বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

একসঙ্গে খাবেন না
কোন কোন খাদ্য?

সুনন্দা ঘোষ  ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান  আমরি ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড হর্মোনাল ডিজঅর্ডার

পুজো একেবারে চৌকাঠে। আকাশে বাতাসে ভেসে বেরাচ্ছে আগমনির সুর। এমন আনন্দঘন পরিবেশে ঘরে ঘরে করোনা বিধি মাথায় রেখেই চলছে শেষ মুহূর্তের পুজো প্ল্যানিং। ঘোরা, আড্ডা, হইহুল্লোড়— সবই হবে নিয়ম মেনে। সঙ্গে পরিবারের সকলে মিলে ভালোমন্দ খাওয়াদাওয়াও বাদ যাবে না। তবে মুশকিলটা কোথায় জানেন, এই যে আমাদের খাবার নিয়ে নানান অভ্যেস রয়েছে, তার একেবারে গোড়াতেই রয়েছে গলদ। আমরা এমন বহু খাবার পরপর বা একসঙ্গে খেয়ে ফেলি, যা খাওয়া একেবারেই অনুচিত। পরপর বা একসঙ্গে এই খাবারগুলি খেলে তাৎক্ষণিক পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, বমিবমিভাব, বমি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেখা দিতে পারে ক্রনিক হজমের সমস্যা, দুর্বলতা, ইমিউনিটি কমে যাওয়া সহ নানান জটিল সমস্যা। তাই খাবার সম্বন্ধে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন হওয়া উচিত। এই ধরনের সামান্য সচেতনতা শুধু এবারের দুর্গাপুজো নয়, গোটা বছরই আমাদের সুস্থ, প্রাণবন্ত থাকতে সাহায্য করবে। 
১. দুধ চা— চায়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের পক্ষে দারুণ উপকারী। কিন্তু মুশকিল হল, চায়ে দুধ মেশালে দুধের মধ্যে থাকা প্রোটিন চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সঙ্গে জুড়ে যায়। ফলে শরীর চায়ের বেশিরভাগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে গ্রহণ করে না। চায়ের গুণটাই মোটের উপর নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া চায়ে দুধ মেশানোর ফলে হজমেরও সমস্যা হতে পারে। তাই বলি, চায়ে দুধ মেশানোর অভ্যেসটা ছাড়ুন। বরং লেবু মেশাতে পারেন। লেবু মেশালে চায়ের গুণ কমে না। স্বাদবদলও হয়। 
২. খাবারের সঙ্গে ফল— সকাল বা দুপুরের ভারী খাবার খেতে খেতে ফল খাওয়া বা খাবার পরপরই ফল খাওয়ার অভ্যেস একদমই ভালো নয়। আসলে ভারী খাবার হজম হতে ফলের তুলনায় বেশি সময় নেয়। এই দুই ধরনের খাবারের হজমের সময়ের তারতম্যের কারণে ফল পেটের অন্দরে ফারমেন্ট হতে শুরু করে দেয়। এই কারণে ফলের অন্দরের পুষ্টিগুণ শরীর ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারে না। পাশাপাশি ফারমেন্টেশনের কারণে পেট ফেঁপে যেতে পারে। তাই খাবারের অন্তত আধ থেকে এক ঘণ্টা বাদে ফল খান।
৩. দইয়ের সঙ্গে ফল— শেষপাতে দইয়ের সঙ্গে ফল মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যেস থাকলে আজই ছাড়ুন। ফলের মধ্যে থাকা অ্যাসিড দইয়ের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। হতে পারে ফুড অ্যালার্জিও।    
৪. কোল্ডড্রিংকস ও পুদিনা পাতা— কোল্ডড্রিংকসের সঙ্গে পুদিনা মেশানো শরবত পান এড়িয়ে যাওয়াটাই মঙ্গল। কোল্ডড্রিংকস-পুদিনা মেশানো পানীয় খেলে পেটের অন্দরে বিক্রিয়া হয়। এই বিক্রিয়া থেকে পেট ফাঁপা, গ্যাস, হজমের গোলযোগ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. পিৎজা ও কোল্ডড্রিংকস— কম্বো অফারে পিৎজা ও কোল্ড ড্রিংকস কিনে জমিয়ে রসনাতৃপ্তি করা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, খাবারের এই কম্বিনেশনও শরীরের পক্ষে খারাপ। পিৎজায় প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ ও প্রোটিন থাকে। অপরদিকে কোল্ডড্রিংকসে রয়েছে ভালো পরিমাণ চিনি। পেটের অন্দরে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ, প্রোটিন ও চিনির মিলন হজম প্রক্রিয়াকে খুব ধীর করে দেয়। পেট ব্যথা হতে পারে। 
৬. চিজ ও বিনস— রেস্তোরাঁর বহু কন্টিনেন্টাল খাবারে চিজ ও বিনস একসঙ্গে দেওয়া থাকে। এখন বাড়িতেও বহু রান্নার পদে এই দু’টি খাদ্যবস্তুকে একসঙ্গে মেশানো হয়। আবার অনেক সময়ই হয় যে চিজ যুক্ত কোনও খাবার খাওয়ার পর বিনসের কোনও পদ খাওয়া হচ্ছে। এই প্রতিটি খাদ্যাভ্যাসই শরীরের ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চিজের মতো দুগ্ধজাত খাবার ও বিনস একসঙ্গে খেলে হজমের নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
৭. ডিম, মাছ, মাংস— ডিম, মাছ, মাংস, এই তিনটি খাদ্যেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এতটা প্রোটিন একসঙ্গে শরীরের প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি এই পরিমাণ প্রোটিন হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং পেটের গণ্ডগোল বাধাতে পারে। তাই খাদ্যগুলি একসঙ্গে বা পরপর খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। 
৮. খেতে খেতে জল পান— খাবার খাওয়ার সময় আমাদের পেটের অন্দরে বেশকিছু রাসায়নিক ও উৎসেচক বেরয়। এই রাসায়নিক ও উৎসেচক খাদ্য হজমে সাহায্য করে। এবার খাবার খেতে খেতে জল পান করলে বা খাবার খাওয়ার পরপরই জল পান করলে হজমে সহায়তাকারী উৎসেচক ও রাসায়নিক জলের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে খাবার হজমে পাকস্থলীকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। হজম হতে বেশি সময় লাগে। তাই খাবার আগে-পরে অন্তত আধঘণ্টা রেখে জল পান করা উচিত।
৯. দুগ্ধজাত খাবার ও অ্যান্টিবায়োটিক— 
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াটাই দস্তুর। তবে মুশকিল হল, অনেকেই দুগ্ধজাত খাবার পরপরই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। এমনটা করলে কিন্তু চলবে না। কারণ অনেক অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে থাকা আয়রন ও ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা দেয়। ফলে দুধের পুষ্টিগুণ অধরা থাকে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাবার আগে পড়ে অন্তত একঘণ্টা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিত। 

লিখেছেন সায়ন নস্কর 

7th     October,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021