কলকাতা

‘মমতা ম্যামকে কানে কানে বলব কথাটা’, মালা হাতে অপেক্ষা পঞ্চমের ছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লাল ফ্রক পরে বিধান সরণির কাছে সেই কতক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে অদ্রিজা। হাতে ধরে রেখেছে একখানা রজনীগন্ধার মালা। ‘ম্যাম’কে মালাটি দেবেই দেবে সে। ওর বাড়ির লোক পাশে দাঁড়িয়ে। তাঁরা বললেন, ‘দাঁড়িয়ে থাক। কপাল ভালো থাকলে দিদি ঠিক দেখবেন। চিন্তা করিস না।’ সামনে দাঁড়িয়েছিল পুলিস। তারা বলল, ‘এত পুলিসের মধ্যে কি নিরাপত্তারক্ষীরা দেখতে পাবেন?’ বাচ্চাটির মুখটা একটু শুকিয়ে গেল। 
হঠাৎ হইহই শুনে বোঝা গেল জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেঁটে আসছেন। কপাল সত্যি ভালো অদ্রিজার। মমতা তাকে দেখলেন। এবং স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এগিয়েও এলেন। মুখে সে মন ভোলানো হাসি। হেসে বললেন, ‘এটা আমি নিয়ে কী করব! তুমিই বরং রাখো।’ অদ্রিজা পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন ম্যামকে। তারপর হাঁ হয়ে গেল। চোখে স্বপ্নের মতো ঘোর। তারপর মালাটা বুকে আঁকড়ে বাড়ির রাস্তা ধরল যখন তখনও তাঁর শিশুচোখে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার ঘোর।
শ্যামবাজার থেকে সিমলায় স্বামীজির বাড়ি পর্যন্ত বুধবার পদযাত্রা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যাত্রা পথের দু’পাশে অগণিত মানুষের ভিড়। কেউ মালা ছুড়ে দিচ্ছেন তাঁকে। কেউ এগিয়ে আসছেন একবার ছুঁয়ে দেখতে। কেউ তৃণমূলের পতাকা নিয়ে দৌড়চ্ছেন। আর তৃণমূল নেত্রী এগিয়ে চলেছেন। সোজা, যেভাবে জোরে হাঁটেন তিনি সেভাবে। চারপাশজুড়ে মানুষের হাতে প্রিয় দিদির কাটআউট। এগিয়ে এলেন এক বৃদ্ধা। এসেছেন জননেত্রীকে অভিবাদন জানাতে। মমতা দেখলেন তাঁকে। তারপর একটি উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে দিলেন। আপ্লুত বৃদ্ধা। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ তখন বলছেন, এই জন্যই তিনি জননেত্রী। আট থেকে আশি, সকলেরই ভরসা মমতা। এই ফাঁকে এক ব্যক্তি বললেন, গতকাল এখান দিয়েই তো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গিয়েছিলেন। তাঁর তো মাটিতে পা-ই পড়েনি। মমতা হচ্ছেন মাটির মানুষ। মোদির জন্য দোকানপাট সব বন্ধ রাখতে হয়েছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন।
ঘড়ি ধরে এদিন পদযাত্রা শুরু করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, ফিরহাদ হাকিম, ইন্দ্রনীল সেন প্রমুখ। মমতার পদযাত্রার পিছনে হুডখোলা জিপে ছিলেন কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তিতে ফুল দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় লোক দেখাতে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করতে শ্যামবাজার আসতে পারেন। তাঁর জন্মদিন ২৩ জানুয়ারিতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা তো হয়নি। আমরা ঘোষণা করে দিয়েছি। তাঁর অন্তর্ধান রহস্য আজও সমাধান হল না। আমি সব ফাইল ছেড়ে দিয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকার কিছু করেনি। আমি প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম।’ এরপর নেতাজির মূর্তির দিকে ঘুরে স্যালুট করেন তিনি। মিছিল এগয় স্বামীজির বাড়ির দিকে। মিছিল শেষে স্বামীজির বাড়িতে মূর্তিতে ফুল দেন তৃণমূল নেত্রী। তারপর কুণাল ঘোষ ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গাড়িতে বসে কিছু আলোচনা করেন। 
ছোট্ট অদ্রিজা মালাটা তখনও আঁকড়ে ধরে। সে বাড়ি ফিরছে। উত্তরপাড়ার ভিশন ইনস্টিটিউট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বাগবাজারে মামারবাড়ি এসেছে। খুব ছোট থেকেই মমতার ভক্ত। বলল, ‘মমতা ম্যামের কথা শুনতে খুব ভালো লাগে।’ ওর বাড়ির লোক বললেন, ‘টিভিতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোতে দিদিকে দেখতে পায়নি বলে, সে কি কান্না।’ অদ্রিজার সঙ্গে জননেত্রীর আবার দেখা হলে ও একটা কথা বলবে। ‘কী বলবে?’ ও বলে ‘ওটা সিক্রেট। কানে কানে বলব।’ তারপর হাতে মালা দোলাতে দোলাতে চলল অদ্রিজা। আজ মনে হয় ওর চেয়ে সুখী এ পৃথিবীতে আর কেউ নেই।
21d ago
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

উচ্চশিক্ষায় নামী স্বদেশি/ বিদেশি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেতে পারেন। স্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ে চিন্তা। কর্মে অগ্রগতি।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৫৬ টাকা৮৪.৩০ টাকা
পাউন্ড১০৪.৩৩ টাকা১০৭.৮১ টাকা
ইউরো৮৮.০৪ টাকা৯১.১৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা