বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সিনেমা
 

নাম দিয়ে যায় চেনা
প্রসেন‌জিৎ ওয়েডস ঋতুপর্ণা

অদিতি বসু রায়: বাণী বসুর ‘দিদিমাসির জিন’ উপন্যাসে কাজলরেখা নামের এক মেয়ে এমন ছেলেকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, যার নাম হতে হবে ধীমান। তারপর কী ঘটেছিল, তা বিস্তারে আলোচনা করার ক্ষেত্র এটি নয়। যে প্রসঙ্গে এই ব্যাপারটা উল্লেখযোগ্য তা হল, ‘প্রসেনজিৎ ওয়েডস ঋতুপর্ণা’ ছবিতেও  নায়িকা ঋতুপর্ণা, পাত্রের নাম প্রসেনজিৎ বলেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়ে। ছবির নামের চমকটি নিয়ে কোনও কথা হবে না। এই  বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় উপায়েই বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমজনতার দরবারে ঘুরছে। ছবিটিতে পরিচালক সম্রাট শর্মা একটা চমৎকার কমেডির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক সমস্যাকে তুলে ধরেছেন। প্রসেনজিৎ-ফ্যান্টাসির ছদ্মবেশে একালের  ম্রিয়মাণ দাম্পত্যকে সতেজ রাখার যে সব পদ্ধতি দেখানো হয়েছে – তার সবক’টি নির্দ্বিধায় মেনে না নেওয়া গেলেও মোবাইল ফোনের যে বিষয়টি তোলা হয়েছে, তা একেবারে ঠিক। তবে গল্পটি যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে বেশ কিছু খামতি চোখে পড়তে বাধ্য। 
প্রথম কথা, এই ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে এই রকম মেয়ে কি আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে, যে সুপারস্টারের স্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে জীবন কাটাবে! এবং সেই সঙ্গে ছবিতে প্রসেনজিতের অন্তত কুড়ি বছর আগের  কিছু মেইন স্ট্রিম ছবির ক্লিপিংস ছাড়া এমন কিছুই দেখানো হয়নি যা থেকে একেবারে অন্যরকম কিছু মেয়েটি খুঁজে পায়। সে কলকাতা শহরে, মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে যদি কাজ-কর্ম-পড়াশোনা সব ছাপিয়ে শুধু ‘প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়’র স্ত্রী হবে বলে আশা করে থাকে তাহলে ছবিটিকে এভাবে না সাজালেই পারতেন পরিচালক। অপর পক্ষে,  নামের কারণে ফিল্মস্টার প্রসেনজিৎকে ঘৃণা করা এবং একান্তে তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্বে নেমে পড়ে একেবারে ঋতুপর্ণা নামের একটি মেয়েকে বিবাহ বন্ধনে বেঁধে তাকে দিয়ে নিজেকে ঘৃণ্য প্রমাণ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষার  মধ্যেও বিশ্বাসযোগ্য, বাস্তব লজিক পাওয়া যায় না।  প্রসেনজিতের স্টারডম প্রশ্নাতীত। তা স্বত্ত্বেও গোটা ব্যাপারটা শুধু ‘বাবা কেন চাকর’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি কিছু মশালা ছবির মধ্য দিয়ে না দেখিয়ে অভিনেতা প্রসেনজিতের কিছু অসামান্য কাজ রাখলে ছবিটি সম্পূর্ণ হতে পারত। 
প্রসেনজিৎ এবং ঋতুপর্ণা নামের চরিত্রদুটিতে প্রায় নতুন দুই অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ করেছেন। ঋষভ বসু এবং ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায় দু’জনেই তুখোড় অভিনয় করেছেন। ছবির মূল আকর্ষণ তাঁরাই। প্লটের খামতিগুলো  দু’জনেই অতিক্রম করে যেতে পেরেছেন। ঋতুপর্ণার মায়ের ভূমিকায়  মানসী সিনহা যথারীতি দুর্দান্ত। মহিলাদের মধ্যে তাঁর মতো কমিক টাইমিং এই মুহূর্তে বাংলা ছবির জগতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রসেনজিতের কাজ নিয়ে নতুন করে আর কী-ই বা বলার আছে! এই ছবিতেও তিনি নিজের নামভূমিকায় যথাযথ গ্ল্যামরাস আর স্মার্ট। ‘ষাট বছরের বুড়ো মাল’- এর হাড়ে এখনও যে ভেলকি খেলে, ‘প্রসেনজিৎ ওয়েডস ঋতুপর্ণা’ প্রমাণ করে। আর যার কথা না বললেই নয়, তা হল এই ছবির গান। দেবদীপ মুখোপাধ্যায়, রণজয় ভট্টাচার্য, শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরারোপ বাংলা ছবির গানে তাজা হাওয়ার আমদানি করেছে। 
প্রসেনজিৎ এবং ঋতুপর্ণার বিয়ের আমন্ত্রণ এই নভেম্বরের ভরা বিয়ের মরশুমে অন্যতম আকর্ষণ নিঃসন্দেহে। 

25th     November,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ