বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

কাঁকড়া-অয়েস্টার-অক্টোপাস খাচ্ছেন!
এসব সপ্তাহে কতটা খাওয়া নিরাপদ?

পরামর্শে আর জি স্টোন ইউরোলজি অ্যান্ড ল্যাপারোস্কোপি হাসপাতালের পুষ্টিবিদ শ্রীপর্ণা চক্রবর্তী।  

শেলফিশের নামের শেষে ফিশ থাকলেও তারা মাছ নয় মোটেও। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং জুপ্ল্যাঙ্কটন খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন হল আণুবীক্ষণিক একধরনের জলজ শৈবাল। জুপ্ল্যাঙ্কটন হল আণুবীক্ষণিক জলজ প্রাণী। শেলফিশের শরীরে রয়েছে প্রাকৃতিক ফিল্টার। ফলে দূষিত জল এদের শরীরে প্রবেশ করলেও কোনও ক্ষতি হয় না। জল থেকে নানা আণুবীক্ষণিক ব্যাকটেরিয়া এরা খেয়ে ফেলে ও এভাবে আশপাশের জল পরিষ্কার রাখে। সারা পৃথিবীতেই খাদ্যরসিকদের মধ্যে শেলফিশ খাওয়ার চল রয়েছে। শেল ফিশের অধীনে রয়েছে কাঁকড়া, ঝিনুক, শামুক, অক্টোপাস, স্কুইড ইত্যাদি। মাছ এবং শেলফিশের মধ্যে মূল তফাৎ হল, মাছের দেহে থাকে হাড়। অন্যদিকে শেলফিশ অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
সমগ্র পৃথিবীতেই খাদরসিকরা শেলফিশ খান। রয়েসয়ে খেলে শেলফিশ স্বাস্থ্য ভালো করার পক্ষে দুর্দান্ত একটি বিকল্প। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় শেলফিশ খেলে শরীরে ভারী ধাতু জমা হতে পারে। সেখান থেকে দেখা দিতে পারে কঠিন অসুখ। তবে বুঝেশুনে খেলে শেলফিশ হার্টের অসুখ সহ একাধিক রোগ দূরে রাখতে পারে। কারণ শেলফিশে ফ্যাটের মাত্রা থাকে অত্যন্ত কম। এছাড়া স্থলচর প্রাণীজ উৎস থেকে পাওয়া প্রোটিনের তুলনায় শেলফিশে ‘লিন প্রোটিনে’র মাত্রা থাকে অনেক বেশি। লিন প্রোটিনে স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনেক কম মাত্রায় থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট হার্টের ক্ষতি করে। লিন ফ্যাটের অন্যতম বড় গুণ হল তা পেশির বৃদ্ধিতে, গঠনে সাহায্য করে। এমনকী ক্ষত পূরণেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।
কেন শেলফিশ ভালো?
• শেলফিশে রয়েছে সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, আয়োডিন, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো শরীরের জন্য জরুরি খনিজ। খনিজগুলি ত্বক, পেশি, হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।
শেলফিশে আছে হার্টের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এছাড়া শেলফিশে রয়েছে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৬, বি৩ ইত্যাদি।
• শেলফিশে ক্যালোরির মাত্রাও থাকে অত্যন্ত কম। ফলে ডায়েটের মাধ্যমে ওজন কমাতে হলে শেলফিশের বিকল্প নেই। শেলফিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল অ্যামাইনো অ্যাসিড। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধেও সাহায্য করে অ্যামাইনো অ্যাসিড।
• শেলফিশে থাকা প্রোটিন ত্বকের জন্য  দারুণ উপকারী। ত্বকের দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া আটকায় উপাদানগুলি। ফলে তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব হয়।
• শেলফিশে রয়েছে পর্যাপ্ত মাত্রায় ভিটামিন বি১২। 
আমাদের মনে রাখতে হবে ভিটামিন বি১২-এর অভাবে মাথা ঘোরা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, পেশির দুর্বলতা, রক্তে লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা হ্রাস ও চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়।
এছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি৬ যা স্নায়ু, লোহিত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া শেলফিশে রয়েছে নিয়াসিন বা ভিটামিন বি ৩। এই ভিটামিনের অভাবে অপুষ্টি, স্মৃতিভ্রংশ, ডায়ারিয়া, হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত শেলফিশ খাওয়ার বিপদ
মাত্রাতিরিক্ত শেলফিশ খেলে দেহে পারদ জমার আশঙ্কা বাড়ে। সেক্ষেত্রে পারদের বিষক্রিয়ায় স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
কতটা খাবেন?
সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৩৪০ গ্রামের বেশি শেলফিশ খাওয়া উচিত নয়।
সাবধানতা
শেলফিশে অনেকের অ্যালার্জি থাকতে পারে। তাই শেল ফিশ খাওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে শরীরে—
• বমি এবং ডায়ারিয়া।
• গলা ও জিভ ফুলে যাওয়া।
• পেট ব্যথা।
• শ্বাসের কষ্ট।
উপরিউক্ত উপসর্গের মধ্যে যে কোনও একটি লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হন। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অবহেলা করবেন না। কোনওভাবেই আর শেলফিশ খাবেন না।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

16th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ