বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

আদর্শ প্রেসক্রিপশন
কী কী থাকা জরুরি?

পরামর্শে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ও ফার্মাকোলজির অধ্যাপক ডাঃ অঞ্জন অধিকারী।

ওষুধের প্রস্তাবনাপত্র।  সোজা কথায় প্রেসক্রিপশন। চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ওষুধ নির্ধারক বা চিকিৎসক জনৈক ব্যক্তির কয়েকটি মানসিক ও শারীরিক সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে যে নিদান লিখে দিচ্ছেন, তা-ই  ‘প্রেসক্রিপশন’। একজন মানুষের বাঁচা-মরা ও ভালো থাকার ক্ষেত্রে এর একটি আইনগত আবেদন আছে। যা আইনি, তাকে আইনের মতোই সুপরিকল্পিত ও বিন্যস্ত রাখা উচিত।
প্রেসক্রিপশনের নেপথ্যে রোগীকে মানসিক, শারীরিক ও আত্মিকভাবে সারিয়ে তোলার রসদ লুকিয়ে থাকে। রোগীর প্রতি যত্নের নির্দেশাবলি এই পত্রেই থাকে। চিকিৎসাশাস্ত্রে তাই প্রেসক্রিপশনে ‘আরএক্স’ শব্দটির প্রয়োগ রয়েছে। এর অর্থ ‘টেক দাউ’ বা রেসিপি। খাবার বানানোর সময় যেমন নির্দিষ্ট রেসিপি মেনে চলতে হয়, প্রেসক্রিপশনের বেলাতেও তেমনই। আধুনিক যুগে চিকিৎসাব্যবস্থা ও ওষুধ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু এখনও প্রেসক্রিপশন বলতে রোগ নিবারণ হেতু রোগীর প্রতি লিখিত নির্দেশই বোঝায়। তাই প্রেসক্রিপশন কয়েকটি নিয়ম মেনেই করতে হয়।
আদর্শ প্রেসক্রিপশনে কী কী আবশ্যিক?
• প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে জড়িত থাকেন চিকিৎসক নিজে। তাই তিনি যেখানে বসে এটি লিখছেন (হাসপাতাল/ক্লিনিক) সেখানকার পূর্ণ ঠিকানা, ফোন নম্বর, চিকিৎসকের নিজস্ব একটি নম্বর (আপৎকালীন), চিকিৎসাবিদ্যায় চিকিৎসকের যাবতীয় পড়াশোনার খতিয়ান, তিনি কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এগুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ। 
• প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকে রোগীর। তাই তাঁর নাম, বয়স ও প্রয়োজনে ঠিকানাও থাকতে হবে প্রেসক্রিপশনে। ওষুধের মাত্রা নির্ভর করে রোগীর উচ্চতা ও ওজনের উপর। তাই এগুলোও লিখতে হবে। থাকবে নাড়ির গতি ও রক্তচাপের পরিমাপ। এখন অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রাও রাখা উচিত। রোগী যদি শিশু বা কেমোথেরাপি নেওয়া ব্যক্তি হন, তাহলে তার বডি সারফেস, অর্থাৎ শরীরে চামড়ার ভাগ কতটা, তার উপর নির্ভর করে ওষুধ দিতে হয়। তাই সে সম্পর্কিত তথ্যও থাকবে প্রেসক্রিপশনে।
• এবারে যে বিষয়ে নজর দিতে হবে, তা হল রোগ। প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে এর সম্পর্কই সবচেয়ে গুরুতর। রোগীর কী কী অসুবিধা হচ্ছে, তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে প্রেসক্রিপশনে। এমনভাবে তা থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে এই প্রেসক্রিপশনই তার ‘কেস হিস্ট্রি’-র কাজ করবে। 
• এরপর অতিঅবশ্যই থাকবে চিকিৎসক রোগীকে কীভাবে দেখছেন, তার তথ্য। অর্থাৎ চিকিৎসকের কাছে আসার সময় রোগী স্বজ্ঞানে ছিলেন নাকি অজ্ঞানে। স্বজ্ঞানে থাকলে তিনিই সব বিস্তারিত জানিয়েছেন চিকিৎসককে, নাকি তাঁর সঙ্গে আসা পরিজনের কাছ থেকে জানতে হল রোগীর অসুবিধা— থাকবে সে তথ্যও।
• এরপর রোগীর নানা শারীরিক সমস্যার যদি কোনও পরীক্ষা আগে থেকেই করা থাকে, তার রিপোর্টগুলি লিখে ফেলতে হবে এক জায়গায়। যদি তেমন কোনও পরীক্ষা না থাকে, তাহলে তাঁর পুরনো কোনও রোগ থাকলে তা লিখতে হবে। অ্যানিমিয়া, জন্ডিস থেকে শুরু করে যে কোনও বড় অসুখ সহ নানা কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যার ইতিহাস থাকলে তার বিবরণ প্রয়োজন।
• এরপর রোগীর বর্তমান সমস্যা খতিয়ে দেখে চিকিৎসক তাঁর উপদেশ লিখবেন। এর দু’টি ভাগ। ক. নন ফার্মাকোলজিক্যাল উপদেশ, খ. ফার্মাকোলজিক্যাল উপদেশ। 
নন ফার্মাকোলজিক্যাল বিভাগে চিকিৎসক রোগ খতিয়ে দেখে রোগীর প্রতি কিছু জীবনযাপনগত উপদেশ থাকলে তা লিখবেন। পথ্যের কথাও এখানে লেখা থাকবে। ফার্মাকোলজি বিভাগে চিকিৎসক ওষুধের কথা লিখবেন। কোনও পরীক্ষার প্রয়োজন থাকলে, তাও লিখবেন এখানে। তবে এখানে আরও কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। 
১. ইঞ্জেকশন, ওষুধ ও মলম—  তিনটিই প্রয়োজন হলে ফার্মাকোলজিক্যাল উপদেশের প্রথমেই থাকবে ইঞ্জেকশনের কথা। এরপর থাকবে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের কথা। সবশেষে মলম।
২. ওষুধের জেনেরিক নাম লিখলে রোগী ওই একই গোত্রের ওষুধ নিজের পকেট বুঝে কিনতে পারেন। চিকিৎসক নির্দিষ্ট সংস্থার ওষুধ লিখলে তার দাম বেশি হলে রোগীর পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অনেক সময় অসুবিধাজনক হয়। তাই ওষুধের জেনেরিক নাম লিখতে হবে বড় হাতের লেখায় (ক্যাপিটাল লেটারে) স্পষ্ট করে। ট্যাবলেটের নামের আগে শুধু ‘টি’ নয়, লিখতে হবে ‘ট্যাব’।
৩. প্রেসক্রিপশনে যতটা সম্ভব কম শর্ট ফর্ম ব্যবহার করতে হবে। যেমন, ‘বিডিপিসি’, ‘ওডিএসি’ ইত্যাদি না লিখে এগুলির মানে কী স্পষ্টভাবে লেখা প্রয়োজন। ‘বিডিপিসি’ মানে যে খাওয়ার আগে দিনে দু’বার— এই ব্যাখ্যা রোগী নাও জানতে পারেন। ওষুধের দোকানের কর্মী বুঝিয়ে দেবেন বা রোগী গুগল করে জানবে— এমন ভরসা করা নিরর্থক। আমাদের মতো দেশে গ্রাম হোক বা শহর, সর্বত্রই চিকিৎসা করার সময় এগুলি মাথায় রাখা উচিত। 
৪. কোনও ওষুধের ডোজ ০.৫ হলে তা-ই লিখুন। .৫ লিখলে অনেক পরিবারেই তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।  ভুলবশত .৫০ বা দশমিক খেয়াল না করে ৫ পাওয়ারের ওষুধ কিনে রোগী খাওয়া শুরু করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের পাওয়ার যেন স্পষ্ট করে লেখা থাকে। ওষুধের বানানও যেন সঠিক হয়।  
৫. প্রেসক্রিপশনে যদি ব্যালান্সড ডায়েট লিখতে হয়, তাহলে আর একটু ব্যাখ্যা করে কী কী খাবার রোগী খাবেন, সেটা লিখে দিলে অনেক সময় রোগীর বুঝতে বেশি সুবিধা হয়। 
৬. চিকিৎসকের হাতের লেখাও যেন অন্তত বোঝা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 
৭. প্রেসক্রিপশনের সবশেষে তারিখ ও চিকিৎসকের স্বাক্ষর আইনত প্রয়োজন। 
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

28th     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ