কলকাতা

গরমের আরাম তালপাতার পাখা কেউ আর কেনে না, বাজার প্লাস্টিকের কব্জায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একটা সময় ছিল যখন গরমকালে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র তালপাতার হাত পাখা দেখা যেত ঘরে ঘরে। লোডশেডিং হলে উঠোনে বা বারান্দায় বসে মানুষ হাত পাখার বাতাস করতেন। সময়ের সঙ্গে সেই ছবিও বদলেছে। এখন সেই তালপাতার পাখা সেভাবে দেখা যায় না। কারণ প্লাস্টিকের পাখার জন্য কেউ তালপাতার পাখা কেনেই না। ফলে এই শিল্প এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। আগে বহু গ্রামে পাখা তৈরি হতো। এখন সেখানকার কারিগররা চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। হাতে গোনা কয়েকজন রয়ে গিয়েছেন। তাঁরা এখনও তালপাতার পাখা তৈরি করেন। প্রস্তুতকারকদের বক্তব্য, বেশিদিন আর নয়। পাখা তৈরির শিল্প আর থাকবে না। প্লাস্টিকের পাখা যেভাবে বাজারে ছেয়ে গিয়েছে তাতে আর তালপাতার পাখার দিকে কেউ তাকায় না। কেনার চাহিদা নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম এই কাজে যোগ দেওয়ার আগ্রহ হারিয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের দেউলার নাজদা গ্রামে এক সময় রমরমিয়ে চলত তালপাতার পাখা তৈরির কাজ। ৩০টির মতো পরিবার যুক্ত ছিল। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পাতা কেটে রোদে ফেলে শুকিয়ে বান্ডিল করে জড়ো করে রাখতেন কারিগররা। তারপর অর্ডার অনুযায়ী পাতা জলে ভিজিয়ে আরও এক দফা শুকিয়ে পাখা তৈরি করতেন। সে কাজ একসময় রমরম করে চলত। কিন্তু এখন এই গ্রামে কমতে কমতে পরিবারের সংখ্যা মাত্র পাঁচটিতে এসে ঠেকেছে। চাহিদা না থাকায় পাখা তৈরির সংখ্যা গিয়েছে কমে। ইব্রাহিম আলি নামে এক কারিগর বলেন, ‘প্লাস্টিকের পাখা সস্তা। ২০ টাকায় তিনটে পেয়ে যান ক্রেতারা। কিন্তু একটা তালপাতার পাখার দাম ২৫ টাকা। তাই এখন আর কেউ কিনতে চায় না। কলকাতা বা গ্রামে দিনে মাত্র কয়েকটি বিক্রি হয়।’
নাজদার মতো একই হাল জয়নগর দু’নম্বর ব্লকের চণ্ডীপুর গ্রামেরও। এখানেও  দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি পরিবার হাত পাখা বানাতেন। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা কমে যাওয়ায় কারিগরদের কেউ অন্য কাজ নিয়ে চলে গিয়েছেন ভিন রাজ্যে। কেউ গ্রামে থেকেই অন্য পেশায় যোগ দিয়েছেন। তবে এখনও গুটিকয় মানুষ আজও এই শিল্পকে টিঁকিয়ে রেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পাখা বানিয়ে লাভের লাভ কিছু হচ্ছে না। খাটনি বেড়েছে কিন্তু মজুরি কমেছে। শুধু এই কাজ করে সংসার চলবে না। তাই অনেকে পেশা বদল করে ফেলেছেন। কেউ আবার পাখা তৈরির পাশাপাশি অন্য কাজও করছেন।
গায়ে খাঁজকাটা, ঢেউ খেলানো নকশাদার তালপাতার পাখা হাতে ছবি তুলতেন এককালের মহিলারা। বাচ্চারা বলত, পাখার থেকে মিষ্টি গন্ধ বেরয়। বাঙালির বহু জিনিসের মতো সে পাখাও চলে যাচ্ছে অন্তরালে। এরপর হয়ত অ্যান্টিক হয়ে শোভা পাবে কোনও কিউরিও শপে-এক প্রবীণ আক্ষেপ করে বললেন।  নিজস্ব চিত্র
1Month ago
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

চল্লিশের ঊর্ধ্ব বয়সিরা সতর্ক হন, রোগ বৃদ্ধি হতে পারে। অর্থ ও কর্ম যোগ শুভ। পরিশ্রম...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.১৭ টাকা৮৪.২৬ টাকা
পাউন্ড১০৬.৯৩ টাকা১০৯.৬০ টাকা
ইউরো৯০.০০ টাকা৯২.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা