বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

সন্তানসম্ভবা মায়ের যত্ন

পরামর্শে ভাগীরথী নেওটিয়া ওম্যান অ্যান্ড চাইল্ডকেয়ার সেন্টারের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ  ডাঃ রঞ্জিত চক্রবর্তী

গর্ভাবস্থা প্রত্যেক মহিলার জীবনেই বিশেষ একটা সময়। সন্তানের সুস্থতা এবং নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই সময় হবু মা-কে বেশ কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। তবে করোনা ভাইরাস রোগের (কোভিড ১৯) এই সময়টা সন্তান প্রত্যাশী মায়েদের জন্য ভয়, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরে উঠেছে। 
এই সময়ে নিজের এবং গর্ভস্থ সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা দরকার। যাঁরা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রথমেই গাইনেকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়ার। যার ফলে প্রেগনেন্সি সংক্রান্ত সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা হবে, তেমনই ভ্রূণের বেড়ে ওঠার সময়েরও অনেক সমস্যাও দূর করা যেতে পারে। 
মোটা কথা স্বাস্থ্যকর প্রেগনেন্সির সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। 
প্রেগনেন্সি কেয়ার কী?
প্রথমত, প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাইমারি হেলথ স্ক্রিনিং করানোর প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসক পরীক্ষা রোগীকে পরীক্ষা করে প্রেগনেন্সি কনফার্ম করেন। প্রেগনেন্সি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ফলিক অ্যাসিড জাতীয় ওষুধ খাওয়া শুরু করতে হয় মা-কে। ফলিক অ্যাসিড হল একধরনের ভিটামিন যা খেলে বাচ্চার ‘নিউরাল টিউব’ সম্পর্কিত সমস্যা দূর হয়। এছাড়া গর্ভাবস্থায় হেলথ চেক আপ করার সময় অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা), ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেশার, থাইরয়েড ধরা পড়তে পারে। এই রোগগুলি থাকলে মায়েরা অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন। যেমন-খাওয়াদাওয়া, শরীরের যত্ন নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। কারও কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে গাইনেকোলজিক্যাল চেক আপের পাশাপাশি ফিজিশিয়ানেরও পরামর্শও নিতে হয়। এছাড়াও আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখে নেওয়া হয় প্রেগনেন্সি ঠিক আছে কি না। 
পরবর্তী পর্যায়ে ১২-১৩ সপ্তাহ পর প্রত্যেক সন্তানসম্ভবা মহিলার ‘ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার স্ক্রিনিং’ নামে একটি টেস্ট করা হয়। সাধারণত যে তিনটি প্রধান ক্রোমোজোমের সমস্যাজনিত জন্মগত ক্রটি হয়, সেগুলির ঝুঁকি এই পরীক্ষা থেকেই নির্ধারণ করা যায়। তবে যে সমস্ত সন্তানসম্ভবা মহিলা ‘হাই-রিস্ক’ গ্রুপে পড়েন, তাঁদের ক্ষেত্রে  দু’রকমের বিশেষ টেস্ট করা হয় ভাবী সন্তান সুস্থ আছে কি না জানার জন্য। 
পরবর্তী পর্যায়ে আয়রন, ক্যালশিয়াম এবং কোনও ভিটামিনের অভাব থাকলে তার প্রয়োজনীয় ঘাটতি মেটাতে হবে। সুস্থ থাকতে ভাবী মায়ের কী ধরনের ডায়েট প্ল্যান মেনে চলতে হবে, কতটা বিশ্রাম প্রয়োজন—সবকিছু সঠিকভাবে বোঝাতে হবে। 
১৯-২০ সপ্তাহের মাথায় বাচ্চার যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সুস্থ আছে কি না দেখার জন্য ‘ফিটাল অ্যানোমালি স্ক্যান’ করা হয়। প্রেগনেন্সির ১৮-২০ সপ্তাহের মাথায় এই স্ক্যান করা অবশ্যই প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে অনেক সময় বিকলাঙ্গ বাচ্চা জন্মানো থেকে আটকানো যায়। এছাড়াও শিশুর হার্টে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না জানার জন্য নিয়মিত সময়ের অন্তর ‘ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রাম’ করা হয়। শেষ চার সপ্তাহের প্রত্যেক সপ্তাহেই মায়ের চেক আপ করা হয়। প্রেগনেন্সির শেষের দিকে আলট্রাসাউন্ড এবং ব্লাড টেস্ট করা হয় বাচ্চার গ্রোথ এবং মায়ের শারীরিক অবস্থা দেখার জন্য। গর্ভবতী অবস্থায় অনেক মহিলারই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে যাকে বলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস।
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস: সন্তানসম্ভবা অবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে ব্লাড সুগার মনিটরিং এবং ব্লাড সুগার কন্ট্রোলের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার ইনসুলিনেরও প্রয়োজন হয়। ডেলিভারির সময় যদি মা ও বাচ্চার কোনও সমস্যা থাকে তাহলে তা বিচার করে কোন ধরনের ডেলিভারি করা হবে সেই সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সেটা নর্মাল ডেলিভারি আবার সিজারিয়ান ডেলিভারিও হতে পারে। যেখানে সদ্যোজাত বাচ্চার সমস্তরকম যত্ন এবং নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার রয়েছে সেইরকম স্থান নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাচ্চা জন্মানোর পর এই কেয়ারগুলি লাগতে পারে। ডেলিভারির পরবর্তীকালে ব্রেস্ট ফিডিং, মায়ের নিউট্রিশন, মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রাম সম্পর্কেও গাইডেন্স দেওয়া হয়। ডেলিভারির পরও মা-কে দুই থেকে তিন বার চেক আপ করা হয়। প্রয়োজনমতো কোনও টেস্টের দরকার থাকলে সেটা করে চিকিৎসাও করা যায়।
লিখেছেন: অনির্বাণ রক্ষিত

14th     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ