বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

জিম  শুরুর আগে
কী কী পরীক্ষা?

পরামর্শ দিচ্ছেন মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট হার্ট সার্জেন ডাঃ কুণাল সরকার এবং অ্যাপোলো গ্লেনিগলস হাসপাতালের বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল।

কন্নড় অভিনেতা পুনীত রাজকুমার। মুম্বইয়ের মডেল-অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্ল। বেঙ্গালুরুর আইটি কর্মী বিনয়া বিত্তল। এঁদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে দিয়েছে আকস্মিক মৃত্যু। তিনজনেরই অকালে চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে উঠে আসছে অতিরিক্ত শরীরচর্চা। তাহলে কি এক্সারসাইজ করাটা ভুল? না, তা আমরা একেবারেই বলছি না। বরং ফিট থাকতে গেলে তো এক্সারসাইজ করতেই হবে। এটুকু আমরা জানি। কিন্তু যা জানি না তা হল, সেই এক্সারসাইজ করার আগেও কিছু করণীয় থাকে। এখনকার যুগে কিন্তু কিশোর কিশোরীরাও তাদের ফিটনেস আর ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি নিয়ে সচেতন। তবে এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার। যে  কেউ নতুন করে জিম বা এক্সারসাইজ শুরু করলে তাঁকেও বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
কী কী মনে রাখবেন?
• আমাদের  দেশে জন্মের পর পর শিশুদের বেসিক কিছু শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা হয়। কিন্তু তারপর থেকে জীবন একেবারে স্কুল-কলেজ আর কেরিয়ারের তারে বাঁধা। অসুখবিসুখ না হলে চট করে সন্তানের শারীরিক পরীক্ষা কেউ করান না। কিন্তু এই অভ্যাস ভালো নয়। নিয়ম করে বছরে একবার অন্তত লিপিড প্রোফাইল, একটি ইসিজি বা ইকো করে রাখা ভালো। কিশোর-কিশোরীরা জিমে ভর্তি হলে বা বয়স ২৫-৩০ পেরিয়ে যাওয়ার পর জিমে যাওয়া শুরু করলে অবশ্যই হিমোগ্লোবিন, সুগার, লিপিড প্রোফাইল, থাইরয়েড এগুলো পরীক্ষা করান। একটি ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম করুন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি সম্মতি দিলে তবেই জিমে যাওয়া শুরু করুন। প্রয়োজন বুঝলে তিনি ট্রেডমিল টেস্টও করে নিতে পারেন। 
• পরিবারে যদি হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, নিজে কোনওদিন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওবেসিটির মতো সমস্যা যদি থাকে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর জিমে যান। 
• সাধারণ মানের কিছু এক্সারসাইজ, যেমন সাইক্লিং, জগিং, হাঁটাহাঁটি, যোগাসন এগুলো শুরু করার আগে তেমন কোনও শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। তবে কতক্ষণ এগুলি অভ্যাস করবেন, তা জেনে নেওয়া উচিত। 
জিম বা এক্সারসাইজের সময়সীমা
সাধারণত একজন মানুষ সপ্তাহে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করলেই যথেষ্ট। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচদিন রোজ ৩০ মিনিট করে চলুক জিম বা শরীরচর্চা। এগুলোর মধ্যে ট্রেডমিল, জগিং, সাইক্লিং সবই পড়ছে। শারীরিক কোনও অসুবিধা না থাকলে, চিকিৎসক অনুমতি দিলে সপ্তাহে দু’দিন পুশ আপ, পুল আপ, ওয়েট ট্রেনিং চলতে পারে। সেটাও দু’দিনে মোট ৩০ মিনিটের বেশি করার দরকার নেই। অভিনেতা বা স্পোর্টসম্যানরা নিজস্ব চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করবেন।
কেন হঠাৎ মৃত্যু?
জিম করতে করতে আকস্মিক মৃত্যুর নানা কারণ থাকতে পারে।
কারও কারও হার্টের নানা সমস্যা থাকে। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা থাকতে পারে। হার্টের দেওয়াল পুরু বা কার্ডিয়োমায়োপ্যাথিও থাকতে পারে। এইসব অসুখ সম্পর্কে না সচেতন হয়েই অনেকে জিম করেন। এগুলোর জন্যই জিম শুরুর আগে হার্টের পরীক্ষা দরকার।
কখন বুঝবেন সীমা ছাড়াচ্ছেন?
ওজন কমুক বা পেশি বাড়ুক ধীরে ধীরে বিজ্ঞানসম্মতভাবে। এক্সারসাইজ করতে গিয়ে হয়তো দেখছেন ক্লান্তি বাড়ছে, ঘুম কমে যাচ্ছে, মেজাজ ভালো থাকছে না, এক্সারসাইজের ফলে হওয়া ব্যথা-বেদনা দীর্ঘদিন ধরে থেকেই যাচ্ছে, সর্বোপরি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এগুলোর যে কোনও একটা ঘটলেও সতর্ক হতে হবে। 
মেনে চলুন
• কোনওভাবেই অতিরিক্ত এক্সারসাইজ নয়।
• খুব গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় জিম-শরীরচর্চা করবেন না।
• দু’টি এক্সারসাইজের মধ্যে যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম থাকে।
• শরীরের জলের অভাব নয়।
• ওয়ার্ম আপ না করে কোনওদিন এক্সারসাইজ শুরু করবেন না।
• উপযুক্ত ট্রেনারের অধীনে শরীরচর্চা করুন। 
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

26th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ