ‘বরেলি কি বরফি’ বা ‘স্ত্রী’-এর মতো ছবিতে পাশের বাড়ির ভালো ছেলের চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার যে মেশিন গান নিয়ে অ্যাকশন করতে পারেন, তা অনেকেই কল্পনা করতে পারবেন না। পরিচালক পুলকিত পেরেছেন। সেই ভরসার মর্যাদা রেখেছেন অভিনেতা। তবে দাবানলের জন্য যেমন একটা স্ফুলিঙ্গের প্রয়োজন, তেমনই রাজকুমারের জন্য ভালো চিত্রনাট্যের প্রয়োজন ছিল। তার অভাব রয়ে গেল।
সময়কাল ১৯৮৮-১৯৯০। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দীপক (রাজকুমার) বেপরোয়া হয়ে ওঠে ‘মালিক’ হওয়ার জন্য। তার আত্মবিশ্বাস, ‘মালিক হয়ে জন্মাইনি তো কী হয়েছে, মালিক হতে তো পারি।’ শুরু হয় দীপকের গ্যাংস্টার দুনিয়ার জার্নি। কীভাবে? সেই ব্যাখ্যা ছবিতে পাওয়া যায় না। স্ত্রী শালিনীর (মানুষী চিল্লার) সঙ্গে দীপকের রসায়নও খাপছাড়া। তবে ‘আলফা মেল’ নামক মরূভূমির দুনিয়ায় দীপকের মতো চরিত্র একটুকরো মরুদ্যান। সে স্ত্রীর সামনে নির্দ্বিধায় চোখের জল ফেলতে পারে। ছেলেমানুষের মতো লাফালাফি করতে পারে। হোমমেকারের কথায় আত্মসমর্পণ করতেও পিছপা হয় না। এগুলি ছাড়া বাকি গল্প পুরনো গ্যাংস্টার ছবির পুনরাবৃত্তি। মালিক হয়ে ওঠার পর দীপকের সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় বিধায়ক (সানন্দ কিরকিরে), মেন্টর শঙ্কর সিং (সৌরভ শুক্ল), প্রতিপক্ষ চন্দ্রশেখরের (সৌরভ সচদেবা) সঙ্গে। এদের সঙ্গে হাত মেলায় এসপি প্রভু দাস (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)। প্রত্যেকের পরিমিত অভিনয় দেখতে ভালো লাগে। রাজকুমারের সঙ্গে প্রসেনজিতের দ্বৈরথ এ ছবির সম্পদ। পুলিসের চরিত্রে প্রসেনজিৎ আগেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখানেও অন্যথা হয়নি। অনুজ রাকেশ ধাওয়ানের সিনেমাটোগ্রাফি, কেতন সোধার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছবিকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। তবে হুমা কুরেশির আইটেম গানটি না থাকলে ছবির কী ক্ষতি হতো, বোঝা দায়! বাংলার সংস্কৃতি নিয়েও নির্মাতাদের আরও গবেষণার প্রয়োজন ছিল। দুর্গাপুজোর বিসর্জনে সিঁদুর খেলা দেখে অভ্যস্ত বাঙালি। সেখানে গেরুয়া আবির ব্যবহার হয় কি?
সামাজিক প্রেক্ষাপটে বা কমেডির মোড়কে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রাজকুমার। ‘মালিক’ তাঁর জন্য নতুন সুযোগ। ভবিষ্যতে তাঁকে ফের অ্যাকশন অবতারে দেখার ইচ্ছে রইল। অবশ্যই ভালো চিত্রনাট্যে। 

Advertisement


শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ