বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
গল্পের পাতা
 

ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব  ২৬
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে

বোনকে নিয়ে পিশাচসাধুর বাড়িতে হাজির হল সহজ। মিমির অতীত নিয়ে এমন কয়েকটি ইঙ্গিত করলেন তিনি, যার জেরে তার সব কিছু গোলমাল হয়ে গেল। দাদার উপর সব রাগ আছড়ে পড়ল মিমির। এদিকে, সহজ ভাবতে থাকল কীভাবে উদ্ধার করা যায় বঁড়শিকে। তারপর...

‘তুমি ছোকরা একদম সুবিধের নও।’
বিচিত্র ঘোষালের কথায় সহজ হাসার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। বর্ণিনী জানলার বা‌঩ইরে তাকিয়ে। ঘরের ভেতরটা গুমোট। বিচিত্র ঘোষাল খুব জোরে কেশে উঠলেন, বললেন, ‘ওটা পিশাচ— ওখানে মানুষ যায়। ও রক্ত খায়। তুমি কীসের জন্য যাও ওখানে?’ সহজ উত্তর দিল না। বিচিত্র ঘোষাল উত্তর চাইছেন না। ‘বলো কীসের জন্য যাও? বিশ্বাস করো? বলবে তো বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর—।’ 
সহজ বলল, ‘আমি দেখতে চাই।’
‘দেখতে পাবে না। কারণ, ও দেখার জিনিস নয়। ও মনস্তাত্ত্বিক গেম খেলে, ও একজন মানুষের মন নিয়ে নাড়াচাড়া করে, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। ও না-সাধু, না-পিশাচ! কিন্তু ও এমন কাজ করে যা ধন্দ তৈরি হয়। আমি পরমেশ্বরকে বলেছিলাম। একমাস এলাকায় থেকে দেখ— ক’টা মার্ডার অ্যাটেম্প হয়। পরমেশ্বর আমার কথা উড়িয়ে দিল। বলল, দূর দূর, আমার কাজ থাকে তাই যাই। শখ করে, বা কারও ভয়ে যাই না। ব্যস, পরমেশ্বর হল এ এলাকার মহাজন। মহাজন যে পথে করিবে গমন—ভেড়ার দল সেই পথে যাবে। তুমিও ভেড়া।’
সহজ মাথা নিচু করল।
বর্ণিনী বলল, ‘তুই হঠাৎ কেন মিমিকে নিয়ে গেলি? আমাকে একবার জিজ্ঞেস করলি না!’
‘মিমি খুব চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু সিচ্যুয়েশনটা যে এমন হবে বুঝিনি।’
‘এখন কি একটু সামলেছে?’
‘জানি না। চুপচাপ ঘরে বসে আছে। প্রথমে ভেবেছিল, আমি বুঝি কোনও ইনফরমেশন দিয়েছি। কিন্তু যখন ও নিশ্চিত হয়েছে, আমার না-জানা কথাই উনি বলছেন, তখন থেকে মিমি খুব আপসেট।’
‘আবার একটা মাইন্ড গেমের শিকার! উফ আর পারি না, মাঝে মাঝে মনে হয় শয়তানটাকে খুন করে জেলে যাই।’
‘তুমি একটু থামবে, আগে সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়াও, তারপর লড়তে যাবে।’ বর্ণিনী কড়া গলায় ধমক লাগায় বিচিত্রদাকে।
বিচিত্র ঘোষাল বিড়বিড় করলেন, ‘লড়াইটা মাথা দিয়ে লড়তে হবে। চারদিকে সব ভেড়ার দল! বুদ্ধি খাটাবে কে?’
সহজ হাসতে হাসতে বলল, ‘আপনি ওকে খুন করতে পারবেন না বিচিত্রদা, কেন না, উনি বলেছেন ওঁকে মারবে বঁড়শি।’
‘ওর সঙ্গে যে অল্প বয়সি মেয়েটা থাকে—ওর ফোর্থ বউ —।’
‘সাজিয়ে রাখে বউ। চতুর্থ স্ত্রী। কিন্তু বঁড়শি ওর বউ নয়। বঁড়শির সঙ্গে পিশাচের বিয়ে হয়েছে। পিশাচ হচ্ছে মানুষের একটি করোটি!’
‘উফফ ডিসগাস্টিং!’ বিচিত্র ঘোষাল উত্তেজিত হয়ে ঘরের ভিতর ঘুরছেন।
‘ওই পিশাচ-টিশাচ বলে মেয়েটার সঙ্গে ছক করে লিভ ইন করছে—।’ বর্ণিনী সোজা সমাধানে পৌঁছে যায়।
সহজ বলে, ‘না রে ওখানে অনেক গূঢ় কথা আছে। বাদ দে। ওদের জগৎ আলাদা। ওরা দু’জনেই ঘোরে থাকে, শরীর তোর সামনে কিন্তু মন অন্য জায়গায়।’
বর্ণিনী বলল, ‘মিমি আপসেট। কিন্তু তোর ওই ছাত্রীর তো খুব ভালো কাজ দিয়েছে। দুর্দান্ত নাকি পড়াশোনা করছে।’ 
সহজ হাসল। 
‘ফাঁদ! ফাঁদ!’ বিচিত্র ঘোষাল বলে উঠলেন।  
‘মিমিকে কি পদ্মনাভকে নিয়ে নেগেটিভ কিছু বলেছে?’ বর্ণিনী জিজ্ঞেস করল।
‘পদ্মনাভ!’ বিচিত্র ঘোষাল নড়ে উঠল। ‘ওটি একটি অত্যন্ত বাজে ছেলে। শুনলাম, খোকন আর কান-কাটা মণিকে নিয়ে দল পাকাচ্ছে সুজি। সেদিন পরমেশ্বর আমাকে দুঃখ করে বলল, হ্যাঁ সুজিকে আমি সমঝে দেওয়ার জন্য তাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি কখনও ভাবিনি, ও কান-কাটা মণির সঙ্গে হাত মেলাবে। ও অলরেডি বিশ্ব আর হুতুমকে ধরে মেরেছে। আমি ওদের বললাম, চেপে যা সুজি আমাদেরই লোক, একটু সহ্য করে নে। নইলে সেদিনই ওর বাড়ি ঘরদোর ভেঙে লাট করে দিত। পদ্মনাভ ভালো নয়। পদ্মনাভের সঙ্গে তোমাদের কী সম্পর্ক।’
বিচিত্র ঘোষালের প্রশ্নের কেউ উত্তর দিল না। বরং হয়তো ঘুরিয়ে বর্ণিনী উত্তর দিল, ‘শোন, পদ্মনাভ সম্পর্কে পিশাচ সাধু যদি কোনও নেগেটিভ কথা বলে, আর সেটা মেনে নিয়ে মিমি রিলেশনটা ব্রেকআপ করে, তাহলে বলব— শাপে বর হয়েছে।’
বর্ণিনীর কথায় সহজ কোনও উত্তর দিল না। এবার বর্ণিনী হঠাৎ বলে বসল, ‘আমাকে একবার নিয়ে যাবি?’
‘কেন তুই কি ভবিষ্যৎ জানতে চাস, না চোখের দেখা দেখতে চাস?’
‘আমি চেষ্টা করব ওর হাত থেকে মেয়েটাকে বাঁচাতে। যদি মেয়েটা বেরিয়ে আসতে চায়, ওই লোকটার নামে একটা এফআইআর করাতে পারি, বাদবাকিটা আমি বুঝে নেব।’
‘তোমার বাবা পারবে লকআপে ঢুকিয়ে ওই পিশাচটাকে চোর পেটানো পেটাতে,’ বিচিত্র ঘোষাল যেন একটা সমাধান সূত্র পেয়েছেন। ‘তোমার বাবা তো অনেক ভালো মানুষকে ধরে পেটায়, এবার প্রায়শ্চিত্ত করুক।’
সহজ বলল, ‘ওখান থেকে বঁড়শিকে বের করতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম আমি। কিন্তু বের করে আনার কাজটা সহজ নয়।’
‘ওকে কি হিপনোটাইজ করে রেখেছে—?’ বিচিত্র ঘোষাল জানতে চাইল। 
‘হ্যাঁ, একপ্রকার ঘোরেই তো আছে। নাহলে এই বিয়েকে ও মান্যতা দেয় কীভাবে?’
বর্ণিনী ছটফট করে, ‘মেয়েটাকে বের করে আনতেই হবে। তুই আমাকে নিয়ে চ।’
‘তুই পারবি না।’
‘ভুলে যাচ্ছিস কেন আমার বাবা পুলিসে চাকরি করেন। তার ওপর আমার সততা আর সাহস আছে। আমাকে রোখা সহজ নয়।’
সহজের মোবাইল ফোন বাজছে। নচে। ফোন ধরতে ওপার থেকে নচে বলল, সন্ধেবেলায় কারখানা মাঠে যাব। একটু দরকার ছিল। তুই আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিবি। আর রাতেও আমাকে বাড়ি দিয়ে যাবি।
‘আজ সন্ধেবেলা, হয়তো হবে না।’     
‘না হলে, তুই কিন্তু পস্তাবি। আমার খুব দরকার ছিল। আমার মন বলছে— আর সময় নেই। তোকে সব কথা বলতে হবে।’
‘কী যা তা বলছিস?’
‘ঠিকই বলছি। খ্রিস্টানদের ওই যে একটা ঘর থাকে না, যার মধ্যে ঢুকে পেটের কথা খালাস করে।’
‘হ্যাঁ, কনফেশন রুম।’
‘তুই আমার আজ কনফেশন রুম। সব বলে দেব— মা কালী কিচ্ছু লুকাব না। যা মনে আসবে সব বলে যাব। দেখি কোন শালা আমাকে রোখে।’
‘ফালতু কথা রাখ। কারখানা মাঠে যাবি তো— আমি ঠিক সময়ে তোর কাছে চলে যাব।’
ঠিক সময়েই সহজ বাইক নিয়ে গিয়ে দাঁড়াল নচের বাড়ির সামনে। ওকে দেখেই বেরিয়ে এল নচের স্ত্রী আরতি। বলল, ‘দাদা, আপনি ওকে নিয়ে যাচ্ছেন। একটু বোঝাবেন তো।’
কী বোঝাবে সহজ জানতে চাইল না। তার আগেই চাপা গলায় আরতি বলল, ‘তিন দিন ডিউটি যায়নি। কিছু বলতে গেলেই বলছে, শোনো, সরকারি চাকরি, অফিস না-গেলে কারও চাকরি যায় না। কিন্তু আমি না থাকলে তখন চাকরির কোনও মূল্য নেই। এমন সাহসী লোক, ভয়ে এতটুকু হয়ে আছে। ও আগে দু’-দুবার মার্ডার কেস খেয়েছে, তখনও এমন ভয় পায়নি। একবার চাকরি থেকে সাসপেন্ড হয়ে ছিল। তাতেও এমন ভয় পায়নি। কিন্তু এবার যে কেন এমন করছে, বুঝে উঠতে পারছি না। সবকিছু নিয়ে প্যানিক করছে। 
জানেন, রাতে এ-বাড়ির কোনও জানলা খোলা থাকে না। আমি ওকে কতবার বলেছি।  এভাবে পারা যায় বলুন? দেখবেন, দমবন্ধ হয়ে একদিন সবাই মরব। আপনি ওকে একটু বোঝান। ওর জন্য মেয়েটাও সিঁটিয়ে রয়েছে। এত ভয়ে ভয়ে কি বাঁচা যায়।’
সহজ বলল, ‘আমার কথা শুনুন, তেমন মনে হলে ডাক্তার দেখান।’
‘কী পাগলের ডাক্তার। ও যাবে না। আপনি নিয়ে যাচ্ছেন, আপনারা বোঝান, অফিস কেন যাবে না?’
দোতলা থেকে নচে নেমে এল। প্রায় দু’সপ্তাহ পরে দেখা। নচে যেন অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। আসা মাত্রই সহজকে বলল, ‘তাড়াতাড়ি চ। বড্ড দেরি হয়ে গেল।’
বাইকে উঠল খুব সন্তর্পণে। বাইক স্টার্ট দিয়েই সহজ বলল, ‘তুই ঠিক আছিস?’
‘ঠিক নেই। অনেক কাণ্ড ঘটে গিয়েছে।’
‘তুই নাকি অফিস যাচ্ছিস না।’
‘শোন, রোজ এক রুট দিয়ে যাওয়া আসা ভালো কথা নয়। আমার পিছনে লোক লেগে গিয়েছে। যে কোনওদিন খরচা হয়ে যাব।’
‘কে খরচা করবে তোকে?’
‘খরচা করার লোকের অভাব নেই রে। তারা সব দেখছে— আমি রোজ অফিস যাই, আসি। না, না, এটা ঠিক নয়।’
‘তুই ফালতু ভয় পাচ্ছিস, কেউ তোর দিকে এগবে না।’
‘আমার দিন শেষ। দিন শেষ হলে কী হয় জানিস?’
‘আবার তুই ফালতু কথা বলছিস।’
‘কান-কাটা মণির সঙ্গে সুজি গেম সাজাচ্ছে। ওরা সবার আগে আমাকে ওড়াতে চায়। ওরা জানে, আমি পরমদার ডান হাত।’
ওরা কারখানা মাঠে এসে ওঠে।  নচেকে দেখে অনেকেই হইহই করে ওঠে। মাঠে ঢুকে নচে যেন মুক্তির শ্বাস নিল। একটা হাতল ভাঙা চেয়ারে থপ করে বসে পড়ে। একজন বলল, ‘গুরু তোমার নাকি অ্যান্টেনা নড়ে গিয়েছে।’
সহজ বলল, ‘এখান থেকে যা।’
নচে বলল, ‘আমাকে পাগল ভাবছে। তাই না রে সহজপাঠ!’
একজন এসে দুটো মদের গ্লাস রাখল ওদের সামনে। সহজ পকেট থেকে পাঁচশো টাকা বের করে দিল। সে জানে, একটু পরেই কেউ না কেউ এসে টাকা চাইবে। নচে বলল, ‘সহজপাঠ আজ তুই টাকা দিবি না। তোর টাকায় অনেক খেয়েছি। আজ আমি খাওয়াব। এই টাকাটা ফেরত দিয়ে দে।’
সহজ বলল, ‘তুই অন্যদিন খাওয়াস।’
‘না, আজই খাওয়াব। অন্যদিনের সুযোগ যদি আর না আসে।’
ঠান্ডা মাথায় সহজ হাত বাড়িয়ে টাকাটা নিয়ে নিল। নচে বুক-পকেট থেকে দুটো পাঁচশো টাকার নোট বের করে দিল।  বিস্মিত ছেলেটা বলল, ‘গুরু এ তো হাজার।’ 
‘আমি সাবুকে বলেছিলাম, মাংস করতে। ও জানে।’
ছেলেটা লাফাতে লাফাতে চলে গেল।
নচে ফিসফিস করে বলল, ‘আমি টার্গেট। আমাকে ঘিরে নিয়েছে আসিফ, সুবীরদের দল। ওরা আমার জন্য পাড়াছাড়া। ওদের বাপ মা-রা এসে আমার পায়ে ধরেছে। তাও আমি পারমিশন দিইনি। ওরা আমাকে ছাড়বে না। এখন এলাকাতে কান-কাটা মণি, সুজিরা গেম সাজাচ্ছে। আমার ঘরে-বাইরে শত্রু।’
‘শত্রু তোর, না পরমেশ্বরদার?’
ম্লান হাসল নচে, ‘পরমদা মাথা, আমি হাত। ওরা হাত কাটতে চাইছে। পরমদাকে কিছু করার সাহস ওদের নেই। ওর জন্য বড়বাবা লাগবে।’ নচে গ্লাসটা তুলে চোঁ চোঁ করে শেষ করে দিল। বলল, ‘সহজপাঠ আমি সারা জীবনে কত লোকের মাথা ফাটিয়েছি, হাত-পা ভেঙেছি মনে নেই। আমি ক’দিন আগে একটা খাতায় নাম লিখছিলাম। তোর বউদি এসে ঝামেলা পাকাল। খাতাটা টেনে ছিঁড়ে ফেলে দিল। শুধু বাড়ি পুড়িয়েছি সতেরোটা। আর মানুষ মেরেছি—।’
সাবু আর একটা ছেলে আসে। দুটো জায়গায় মাংস, কটা রুটি, শসা পেঁয়াজ আর জলের জায়গা দিয়ে যায়। সঙ্গে একটা বোতল। বলে, ‘গুরু তোমরা তো মনে হয় আমাদের দিকে যাবে না। তাই দিয়ে গেলাম। এখানে শান্তিতে বসে খাও। আমি তোমাকে বাড়ি ছেড়ে আসব। এখানে ভয়ের কিছু নেই। এখানে অ্যাটাক হবে না।’ সব জিনিস গুছিয়ে শেষকথাটা বলার সময় সাবু হাসছিল। হঠাৎ তড়াক করে লাফিয়ে উঠল নচে। ‘তুই কি আমাকে আওয়াজ দিচ্ছিস। অ্যাটাক হবে মানে কী? শোন আমি যদি মনে করি, এখনই সুজি বা কান কাটার বাড়িতে ঢুকে গুলি করে আসতে পারি। সে ক্ষমতা আমার আছে।’
‘তুমি দাদার থেকে পারমিশন নাও। আমরাও তোমার সঙ্গে যাব। এখানে কুড়িটা ছেলে আছে। আজ এলাকায় কালীপুজো বানিয়ে দেব। ফোন মারো দাদাকে, একবার বলে দাও—’
সহজ বুঝল তাতানোর পালা চলছে। এখন মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। সে বলল, ‘একটু আগেই আমার সঙ্গে পরমেশ্বরদার কথা হয়েছে। সবাইকে আনন্দ করে বাড়ি চলে যেতে বলেছে। কেউ একটুও হুজ্জতি করলে তার দায় নেবে না।’
সাবু ফ্যাকাসে মুখে নচের দিকে তাকিয়ে চলে গেল।
সাবু চলে যেতেই নচে বলল, ‘পরমদা আমার সঙ্গে কথা বলে না। সেদিন বাড়ি এসে বলল— যা, বউ মেয়েকে নিয়ে এক সপ্তাহ পুরী থেকে ঘুরে আয়। আরতির হাতে টাকা দিয়ে গেল।’ নচে গ্লাসে মদ ঢেলে জল মেশায়। দু-তিন চুমুকে শেষ করে দেয়।
‘খুব ভালো বলেছে।’
‘আমি যাব না, মরলে এখানে মরব। এখন আমার দায় কেউ নেবে না। আমিও চাই না কেউ আমার দায় নিক। আমি যা খুন করেছি, পার্টির জন্য করেছি। পার্টিকে ভালোবেসে। আমার কোনও পাপ নেই। আমি পার্টির নির্দেশ মেনেছি। শুধু একটা খুন—।’
নচে আবার গ্লাসে মদ ঢালে। সহজ বলে, ‘এত ঢালছ কেন?’
নচে জল না মিশিয়ে গ্লাসে চুমুক দিল।  ‘শুধু একটা খুন, তাকে আমি চিনি না।  টাকা নিয়েছি।’ কান্না চাপতে চাপতে নয় অদ্ভুতভাবে হাঁসফাঁস করতে করতে নচে বলল, ‘টালির বাড়ি ছিল ওই টাকায় দোতলা করেছি। এটাতেই আমার পাপ লেগেছে, বড্ড পাপ!’
সহজের মনে হল নচের গলায় কেউ ফাঁস পরিয়ে টানছে। 
‘ওই বাড়িতে আমি থাকি কী করে!’
 (চলবে)

22nd     August,   2021
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021