বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিনোদন
 

দুর্বল চিত্রনাট্যে মজাটাই ফিকে

অদিতি বসুরায়: ওটিটিতে রিলিজ করা অ্যান্থলজির তালিকায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ‘আনকহি কাহানিয়া’। তিন পরিচালকের তিনটি ছবি নিয়ে তৈরি এই ছবিতে এমন কিছুই পাওয়া যায়নি, যা দর্শক-মনে প্রভাব ফেলতে পারে। ছবির নাম দেখেই স্পষ্ট হয়ে যায়, পরিচালক-ত্রয়ী মূলত প্রেমের কাহিনিই তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে, এই ভালোবাসার প্রেক্ষিত একেবারে অন্যরকম– পরকীয়া থেকে একাকিত্ব সে সবের উৎস। অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারির গল্পে দেখানো হয়, প্রদীপ (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) নামের এক গ্রামের যুবকের কথা। যে কি না মুম্বই শহরের এক রেডিমেড পোশাকের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করে। স্বভাবত সে নিঃসঙ্গ। বন্ধুহীন প্রদীপ শেষ পর্যন্ত দোকানের ম্যানিকুইনকে সঙ্গিনী হিসেবে কল্পনা করে, তাকে নিয়ে বেড়াতে যায়। তার সঙ্গে গল্প করতে শুরু করে– এমনকী সেই পুতুলের স্পর্শে তার শারীরিক আনন্দও হতে থাকে। তবে, গল্প জমেনি। চিত্রনাট্যের দুর্বলতায় অভিষেকের দুর্দান্ত অভিনয়ও ছবিটিকে বাঁচাতে পারেনি। অভিষেক চৌবের ছবিটি বাকি দু’টির থেকে সামান্য অন্যরকম। গুণগত বিচারে এগিয়েও। মুম্বই শহরের এক সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলের  কর্মচারী নন্দু (দেলজাদ হিওয়ালে) এবং এক দরিদ্র সিনেমাপ্রেমী যুবতী মঞ্জরীকে (রিঙ্কু রাজগুরু)  কেন্দ্র করে গল্প বুনেছেন পরিচালক। পারিবারিক বঞ্চনার শিকার, শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত মঞ্জরী যত না ভালবেসেছিল নন্দুকে, তার থেকে অনেক বেশি নিজের ত্রাণকর্তা হিসেবে প্রার্থনা করেছিল। যেখানে প্রেমের চেয়ে স্বার্থ ছিল বেশি। সেই কারণেই নন্দুর দেওয়া আইসক্রিম সে একাই খেয়ে নেয় এবং আবার আরেকটা চায়। ওদিকে নন্দু কাঠের চামচ হাতে অপেক্ষা করতে থাকে প্রেমিকার সঙ্গে আইসক্রিম ভাগ করে খাওয়ার জন্য। কিন্তু মঞ্জরী তাকে হতাশ করে। নন্দুর দীনহীন জীবনে দিবারাত্র পরিশ্রম ও অসুস্থ, মদ্যপ বাবার সেবা করা ছাড়া মঞ্জরীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাই ছিল একমাত্র বিলাসিতা। স্বপ্নের মঞ্জরীকে সামনে পেয়ে তার জীবন বদলে যাওয়ার কথা ছিল বটে– বাস্তবে তা ঘটে না। আত্মকেন্দ্রিক মেয়েটিকে তাই সে ফিরিয়ে দেয়। ফেরার বাসে, একা নন্দুর সিটে রোদ্দুর এসে পরে – হু হু হাওয়া দেয়। খুব ভালো কাজ করেছেন রিঙ্কু ও দেলজাদ। তবে এক্ষেত্রেও কাহিনিতে অনেকটাই ফাঁক-ফোঁকর আছে বিশেষ করে অমন কড়া শাসনের বাড়ি থেকে পড়শির চোখের সামনে দিয়ে মঞ্জরীর ঘর ছাড়া অবাস্তব ও হাস্যকর। 
‘আনকহি কাহানিয়া’-র শেষ ছবিটির পরিচালক সাকেত চৌধুরী। দাম্পত্য ও পরকীয়া নিয়ে যে কাহিনি সাজানো হয়েছে, তাতে অভিনবত্ব কিছুই নেই। নেই সারবত্তাও। অত্যন্ত অর্থবান অর্জুন মাথুরের (নিখিল দ্বিবেদী) স্ত্রী তনু (জোয়া হুসেন) হঠাৎ করে জানতে পারে স্বামীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা। দেখা করে স্বামীর প্রেমিকার বর মানবের ( কুণাল কাপুর) সঙ্গে। তারা সেই সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, যেখানে যেখানে অর্জুন ও তার প্রেমিকা নাতাশা (পালোমি ঘোষ) গিয়েছিল। পুরো বিষয়টি গোলমেলে এবং অত্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্যের ফসল। ফলে ছবিটি দেখতে বসা দর্শক হিসেবে করুণা হতে থাকে, একটি উইক-এন্ডের অপমৃত্যু ঘটানোর জন্য। 

21st     September,   2021
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021