বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিনোদন
 

এক না জেতা মেয়ের গল্প

প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার:  একটি পচা-গলা শবদেহকে কেন্দ্র করে কয়েকটি চরিত্রের বিভিন্ন মানসিক স্তরের পর্দা উন্মোচন। এককথায় এটাই হল গোয়েন্দা চন্দ্রকান্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় ছবি। ছবির প্রায় শুরুতেই একটি অস্বাভাবিক ঘটনার আভাস পাওয়া মাত্র আততায়ীর ‘রেডিমেড’ প্রতিক্রিয়া দর্শকের চোখে তাকে উন্মোচিত করে দেয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই থ্রিলারের টানটান উত্তেজনা, দর্শক-মনের সংশয় ও সন্দেহের উথাল-পাতাল এই ছবিতে অনুপস্থিত। এমনকী, গোয়েন্দা চন্দ্রকান্তকেও (চিরঞ্জিত) আততায়ী ও তার গৃহ-পরিচারক ছাড়া আর কোনও সন্দেহভাজনকে সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদটুকুও করতে দেখা যায়নি। চন্দ্রকান্তের গোয়েন্দাগিরির সামগ্রিক পদ্ধতি চিত্রনাট্যের উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আদতে এই ছবি একটি জিততে না পারা মেয়ের গল্প। পরিস্থিতির পাকে-চক্রে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দময় স্রোত হারিয়ে ফেলা মেঘা সেনের (অরুণিমা ঘোষ) ইতিবৃত্ত। সন্তান হিসেবে বাবার শেষ জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার তাগিদে তাকে তার পুরনো প্রেম ছেড়ে সঙ্গীত পরিচালক দেবরাজ সেনের (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) তৃতীয়া স্ত্রী হতে হয়। অপরিণামদর্শী বাবার মেয়ে হিসেবে, বহুগামী স্বামীর স্ত্রী হিসেবে, স্বপ্নদর্শী ব্যর্থ প্রেমিকের প্রাক্তনী হিসেবে এবং অসুস্থ সৎ মেয়ের মা হিসেবে মেঘার একনিষ্ঠ সৎ প্রয়াস ও উদ্যোগগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিফলতার মুখ দেখেছে। দর্শককে এমন এক অদ্ভুত দাম্পত্যের প্রত্যক্ষদর্শী হতে হয়, যেখানে স্বামীর দেহ ও স্ত্রীর মন দুটোই তীব্রভাবে পচনশীল। পাহাড়ি নদীর খরস্রোতের সামনে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের প্রেমিককে গান শোনানোর প্রহসন ও বিফলতা মেঘার জীবনের অন্তিম পরাজয়। প্রায় ২০ বছর পর অভিনেতা চিরঞ্জিতের কোনও ছবি পুজোয় মুক্তি পেল। মাঝখানের সময়টাতে বাংলা সিনেমার ধারা ও নির্মাণশৈলীতে বিস্তর রদবদল হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের নতুন বাজারেও তাঁর বাচনভঙ্গি, অঙ্গ-সঞ্চালন ও ম্যানারিজম সমান আকর্ষণীয়। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অভিনীত নেগেটিভ চরিত্রগুলিতে সচরাচর হরেক রকম শেডস থাকে। কিন্তু এখানে তিনি একবগগা আত্মসর্বস্ব হিংস্র এক মানুষ। অরুণিমা ঘোষ অভিনীত মেঘা চরিত্রটি ২০১৩ সালের পুজো রিলিজ বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নায়িকা সংবাদ’ ছবির দিয়া চরিত্রটিকে মনে করিয়ে দেয়। নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ে ক্ষত-বিক্ষত সেই একই নারীসত্তা। স্থান-কাল-পাত্রের বাহ্যিক ভেদটুকুই শুধু আছে। জীবন-প্রেমের ব্যাকুল চাউনি, পরাজয়ের গ্লানিতে অবনমিত মুখ, সরকারি আধিকারিকের ব্যক্তিগত প্রশ্নমালায় জর্জরিত অস্বস্তি এবং কখনও নিষ্ঠুর প্রতিবাদী হাসি। প্রতিটি দৃশ্যে অনবদ্য অরুণিমা। চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অয়ন চক্রবর্তীর দৃশ্য-ভাবনাগুলি শিল্পরসোত্তীর্ণ। তবে কয়েকটি দৃশ্যের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হয়তো আরও সচেতন হওয়া যেত। রূপম ইসলামের সঙ্গীত পরিচালনা ছবির মেজাজের সঙ্গে মানানসই। একটি ক্যামিও চরিত্রে দর্শনা বণিকের উপস্থিতি ছবির গ্ল্যামার কোশেন্ট বৃদ্ধি করেছে।

12th     October,   2021
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021