বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

মন ভালো রাখার সেরা উপায়
চার দেওয়ালের মধ্যে থেকেও 

 

পরামর্শে মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হসপিটালের মনোবিদ অনুশীলা ব্রহ্মচারী।
 
সুমন লিখেছিলেন, ‘যদিও বাসার আসল ঠিকানা দশ ফুট বাই দশ ফুট’। 
এখানে ‘যদিও’ শব্দটি বেশ গুরুতর। দশ ফুট বেড়ে চোদ্দো-পনেরো, আঠারো-বিশ হতেই পারে। তবু একটা বদ্ধ ঘরে চেনা পরিবেশে থাকতে থাকতে যেন মনের ঘরটা দশ ফুট বাই দশ ফুটের চেয়ে বাড়ে না। নাগাড়ে একই ঘর, চেনা পরিবেশ। যেন দমবন্ধ করে দেয়। হঠাৎ হয়তো টের পেলেন, চার দেওয়ালের মধ্যে থাকাটা হঠাৎই ক্লান্ত করছে। কাজেও উৎসাহ পাচ্ছেন না। সারাক্ষণ মেজাজ খিঁচড়ে আছে।
বিশেষ করে যেদিন থেকে মানুষের মেলামেশা আড্ডা, পড়াশোনা, কাজ সবই খুব অ্যাপনির্ভর হয়ে গিয়েছে, তখন থেকেই তা মানুষের মনে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাঁকিয়ে বসছে একঘেয়েমি, অবসাদ। চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে কি জীবনকে আবার পুরনো ছন্দে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? রইল কিছু উপায়।
• চেনা ছকে বদল আনুন: চেনা রুটিন খানিক এলোমেলো করে দিন। ছক ভাঙুন। চেনা রুটিনকেই কিছুটা অচেনা করে দিন। একঘেয়েমি কাটবে। হয়তো নির্দিষ্ট একটা সময়ে শরীরচর্চা করতেন, সেখানে বরং শখের কোনও চর্চা করুন। শরীরচর্চাকে নিয়ে যান অন্য একটা সময়ে। রাত জেগে একটু দেরিতে ওঠার অভ্যেস ছিল এতকাল, এবার উল্টোটা করুন। একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে উঠুন ভোরে। এমন ছোট ছোট কিছু অভ্যেস পাল্টালেও অনেকটা বৈচিত্র্য আসবে।
• শরীর-মনের বন্ধুত্ব: শরীরের যত্ন মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা কিন্তু নয়। বরং ভালো লাগে এমন কিছু ওয়ার্কআউট বেছে নিন। হতে পারে গান শুনতে শুনতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে ফেললেন, কিংবা নাচ করলেন কিছুক্ষণ। সাঁতার কাটার বা যোগা করার ইচ্ছে হলে তাও করতে পারেন। মোট কথা, আপনার শরীরে ফিল গুড হরমোন এন্ডোর্ফিনের ক্ষরণ বাড়াতে শরীরচর্চা অবশ্যই প্রয়োজন। 
• ঘুমের খেয়াল: বাড়িতে থাকতে থাকতে হয় সারাক্ষণ ঘুম পায়, নয়তো নানা ওয়েব সিরিজ ও কাজের চক্করে ঘুমের দফারফা হয়। মন ভালো রাখার সঙ্গে কিন্তু ঘুমের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা খুব আবশ্যিক। আবার একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুম শরীরের জন্য ভালো নয়। তাই ঘুম ঘুম ভাব বেশি হলে এমন কোনও কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন যেখানে অল্প হলেও শ্রম ও বুদ্ধি খাটানোর জায়গা আছে। কোনও সৃজনশীল কাজ হোক বা প্রয়োজনীয় কিছু কাজ। হতে পারে, সন্তানের জন্য এক সেট হোমটাস্ক ঠিক করলেন কিংবা কাগজ খুলে বসে একটু শব্দছক বা সুদোকু করলেন। 
• বাড়ির ভোলবদল: একঘেয়ে ঘরদোর ভালো না লাগলে মাঝেমধ্যেই বদলে দিন ঘরের সাজ। খাট, ড্রেসিং টেবিল, আয়না এরা মাঝে মাঝে জায়গা বদল করলে চেনা ঘরকে খানিক অচেনা ঠেকবে। স্ট্রেস কমানোর এটা একটা মজার উপায়। এতে ঘরদোর পরিষ্কারও হয়ে যায় প্রায়ই। মনও সাফসুতরো থাকে। 
• আলাদা হোক কাজের জায়গা: এখনও অনেককেই বাড়ি থেকে কাজ করতে হচ্ছে। কেউ আবার বাড়ি থেকেই অনলাইনে কাজ করেন বরাবর। এমন হলে কাজের জায়গাটা একটু আলাদা করুন। বাড়ির ওয়ার্ক স্টেশনে যেন খুব বেশি আরাম বা আয়েশের জায়গা না থাকে। তাতে কাজের ক্ষতি তো হয়ই, আবার বাড়ির পরিবেশ ও কাজের জায়গা আলাদা না হলে কাজে মন বসে না। ফলে একসময় সময়ের কাজ সময়ে শেষ হয় না ও কাজের চাপ বাড়ে। 
• নিজের যত্ন নিন: এখন মি টাইম ও সেলফ গ্রুমিং ভীষণ জরুরি। নিয়ত সংসার ও কাজ সামলে নিজের দিকে তাকানোর ফুরসত না পেলে মনে মেঘ জমবেই। তাই নিজের যত্ন নিতে যা যা প্রয়োজন তার জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখুন। এতে মন ভালো হবে অচিরেই। 
• নতুন শখ: সবচেয়ে ভালো হয়, যদি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কখনও কিছু শিখতে চেয়েছিলেন অথচ সুযোগ বা সময় পাননি, এমন হলে সেই শখ ঝালিয়ে নিন এইবেলা। নতুন কিছু শেখার আনন্দে মনখারাপ গায়েব হবে।
• স্মৃতি তৈরি: ভাবছেন হয়তো, এ আবার কেমন কথা! স্মৃতি তো আপনিই জমা হয় মনের দালানে। ঠিকই। তবে খানিক অন্যরকমভাবে ভাবলে সে স্মৃতির সলতে গড়তে পারেন আপনিও। খানিক ইচ্ছে করেই। সপ্তাহে একটা দিন রাখুন একটু অন্যভাবে কাটানোর জন্য। তার মানেই যে বাইরে বেড়িয়ে অনেক খরচ করে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার সারতে হবে বা সিনেমায় যেতেই হবে এমন নয়। বাড়ির মধ্যেই তৈরি করুন রেস্তরাঁ বা সিনেমাহল-এর পরিবেশ। টিভি বা ওটিটিতে ভালো কোনও সিনেমা দেখুন একসঙ্গে। ঘরের আলোটা একটু নিভু নিভু করে দিন। চট করে উঠে পপকর্ন বানিয়ে নিন, আর সঙ্গে থাকুক কফি। ইচ্ছে করলে হালকা স্ন্যাক্স। কী, হল তো সিনেমা হল-এর পরিবেশ?
• একসঙ্গে পিকনিকও করতে পারেন। কেমন তা? ধরুন, বাড়ির প্রত্যেক সদস্য একটা করে পদ বানালেন। সকলে মিলে মজা করে একসঙ্গে বসে খেলেন। এমনও হতে পারে যে, কোনও এক দিন ডিনারে ভালো কোনও পদ বানিয়ে ঘরের আলো কমিয়ে, ডাইনিং টেবিলকে একটু ফুল দিয়ে সাজিয়ে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে বাড়িতেই সারলেন ক্যান্ডেল লাইট ডিনার! একটা কেকও সঙ্গে রাখবেন ভাবছেন? তা রাখতেই পারেন, আইডিয়াটা  মন্দ নয় কিন্তু! 
• নো ফোন, নো সাইট: সপ্তাহের একদিন কয়েকটা ঘণ্টা নিয়ম করে ফোন থেকে সরে থাকুন। ফোন সাইলেন্ট থাকুক ওই সময়। অন্তত ঘণ্টা দুই-তিন এমন করলে তা মনের স্ট্রেস কমে। ওই সময়টা বরং ভালো গান শুনুন, বই পড়ুন বা বাগান করুন। 
• রেডি স্টেডি অ্যান্ড গো: ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে রাখুন। একটু ছুটিছাটা বা অবকাশ পেলেই বেড়িয়ে পড়ুন এদিক ওদিক। অনেক দূরে যেতে হবে বা খুব দামি জায়গায় যেতে হবে, এমন নয় কিন্তু! ধারেকাছেও এক-আধবেলার জন্য বেড়িয়ে পড়ুন। সকলকে নিয়ে কাটিয়ে আসুন কিছুটা পারিবারিক সময়। একা মানুষ হলে আনন্দ নিন একা একা বেড়ানোর। 
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

21st     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ