বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

বাজারের শাকসব্জি ও ফল 
কীটনাশকমুক্ত করবেন কীভাবে?

পরামর্শে হাওড়ার নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান শতভিষা বসু।

কীটনাশক কী?
কীটনাশক সম্পূর্ণরূপে রাসায়নিক উপাদান। ফসলকে পতঙ্গ ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য কীটনাশকের প্রয়োগ করেন চাষিরা। সালফার, অরগ্যানোক্লোরিন, মিথাইল প্যারাথিয়ন সহ বেশ কিছু রাসায়নিক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক হিসেবে ফসলে প্রয়োগ করা হয়। ফল, শাকসব্জি, গম, ধান সব ধরনের ফসলেই এখন কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। শাকশব্জি, ফল ও চাল, গমের মতো খাদ্যের মাধ্যমে আমাদের শরীরে এই ধরনের কীটনাশক প্রবেশ করে।

অসুখ
শরীরে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রবেশ করলে হতে পারে একাধিক শারীরিক সমস্যা। বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, ডায়ারিয়া, জন্ডিস, মাথাঘোরা, মাথা ভার ভার বোধ হওয়ার মতো উপসর্গ তৈরি হতে পারে। এই ধরনের সমস্যার চিকিৎসাও সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অল্প অল্প করে কীটনাশক প্রবেশ করলে স্মৃতি নষ্ট হওয়া, শ্বাসের সমস্যা, ত্বকের রোগ, অবসাদের মতো অসুখ হতে পারে। ঘটতে পারে মিসক্যারেজও। আবার জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম হতে পারে শিশুর। ক্যান্সার এবং নানা স্নায়ুরোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কাদের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
কীটনাশক থেকে ভ্রূণ, শিশু, সন্তানসম্ভবা মহিলাদের স্বাস্থ্যে সবচাইতে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে সম্তানসম্ভবা মহিলার গৃহীত খাদ্যে কীটনাশকের মাত্রা বেড়ে গেলে ভ্রূণের বেড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। বিভিন্ন অঙ্গের গঠনেও দেখা দিতে পারে নানা ত্রুটি।

জটিলতা কোথায়?
রান্নার মাধ্যমে কীটনাশক দূর করা সম্ভব নয়। তাই শাকসব্জি ও ফলে কীটনাশকের ব্যবহার বিশেষ চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে আপেল, পেয়ারা, স্ট্রবেরি, আঙুরের মতো ফল আমরা সাধারণত গোটা আর কাঁচা খাই। আবার বিট, গাজর, শসার, লেটুসের মতো সব্জিও আমরা কেউ কেউ কাঁচা খেয়ে থাকি। ফলে সরাসরি শরীরে কীটনাশক প্রবেশের আশঙ্কা থাকে। তাই শাকসব্জি ও ফল খাওয়ার আগে নির্দিষ্ট পন্থায় কীটনাশক দূর করা প্রয়োজন। 

কীটনাশক দূর করার উপায়
শাকসব্জি ও ফল থেকে কীটনাশক হয়তো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে কীটনাশকের মাত্রা অবশ্যই কমানো যায়। তাই প্রতিবার বাজার থেকে ফল ও শাকসব্জি নিয়ে আসার পর জলের কল খুলে কলের নীচে শাকসব্জি ও ফল ধরে ভালো করে ধুয়ে নিন। এছাড়া ২ শতাংশ লোনাজলে শাকসব্জি ও ফল কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপরেও কলের জলে ধুতে পারেন।

কীভাবে প্রস্তুত করবেন ২ শতাংশ লোনা জল?
পাত্রে যত মিলিলিটার জল নেবেন তাকে .০২ দিয়ে গুণ করুন। যে উত্তর মিলবে তত গ্রাম নুন মেশাতে হবে জলে। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি একটি পাত্রে ৫০০ মিলি লিটার জল নিলে তাকে ৫০০-এর সঙ্গে  .০২ গুণ করতে হবে। এক্ষেত্রে উত্তর হবে ১০। অর্থাৎ ৫০০ মিলিলিটার জলে ১০ গ্রাম নুন দিলে তবে তৈরি হবে ২ শতাংশ লোনা জল। আবার ১০০০ এমএল জল নিলে সেক্ষেত্রে দরকার হবে ২০ গ্রাম নুনের। তবে নুন দেওয়ার পর জল গরম করতে হবে। নুন সম্পূর্ণভাবে জলের সঙ্গে মিশে গেলে জল ঠান্ডা করতে দিতে হবে। ঠান্ডা জল দিয়েই ধোয়ার কাজ হবে।

জীবাণু সংক্রমণ
বাজারের শাকসব্জি ও ফল থেকে করোনা, নোরো ভাইরাস এবং ই কোলাইজাতীয় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এছাড়া আরও বহু ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস থাকতে পারে বাজারের শাকসব্জি ও ফলে। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হালকা জ্বর, গায়ে ব্যথা, বমি, পেট ব্যথা, ডায়ারিয়া হতে পারে।

কীভাবে করবেন শাকসব্জি ও ফল জীবাণুমুক্ত?
 খুব ভালো হয় জলে হলুদ মিশিয়ে তারপর শাকসব্জি ও ফল ধুতে পারলে। কারণ হলুদের অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ আছে। 
 এছাড়া জলে এক চামচ ভিনিগার দিয়েও ধুয়ে নিতে পারেন শাকসব্জি ও ফল।

ফলে মোমের ব্যবহার থেকে সাবধান
এক্ষেত্রে সমাধান একটাই— ফলের খোসা ছাড়িয়ে খান।

ফলে ও সব্জিতে রং
২ শতাংশ নোনা জল ও ভিনিগার মিশ্রিত জল ব্যবহার করুন।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক
 

4th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ