বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

কমবয়সি মেয়েদের
আত্মহত্যার প্রবণতা কি বাড়ছে?

অফিস সামলে ঘর, ঘর সামলে বাচ্চার দেখাশোনা! ভয়ঙ্কর মানসিক চাপে ভুগছেন কতশত মহিলা। নিরাময় কী? লিখেছেন মনোবিদ ডঃ অমিত চক্রবর্তী।
 
শতকরা ৯৫ ভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে ডিপ্রেশন বা অবসাদের কারণে। অবসাদের প্রধান কারণ মানসিক চাপ। অর্থনৈতিক সমস্যা, সামাজিক বাধানিষেধ, শারীরিক অসুখবিসুখ, পারস্পরিক সম্পর্কে টানাপোড়েন, নানাধরনের বৈষম্য এবং নির্যাতন— এগুলোই মানসিক চাপের প্রধান কারণ। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীর উপর সামাজিক-পারিবারিক চাপ বেশি হওয়ায় কারণে এবং মেয়েরা তুলনামূলকভাবে বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ার দরুণ পুরুষের তুলনায় তিনগুণ বেশি নারী অবসাদের শিকার হয় এবং কোনও না কোনও সময় আত্মহত্যার চেষ্টা করে। যদিও শতকরা হিসেবে ১০-১৫ জনের বেশি সফল হয় না। পরিসংখ্যান বলে, গৃহবধূর তুলনায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরতা মহিলাদের মধ্যে আত্মহত্যায় প্রবণতা বেশি। কোনও কোনও গবেষকের মতে, কর্মরতা মহিলাদের শতকরা ৩০ জন কখনও না কখনও আত্মহত্যার কথা ভাবেন অথবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং সেই কারণে ঠিকমতো সংসার সামলাতে না পারা, পুরুষ ওপরওয়ালা এবং সহকর্মীদের চাহিদা মেটানোর অক্ষমতা, স্বামী এবং পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি এবং বিচ্ছিন্নতার কারণেই মেয়েরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অবসাদে ভোগেন। বিভিন্ন পেশার মধ্যে আবার মহিলা চিকিৎসকদের বেশি মাত্রায় অবসাদে ভুগতে দেখা যায়। যাদের নিজস্ব প্র্যাকটিস আছে তাঁদের তুলনায় বড় হাসপাতালে যেসব মহিলা চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন— তাঁদের একটা বড় অংশ নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করেন। হাসপাতালের প্রশাসনে যাঁরা থাকেন তাঁরা মহিলাদের তুলনায় পুরুষ চিকিৎসকদের অনেক বেশি গুরুত্ব দেন বলে মহিলা চিকিৎসকদের অনেকে হতাশায় ভোগেন।
গ্ল্যামার দুনিয়ার মহিলাদের একটা বড় অংশও যে অবসাদে ভোগেন তার ভূরি ভূরি প্রমাণ রয়েছে। ইদানীংকালে এক বাঙালি অভিনেত্রী এবং দু’জন মডেলের আত্মহত্যায় ঘটনা তাঁদের পেশার মানসিক চাপের দিকে ইঙ্গিত করছে। এই ধরনের পেশায় পুরুষ প্রযোজক এবং কলাকুশলীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা সব মেয়েদের সঙ্গে সম্ভব হয় না। এছাড়া কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরুষ অভিনেতার দাবিদাওয়া মেটাতে গিয়ে নতুন অভিনেত্রী এবং শিল্পীদের হয়রান হতে হয়। আবার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে মনের মতো কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। এটাও বাড়তি মানসিক চাপের একটা কারণ। একসময়ে খ্যাতি ও যশের শীর্ষে থাকার পর পরবর্তীকালে টেলিভিশন অথবা সিনেমার পর্দায় অনুপস্থিতি, খুব নামীদামি শিল্পীও মেনে নিতে পারেন না। ফলে হতাশা আর অবসাদ, যা থেকে মৃত্যুর হাতছানির কবলে পড়ে কেউ কেউ।
মেয়েরা যখন কাজের দুনিয়ায় পা রাখে তখন পরিবারের উচিত তাকে বাড়তি সহযোগিতা প্রদান করা। যেসব মেয়ে কোনও পেশায় যুক্ত থাকায় পরেও বাড়ির লোকজন এবং বন্ধুবান্ধবদের হাতটা ধরে থাকে, তাঁদের ছোটখাট সমস্যাও যতটা সম্ভব অন্যদের জানায় এবং অন্যের সাহায্য বা পরামর্শ নেয়, পেশার জগতে শত প্রতিকূলতায় তারা ভেঙে পড়ে না। নিজেদের অবসাদ থেকে দীর্ঘ সময় মুক্ত রাখতে পারে। 
অতএব মনখারাপ হলে, সময় খারাপ চললে আগে পরিবারের লোকের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁরাই আপনার আশ্রয় প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার শক্তি।

2nd     June,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ