সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: প্রচারের ঢক্কানিনাদ আছে খুব। কিন্তু বাস্তব বলছে ভিন্ন। তাও আবার খোদ সরকারি রিপোর্টেই। ছয় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য গত পাঁচ বছরে ৬৪ লক্ষ নাগরিককে বিনামূল্যের রেশন থেকে বঞ্চিত করছে। ‘কোটা’ থাকা সত্ত্বেও ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’য় খোদ মোদি রাজ্য গুজরাতেই রেশনের চাল-গম পাচ্ছে না ১৬ লক্ষ ৭০ হাজার নাগরিক। অথচ ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে’র অধিকারে তাদের গণবণ্টন ব্যবস্থায় রেশন পাওয়ার কথা। একই হাল আর এক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। এখানে ২১ লক্ষ ৮৯ হাজার গরিব মানুষ সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত।
অসম, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর এবং রাজ্যস্থানেও বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার যোগ্য কয়েক লক্ষ গরিব। অথচ সেই সুযোগই দিচ্ছে না ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য। অথচ পাঁচ বছর আগেও গরিবরা রেশন পেতেন। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে ডাবল ইঞ্জিন ছয় রাজ্য। অসমে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার গ্রাহক। মধ্যপ্রদেশে ১১ লক্ষ ৬৩ হাজার। মণিপুরে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার। রাজস্থানে বঞ্চিত ৬ লক্ষ ৬২ হাজার নাগরিক।
সেই হিসাবে গত পাঁচ বছরে গ্রাহক সংখ্যা অটুট পশ্চিমবঙ্গে। কেন্দ্রের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধিকারে বাংলার ৬ কোটি ১ লক্ষ ৮৪ হাজার মানুষ চাল-গম পাচ্ছেন। বাকি বাসিন্দাদেরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘সকলের জন্য খাদ্য’ মডেলে রাজ্যের খাদ্যসাথী প্রকল্পে রেশন দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে আর কেন্দ্রীয় কোটা বৃদ্ধির কোনও জায়গা নেই। তাই রাজ্যের ভাঁড়ার থেকেই রেশন দেওয়া হয়। গোটা দেশেই এই ‘মমতা মডেল’ অনুসরণের অনুরোধ করে কেন্দ্রকে আদতে রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে সারা ভারতের রেশন দোকানদারদের সংগঠন।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দলবল নিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও সম্প্রতি সংসদে এ ব্যাপারে প্রশ্ন রেখেছিলেন। কিন্তু সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্র কমিশন বাড়াবে না। বাড়াতে হলে রাজ্য বাড়াক।