বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

এই গরমে কতটা জল
পান, কখন ওআরএস?

পরামর্শে রুবি জেনারেল হাসপাতালের বিশিষ্ট জেনারেল ফিজিশিয়ান ডাঃ আশিস মিত্র

শরীরে জলের কাজ কী?
 শরীরের শতকরা ৬০ ভাগই জল। 
 জল হজমে সাহায্য করে।
 কোষের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করে।
 ত্বক তরতাজা রাখে।
 মূত্রের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়।
 লিভার, কিডনি, ফুসফুসের কাজে সাহায্য করে।
 শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে।
 রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।
 ওজন কমাতে সাহায্য করে।
 শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছতে সাহায্য করে।

কোন বয়সে কতটা জলপান?
১. বাচ্চাদের ওজন ৩ কেজি থেকে ১০ কেজি-এর মধ্যে হলে, প্রতি কেজি পিছু ১০০ এমএল জল পান করাতে হবে। অর্থাৎ বাচ্চার ওজন ৭ কেজি হলে সারাদিনে ৭০০ মিলি জল খেতে হবে।
২. ১১ কেজি থেকে ২০ কেজি ওজনের বাচ্চার ক্ষেত্রে সারাদিনে জলের প্রয়োজন ১০০০ মিলি + ৫০ মিলি (প্রতি কেজি ওজন পিছু)। অর্থাৎ বাচ্চার ওজন ১০ কেজির বেশি হলে তাকে ১ লিটার জল পান করাতেই হবে। সেইসঙ্গে দশের উপরে যত কেজি ওজন বেশি হবে, তার সঙ্গে ৫০ এমএল জল গুণ করতে হবে। অর্থাৎ ১৬ কেজির ওজনের বাচ্চার জলের দরকার  ১০০০ মিলি + ৫০x৬ =১৩০০ মিলি।
৩. ২০ কেজি ওজনের বেশি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা হবে, ১৫০০ মিলি + ২০ মিলি/প্রতি কেজি (২০ কেজির ওপরে যত কেজি হবে)। অর্থাৎ ২৫ কেজি ওজনের বাচ্চার জলের দরকার ১৫০০ মিলি + ২০x৫= ১৬০০ মিলি। 
৪ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ: সারাদিনে ৩ লিটার বা ১৪ গ্লাস জল যথেষ্ট। গরম বেশি পড়লে সর্বাধিক ৩.৫ লিটার।
৫. প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা: সারাদিনে ২.২ লিটার জল পান করলে চলবে অর্থাৎ ১০ গ্লাস। গরম বেশি থাকলে সর্বাধিক ২.৭ লিটার।
অনেকসময় এই নিয়ম মেনে জল পান করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যাঁরা বাইরে কাজে বের হন বা বাইরে ঘুরতে হয়, তাঁদের পক্ষে এই পদ্ধতিতে জলপান করা অনেকসময়ই অসম্ভব। তাঁদের লক্ষ্য হবে, প্রস্রাবের রং যেন পরিষ্কার হয়। সোজা কথায় জল তেষ্টা পেলে, জল খেয়ে নিন।

কখন মেপে জল খাবেন?
১. হার্টের রোগ থাকলে বিশেষত হার্ট ফেলিওর-এর সমস্যা থাকলে, হার্ট ঠিকমতো পাম্প করতে পারবে না। সর্বাধিক ১.৫ লিটার পর্যন্ত জল পান করতে পারেন। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করুন।
২. কিডনির সমস্যা থাকলে। অর্থাৎ কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গেলে, জল না বেরিয়ে শরীর জমতে থাকবে।
৩. শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে। রক্তে সোডিয়াম কম মানে, আপনার শরীরে জলের মাত্রা বেশি হয়ে গিয়েছে।

কীভাবে বুঝবেন যে জল বেশি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে?
 পা, চোখের নীচের অংশ ফুলে যাবে 
 ওজন বেড়ে যাবে 
 শ্বাসকষ্ট শুরু হবে।
কখন স্বাভাবিকের থেকে বেশি জল খাবেন?
 বমি হলে  ডায়ারিয়া হলে  অস্বাভাবিক গরম পড়লে  যাঁদের দৈহিক কাজ বেশি বা রোদে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে শুধু জল না খেয়ে, ওআরএস খাওয়াটা বেশি স্বাস্থ্যকর। মনে রাখবেন জলীয় পদার্থ মানেই জল নয়। তাই তেষ্টা মেটাতে কোল্ড ড্রিঙ্ক সোডা না খেয়ে জল বা ওআরএস খান। নিতান্তই না পেলে ফ্রুট জ্যুস চলতে পারে।

কতটা ওআরএস
একটি প্যাকেটে ২১ গ্রাম ওআরএস থাকে। ১ লিটার জলে এই পরিমাণ ওআরএস গুলে পান করতে হয়। কে কতটা ওআরএস পান করবেন তা ডিহাইড্রেশনের পর্যায়ের উপরেও খানিকটা নির্ভর করে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির ডিহাইড্রেশন মৃদু, মাঝারি নাকি তীব্র তা বুঝতে হবে। 
মৃদু ডিহাইড্রেশনে সারাদিনে ৩ লিটার জলে ৩ প্যাকেট ওআরএস গুলে খেলেই হবে। মাঝারি ধরনের ডিহাইড্রেশনে রোগী বমি করেননি এমন হলে, ৩-৪ লিটার জলে ৪-৫ প্যাকেট ওআরএস গুলে পান করাতে হবে সারাদিনে। নজর রাখতে হবে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির দিকে। তীব্র ডিহাইড্রেশনে রোগীকে ওআরএস পান না করিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে ও স্যালাইন দিতে হবে। এছাড়া এই গ্রীষ্মে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে ঘোরাঘুরি করতে হলে এক লিটার জলে এক প্যাকেট ওআরএস গুলে অল্প অল্প করে পান করতে পারেন।
বাচ্চাদের ওআরএস: শিশুদেরও ওআরএস পান করানো যেতে পারে।

কাদের ওআরএস নয়?
হার্ট ফেলিওরের রোগী, কিডনির অসুখের রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগীর চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ না করে ওআরএস পান করানো যাবে না।

 

28th     April,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ