Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জমি-বাড়ির দালালির আড়ালে অস্ত্রের কারবার, নোনাডাঙায় ধৃত ভুয়ো দম্পতি

আজিজ মোল্লার বাড়ি হুগলির পাণ্ডুয়ায়। তাঁর মহিলা সঙ্গী ময়না মাঝির বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে। জমি-বাড়ির দালালি করতে গিয়ে তাদের পরিচয়।

জমি-বাড়ির দালালির আড়ালে অস্ত্রের কারবার, নোনাডাঙায় ধৃত ভুয়ো দম্পতি
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজিজ মোল্লার বাড়ি হুগলির পাণ্ডুয়ায়। তাঁর মহিলা সঙ্গী ময়না মাঝির বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে। জমি-বাড়ির দালালি করতে গিয়ে তাদের পরিচয়। সেই সূত্রেই তাদের আলাপ হয় এক বেআইনি অস্ত্র কারবারির সঙ্গে। তার হাত ধরেই আজিজ ও ময়না নেমে পড়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসায়। গ্রামের লোকজন তাদের জমি-বাড়ির দালাল হিসেবে জানলেও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের সময় তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দিত। দম্পতি পরিচয়ে তারা বিহার থেকে নাইন এমএম বা সেভেন এমএম পিস্তল এনে সরবরাহ করত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রবিবার দুপুরে কলকাতার নোনাডাঙায় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে এসে এসটিএফের হাতে ধরা পড়ে যায় তারা। দু’জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র। সেগুলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক আর্মস ডিলারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

এসটিএফের কাছে খবর ছিল, স্বামী-স্ত্রী সেজে দু’জন বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কলকাতায় আসছে। তাদের পিঠের ব্যাগে থাকছে আগ্নেয়াস্ত্র। জেনারেল কামরায় যাতায়াত তরছে। স্টেশনে নামার পর ভিড়ে মিশে যাচ্ছে তারা। এরপর বাস বা ট্যাক্সি ধরে অস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছে নির্দিষ্ট ডেরায়। জাল বিছিয়ে ফেলে এসটিএফ। জানা যায়, ওই দু’জন রবিবার আনন্দপুর থানা এলাকার নোনাডাঙায় আগ্নেয়াস্ত্র দিতে আসবে। সেই মতো সেখানে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। ভুয়ো দম্পতি এদিন দুপুরে সেখানে পৌঁছনো মাত্র পাকড়াও করা হয় তাদের। আজিজের ব্যাগ তল্লাশি করে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এর মধ্যে চারটি সেভেন এম এম পিস্তল। তার স্ত্রী সেজে থাকা ময়নার কাছ থেকে পাওয়া যায় একটি অস্ত্র।  
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তারা বহুদিন  ধরেই এই কাজ করছে। প্রথমে তারা দেশি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করত। সেই সূত্রে তাদের সঙ্গে বিহারের এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর পরিচয়  হয়। ওই কারবারি তাদের সেভেন এম এম এবং নাইন এম এম বিহার থেকে নিয়ে গিয়ে কলকাতায় বিক্রি করতে বলে। সেই মতো তারা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা আর্মস ডিলারদের আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে শুরু করে। ১৫ থেকে ২০ হাজারে এক-একটি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা হতো। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ‘অর্ডার’ যেত তাদের কাছে। নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে তারা অস্ত্র সরবরাহ করত। আজিজ জেরায় জানায়, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাগ সাধারণত ময়নার কাছেই থাকত। পুলিসের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যই দু’জনে প্রকাশ্যে স্বামী-স্ত্রী’র মতো আচরণ করত। এমনভাবে থাকত, যাতে কারও কোনও সন্দেহ না হয়। কলকাতায় কাদের কাছে তারা আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করেছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা চলছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ