বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

হাতের কাছেই আয়ুষে সমাধান

 পরামর্শে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডাঃ সুমিত সুর এবং পিসিএম হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আশিস শাসমল।
 
এ বছরের মতো বিদায় নিচ্ছে শীত। ধীরে ধীরে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। সকালের দিকে বাইরে বেরলে এখন থেকেই গলদঘর্ম অবস্থা। অবশ্য সন্ধে নামতেই শীতল অনুভূতি কিছুটা ফিরছে। সকালে গরম আর সূর্যাস্তে শীত— ঋতু পরিবর্তনের এমন সন্ধিক্ষণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। আর একান্তই সমস্যায় পড়লে ঘরে বসেই কীভাবে রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করবেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
আয়ুর্বেদ 
প্রাচীন আয়ুর্বেদশাস্ত্র মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই এই নির্দিষ্ট সময়ে সুস্থ থাকতে লঘু ও রুক্ষ খাওয়ার খেতে হবে। সহজে বললে, সহজপাচ্য এবং শুষ্ক ধরনের খাবার খাওয়া দরকার। খাদ্য তালিকায় থাকুক গম, পুরনো চাল, লাল চাল, পটল, মুলো, পেঁপে, দইয়ের ঘোল, মধু ইত্যাদি। চলবে না অতিরিক্ত তেল, ভাজাভুজি, টক, প্রচুর মিষ্টি, ঠান্ডা জল পান ইত্যাদি। আহারের পাশাপাশি বিহার, অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও বদল আনতে হবে। যেমন— সারা শরীরে তেল মাখা, দিনে অন্তত একবার উষ্ণ জলে গার্গল করা, দিনে না ঘুমানো, রাত না জাগা ইত্যাদি। এই বিষয়গুলি মেনে চললে মোটের উপর নির্ঝঞ্ঝাটেই সময়টা কেটে যাওয়া উচিত। কিন্তু তারপরও সমস্যা দেখা দিলে, ঘরোয়া উপায়েই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করতে পারেন।
 সর্দি-কাশি— এমন আবহাওয়ায় ঠান্ডা লাগা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। এক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর তিন থেকে চারটি গোলমরিচের সঙ্গে ঘি মিশিয়ে দিনে একবার খেলে সর্দি-কাশি কমে  ঠান্ডা লাগার নানা সমস্যায় তুলসী পাতা দারুণ কার্যকরী। সকালে এক বা দু’টি তুলসী পাতা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া চাইলে গরম জলে তুলসী পাতা ফেলে তুলসীর চা বানিয়েও দিনে দুইবার খাওয়া যায়  শুকনো আদা (শুঁঠ), পিপুল, মরিচ সমপরিমাণে নিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এই মিশ্রণটির নাম হল ত্রিকটূ। এবার দিনে একবার খাওয়ার পর অর্ধেক চামচ ত্রিকটূ চূর্ণ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে নিন। সর্দি-কাশির মতো সমস্যায় যথেষ্ট উপকার মিলবে।
ঋতু পরিবর্তনকালে অ্যালার্জি থেকে অনেকের শ্বাসকষ্টও হয়। এই সমস্যা সমাধানে ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা জলে ফুটিয়ে ভেপার নেওয়া যেতে পারে। চাইলে জলে তুলসী বা পুদিনা পাতা ফুটিয়েও তার ভেপার নেওয়া যায়। এর মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট কমার পাশাপাশি বুকে জমে থাকা কফ বেরয়, গলাব্যথাও কমে। 
 পেট খারাপ— খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম সহ নানা কারণে এই নির্দিষ্ট সময়ে পেট খারাপ লেগেই থাকে। পেট খারাপের সমস্যায় একটি ছোট আকারের পাকা বেলের শাঁস পুড়িয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে খান। এছাড়া তিন-চারটি আয়াপান মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। আবার পাঁচ থেকে ছয়টি থানকুনি পাতা গরম জলে ধুয়ে সকালবেলা খেলেও পেট খারাপের সমস্যা কমে। 
পেট খারাপের সময় হালকা খাবার খান। এড়িয়ে যান শুকনো লঙ্কা। পারলে কাঁচা লঙ্কার বদলে গোলমরিচের ঝাল খান। মশলার মধ্যে পাঁচফোড়ন, আদা পরিমাণ মতো রান্নায় ব্যবহার করুন। সাধারণ লবণের বদলে সৈন্ধব লবণ খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া পেট ভালো রাখতে পটল, ঝিঙে, পেঁপে ইত্যাদি সব্জি খেতে হবে।    
হোমিওপ্যাথি
ঋতু পরিবর্তনের নানান অসুখবিসুখে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা খুবই কার্যকরী। 
ঠান্ডা লাগা— রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় বাচ্চা এবং বয়স্করা এই ধরনের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। ঋতু পরিবর্তনের ঠান্ডা-গরমের কারণে সর্দি-কাশি-জ্বর হলে ব্রায়োনিয়া ৩০ ওষুধটির চার থেকে পাঁচটি দানা অর্ধেক কাপ জলে মিশিয়ে এক চামচ করে এক ঘণ্টা অন্তর খেলে উপকার মেলে  ঠান্ডা হাওয়া লেগে, ঘাম বসে সর্দি-কাশি-জ্বর হলে অ্যাকোনাইট ৩০ ওষুধটি একই নিয়মে খাওয়া যায়  হালকা গরম পড়া মাত্রই অনেক বাচ্চা জল ঘাটতে শুরু করে দেয়। এর থেকে ঠান্ডা লাগলে রাসটক্স ৩০ ওষুধটি ওই একই নিয়মে খাওয়ালে সমস্যা কমে  শুকনো কাশি সঙ্গে গলা খুসখুস করলে একই ডোজে রিউমিক্স ৩০ খাওয়া যায়  শুকনো কাশি হচ্ছে, গরম পেলে ভালো লাগছে— এই পরিস্থিতিতে স্পঞ্জিয়া ৩০ ওষুধটি একই নিয়মে খেলে দারুণ কাজ করে  বুকে সর্দি বসে গিয়েছে, বেরচ্ছে না— এমন পরিস্থিতিতে জাস্টিশিয়া মাদার ওষুধটি পাঁচ ফোঁটা করে দিনে দুইবার খেতে হবে। ওষুধটি হালকা গরম জলে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল মেলে। 
গলা ব্যথা— এই নির্দিষ্ট আবহাওয়ায় বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে টনসিল গ্ল্যান্ড ফুলে যায়। ফলে ঢোক গিলতে গেলে, খেতে গেলে খুবই ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি লালা হয়ে গেলে বেলেডোনা ৩০ ওষুধটির চার থেকে পাঁচটি দানা অর্ধেক কাপ জলে মিশিয়ে এক চামচ করে এক ঘণ্টা ছাড়া ছাড়া বাচ্চাকে খাওয়ালে উপকার মেলে। আর শুধুমাত্র গ্ল্যান্ড ফুলে গিয়ে থাকলে স্টেপটোকক্সিন ২০০ ওষুধটি একই নিয়মে খাওয়ানো যেতে পারে  আবার বড়দেরও ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা হয়। এমন অবস্থায় ছোটদের ডোজেই বড়রাও বেলেডোনা, স্টেপটোকক্সিন খেতে পারেন। 
অ্যালার্জি— ফুলের রেণু, ধুলোবালি থেকে অ্যালার্জিজনিত কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়। এই অবস্থায় আর্সেনিক অ্যালবাম ৩০ ওষুধটির চার থেকে পাঁচটি দানা অর্ধেক কাপ জলে মিশিয়ে এক চামচ করে এক ঘণ্টা ছাড়া ছাড়া খেলে উপকার মেলে। আর নির্দিষ্ট করে ধুলোবালি থেকেই শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বুঝলে (ডাস্ট অ্যালার্জি) পোথোস ৩০ ওষুধটি একই নিয়মে খেতে পারেন। 
কয়েকটি রোগ প্রতিরোধে— এই আবহাওয়ায় চিকেন পক্স, হাম, মাম্পস, কনজাংটিভাইটিস  ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বাড়ে। চিকেন পক্স প্রতিরোধে ভ্যারিসেলা ৩০ বা ভ্যারিওলিনাম ৩০ ওষুধটির চারটি করে দানা দিনে তিনবার করে পাঁচদিন খেলে ভালো ফল মেলে। হাম প্রতিরোধে মর্বিলিনাম ২০০ ওষুধটি একই নিয়মে খেতে পারেন। মাম্পস রোগটির প্রতিষেধক হিসেবে প্যারোটিডিনাম ২০০ ওষুধটি ওই একই ডোজে খেলে ভালো ফল মেলে। ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস প্রতিরোধে ইউফ্রেশিয়া ৩০ ওষুধটি একই ডোজে খেতে পারেন।
মনে রাখবেন, রোগ একটু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছালেই সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অপেক্ষা করবেন না। 
লিখেছেন সায়ন নস্কর

18th     February,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
7th     March,   2021