Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছন্দে সামশেরগঞ্জ, খুলে গেল দোকান-বাজার

ছন্দে সামশেরগঞ্জ, খুলে গেল দোকান-বাজার
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মঙ্গলবার ছিল বাংলা নববর্ষের শুরু।  অশান্তির ক্ষত ভুলে সবকিছু আবার নতুনভাবে শুরু করতে উঠেপড়ে লেগেছেন সামশেরগঞ্জবাসী। ফলে, নববর্ষের নতুন সূর্য আশা-প্রত্যাশা জাগিয়েছে দোকানদার, ব্যবসায়ীদের মনে। খুলেছে দোকানপাট। বসেছে বাজারহাট। চায়ের ঠেকও জমছে পাড়ার মোড়ে কিংবা রাস্তার ধারে। নববর্ষে হরেক মিষ্টি পসার সাজিয়ে ভাঙাচোরা দোকানেই বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের লাইন দোকানে দোকানে। কান পাতলেই সর্বত্র শোনা যাচ্ছে, সৌভাতৃত্বের আহ্বান। সম্প্রীতি বজায় রাখার আবদার। স্বয়ং তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান স্পর্শকাতর এলাকায় মাইক হাতে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন।  সবমিলিয়ে, নববর্ষে চেনা ছন্দে গোটা সামশেরগঞ্জ। 

Advertisement

শুক্রবার ও শনিবারের তাণ্ডবে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান শহর। বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকানগুলিতে লাগামহীন হামলা চলেছে। ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ—কোনওকিছুই বাদ যায়নি। মুহূর্তেই সটান শুয়ে পড়ে প্রায় গোটা শহর। প্রতিটি দোকানের কোনওকিছুই আর আস্ত ছিল না। কাচের শোকেস, উনুন, এসি, ফ্রিজ থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিল, সবই তছনছ করে দেওয়া হয়। সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নববর্ষে নবরূপে নানা প্রকারের মিষ্টি সাজিয়ে দোকানে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বছরের প্রথম দিন মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে থাকে। ব্যবসাও হয় বেশ ভালোই। এদিন সেই প্রত্যাশায় অশান্তি কোনও প্রভাব ফেলেনি। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে অতিরিক্ত যুবকদেরকেও ডেকে আনেন অনেক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকলে রুজি-রুটিতে টান পড়বে। সেটা অশান্তি ছড়ানোর মূল চক্রীরা না বুঝলেও বুঝতে পারছেন স্থানীয় সকলেই। তাই, পুলিসের উপর অগাধ  ভরসা রেখেই দোকানপাটে মন দিয়েছেন সকল ব্যবসায়ী। 
এদিন সাত সকালে ধুলিয়ানের একটি মিষ্টির দোকানে ট্রেতে মিষ্টি সাজাচ্ছিলেন এক যুবক। চোখে-মুখে আতঙ্কের কোনও ছাপ নেই। তিনি বলছিলেন, ‘দোকানের শোকেস ভেঙে তছনছ করে দিয়েছিল। মিষ্টি রাখার ট্রেগুলি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ওই তাণ্ডবের দৃশ্য দেখে দু’দিন নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ী। ক্ষতি হলেও সামলে উঠতে হবে। না হতে তো পেট চলবে না। নববর্ষে অনেক অর্ডার ছিল। সেসব কিছুই তৈরি করতে পারেনি। আজ অন্তত মানুষজন দোকানে এলে যাতে খালি হাতে না ফেরেন, সেজন্য দোকান খুললাম।’
ধুলিয়ান ঘোষপাড়ার দীর্ঘদিনের মিষ্টি ব্যবসায়ী হুমায়ুন মোমিন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি সেদিন দুপুরে দোকানে ছিলাম না। সংঘর্ষের খবর পেয়ে  তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করতে বলি। ওরা দোকান বন্ধ রেখে কোনওরকমে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যায় দোকানে ভাঙচুর চালায়। গত কুড়ি বছর ধরে আমি এখানে ব্যবসা করছি। এমন কখনও হয়নি। ওসব ভুলে নতুন করে আবার শুরু করেছি। ধারদেনা করে ব্যবসা করতে হবে। তাতে ক্ষতি নেই। তবে, আমি শুধু চাই, আমাদের ভালবাসার শহর ধুলিয়ান আগের অবস্থাতেই ফিরে আসুক। কোনও কুচক্রী এখানে যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে।  সম্প্রীতি বজায় থাকুক সর্বত্র। আমার দোকানে বারো জন কাজ করেন।  তাঁদের মধ্যে ১১ জনই হিন্দু। আমরা ভেদাভেদ বুঝি না। একই বৃন্তে দু’টি কুসুম বুঝি।’ 
দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকারও দিন প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দোকানপাট খুলেছে।’ রাজ্য পুলিস, বিএসএফ, সিআরপিএফ টহল দিচ্ছে। রুট মার্চ চলছে।’ এদিকে মাইক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাংসদ খলিলুর সাহেব। তিনি বলছিলেন, ‘একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গিয়েছে। পুলিস প্রশাসন ও আমরা সবাই মিলে রুখে দিয়েছি। এবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে আমাদের। আজ নববর্ষ। সবকিছু ভুলে সবাইকে ছন্দে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি। দোকানপাট খুলছে। মানুষজন পথেও নামছে। সৌভাতৃত্বের শক্তিতে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সামশেরগঞ্জ। বিনাশ হবে অশুভ শক্তির।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ