বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সিনেমা
 

 ফেলু মিত্তিরের মগজাস্ত্র মঞ্চ মাতাল
বোসপুকুরে ফেলুদা

এই প্রথম নয়, মঞ্চে আগেও মগজাস্ত্র প্রয়োগ করেছে ফেলুদা। মুগ্ধ বিস্ময়ে বুদ্ধির মার-প্যাঁচ উপভোগ করেছেন থিয়েটার প্রেমীরাও। সেই একই মুগ্ধতায় ফেলুদা অ্যাণ্ড কোং-এর মঞ্চায়ন ঘটাল নাট্যদল চাকদহ অন্য চুপকথা। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর ‘বোসপুকুরে খুনখারাপি’ অবলম্বনে গিরিশ মঞ্চে ‘বোসপুকুরে ফেলুদা’ মঞ্চস্থ করল এই নাট্যসংস্থা। নির্দেশনায় বিদ্যুৎশঙ্কর বিশ্বাস। মূল গল্পের অনুসরণে নির্মেদ নাট্যরূপ দিয়েছেন নির্দেশক নিজেই। ভারত অপেরার পালাকার ইন্দ্রনারায়ণ আচার্যের খুনকে ঘিরে বোসপুকুরে ক্রমশ ঘনিয়ে ওঠে রহস্য। কে খুন করল ইন্দ্রনারায়ণকে? প্রতিপক্ষ বীণাপাণি অপেরার কেউ, না পরিবারের কোনও সদস্য? খুনি ভাড়াটে, না পুরনো শত্রু? জমে ওঠে নাটক। সত্যজিতের ‘বোসুপুকুরে খুনখারাপি’ পড়েননি এমন বাঙালির সংখ্যা খুবই কম। তাই গল্পের পরিণতি প্রায় সবার জানা। যেটা জানার, সেটা হল নিপুণ ও নিখুঁত মঞ্চায়নের বৃত্তান্ত। গল্পের পরিসর রজনী সেন রোড ও বোসুপুকুর। উপজীব্য বিষয়, যাত্রাদল ও সেই দুনিয়ার টানাপোড়েন। আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটও পরিচিত। যেহেতু মঞ্চ জগতের কিস্‌সা, তাই ‘বোসপুকুরে খুনখারাপি’ সবদিক দিয়ে মঞ্চপোযোগী গল্প। ‘অপ্সরা থিয়েটারের মামলা’য় একই মশলা মজুত থাকলেও, সেটির ইতিমধ্যেই মঞ্চায়ন হয়েছে। তাই ‘বোসপুকুরে খুনখারাপি’তেই আত্মনিয়োগ করেছে চাকদহ অন্য চুপকথা। 
নাট্যদলটি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে সত্যজিৎ সৃষ্ট ফেলুদা-সিগনেচার ব্যবহারের সম্মতি আদায় করে। ফলে মৌলিক আবহের (সিঞ্চন সরকার) সঙ্গে সেই অতি পরিচিত মিউজিকের মিশেল প্রেক্ষাগৃহে একটা চেনা পরিবেশ তৈরি করে। সেই আবহে ফেলুদা, তোপসে ও লালমোহনবাবুকে হাজির করে পরিচালক বাঙালির নস্টালজিয়াকে নাড়া দিয়েছেন। মঞ্চ সজ্জার বিন্যাসও চমকপ্রদ। সময়কে সেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতায় সেঁটে দিয়েছেন পরিচালক। অল্প আয়াসে রজনী সেন রোডের বৈঠকখানা বদলে গিয়েছে বোসপুকুরের আচার্য বাড়ির অন্দরমহলে। সেই দৃশ্যান্তরের সঙ্গে নাটকীয় পরিবেশকে আগলে রেখেছে অনবদ্য আলোর (মনোজ প্রসাদ) আঁকিবুকি। 
আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। লেটার মার্কস নিয়ে ফেলু মিত্তিরের জুতোয় পা গলিয়েছেন অতনু গঙ্গোপাধ্যায়। হাঁটা, চলা, কথা বলা, তাকানো, সিগারেট ধরানো, খুনের কিনারা—সবেতেই সত্যজিতের বর্ণনাকে অনুসরণ করেছেন তিনি। কাউকে নকল করার চেষ্টা করেননি। তাই উচ্চতায় ‘৬ ফিট’ না হওয়ার খামতিটুকু অসাধারণ অভিনয় গুণে উতরে যান। সেইসঙ্গে নিপুণ সঙ্গত করেছেন ‘লালমোহন গাঙ্গুলি’ পরিতোষ ঘোষ ও ‘তোপসে’ সুদীপ পাল। নিজের শরীর ও বাচনভঙ্গিকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন পরিতোষ। বয়সে, ব্যবহারে, বিচক্ষণতায় পারফেক্ট সুদীপও। ইন্দ্রনারায়ণ চরিত্রটির  আত্মবিশ্বাস, আদর্শবোধ, কিছুটা আক্ষেপ ও কৃতকর্মের আত্মতৃপ্তি সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সমরেশ সাহা। স্বল্প পরিসরে মার্জিত অভিনয়ে নজর কাড়েন কল্লোল ঘোষ (দেবনারায়ণ), মানিক পাল (প্রদ্যুম্ন)। এছাড়াও বাকিদের অভিনয় নাটকটিকে টানটান করে রাখে শেষ পর্যন্ত। এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিটের বিরতিহীন নাটকটির গতি খুব দ্রুত। অনায়াসে প্রযোজনার সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। শেষ লগ্নে স্ফুলিঙ্গের মতো একটি চমক ছুঁড়ে দিয়েছেন পরিচালক। কী সেটা, জানতে প্রযোজনাটি দেখতে হবে। 
নিজস্ব প্রতিনিধি      

21st     January,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ