শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: গরম পড়তে শুরু করেছে। ক’দিন পর থেকে বাইরে বেরলেই ঘেমেনেয়ে একসা হতে হবে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে বোতলবন্দি জলের বিক্রি। বাসে, ট্রেনে, রাস্তাঘাটে ১০ টাকা ধরিয়ে দিলেই মিলে যায় একটি সিলপ্যাক করা ছোট জলের বোতল। এক-এক এলাকায় পাওয়া যায় আলাদা আলাদা ‘ব্র্যান্ড’-এর পানীয় জল। যত্রতত্র জল কিনে গলায় ঢেলে নিলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। কিন্তু তার সিংহভাগই যে একেবারে নিরাপদ নয়, সরকারি তথ্য থেকেই তা স্পষ্ট। উত্তর ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলায় মাত্র ৬৬টি ক্ষেত্রে বোতলবন্দি পানীয় জলের ব্যবসার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, এই জেলায় এরকম জলের কারখানার সংখ্যা প্রায় ১৫০০! অর্থাৎ, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যে বোতলবন্দি জল পান করছে, তার বেশিরভাগই অনুমোদনহীন এসব কারখানা থেকে আসছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পানীয় জলের একটি কারখানা তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই এত খরচ করে সমস্ত বিধি মানা হচ্ছে। কারও শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স আছে, কারও তাও নেই। কেউ কেউ খাবার বিক্রির লাইসেন্স ব্যবহার করে পানীয় জলের ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন। এসব ক্ষেত্রে পাম্প বসিয়ে মাটির নীচ থেকে জল তোলা হচ্ছে। নামমাত্র ‘ফিল্টার’ করে পরিস্রুত জল বলে বিক্রি চলছে দেদার। ১৫ টাকায় কেনা জল বাড়িতে জারে করে পৌঁছচ্ছে ৪০ টাকায়।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অংশ আর্সেনিক প্রবণ। নলকূপ থাকলেও সেখান থেকে পানের উপযোগী জল ওঠে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে জল কিনতে হয় মানুষকে। অসাধু ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে। দপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে, পানীয় জলের কারখানা তৈরি করতে গেলে প্রথমে ভূগর্ভস্থ জল তোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। জলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য একজন কেমিস্ট নিয়োগ করতে হয়। এফএসএসআইয়ের দেওয়া শংসাপত্রও জরুরি। আইএসআই লোগো ব্যবহার বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র শিল্প অধিকরণ দপ্তরের লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। পাড়ায় পাড়ায় যেসব প্লান্ট, তার সিংহভাগ ক্ষেত্রেই এসবের কোনও বালাই নেই। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৬৬টি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্লান্টের মধ্যে ৪৯টির লাইসেন্স আছে। ১৭টির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
বারাসত শহরের এমন একটি কারখানার মালিক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স তো আছে। চা ও ফাস্ট ফুডের দোকান চালানোর পাশাপাশি মানুষের বাড়িতে জল পৌঁছে দিই। এর জন্য এত নিয়ম, জানা ছিল না।’ মধ্যমগ্রামের চণ্ডীগড়ির ব্যবসায়ী সৌমেন মিস্ত্রিও একই কথা বললেন। এনিয়ে জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এক কর্তা বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা হয়।’