বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

ঋষি সুলভ
 

বাঙালি রেস্তরাঁর ওয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী। সেই চমকপ্রদ উত্থানের নেপথ্য কাহিনি লিখলেন মৃণালকান্তি দাস। 

সাউদাম্পটন ডকের কাছেই রয়েছে এক বাঙালি রেস্তরাঁ। কুটি’স ব্রাসারি। ১৯৯৮ সালে এখানে ওয়েটার হিসেবে যোগ দেন ঝকঝকে এক যুবক। কাজের ফাঁকেই একদিন তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন মালিক কুটি মিয়া। তারপরই বলতে বাধ্য হন, ‘জীবনে একদিন তুমি বড় কেউ হবে।’ জবাবে ট্রেডমার্ক স্মিত হাসি ছিল যুবকের ঠোঁটে। ভুল বলেননি কুটি। সদ্য ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন ওই যুবক—ঋষি সুনাক।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মুকুটে জুড়েছে সাফল্যের হরেক পালক। কিন্তু ফেলে আসা অতীত ভুলে যাননি ঋষি। শিকড়ের টান। যে টানের কথা শোনা গিয়েছিল গত ৮ জুলাই। আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের নাম সগর্বে ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের এক যুবতীর গল্প বলব। যিনি প্রায় এক যুগ আগে উন্নত জীবনের আশায় বিমানে চড়েছিলেন। সেই তরুণী ব্রিটেনে এসে চাকরিও পান। কিন্তু স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার পাতার মতো অর্থ সঞ্চয় করতে তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় আট বছর। সেই সন্তানদের একজন আমার মা। যিনি কঠোর পরিশ্রম করে ফার্মাসিস্ট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তারপর, বাবার সঙ্গে দেখা। সাউদাম্পটনে শুরু সংসার। তবে, গল্পটি শেষ হয়নি। কারণ, সেখান থেকে শুরু হয় আমার গল্প। আমার পরিবার আমাকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে...।’
স্বপ্ন দেখতে দেখতেই বড় হয়েছেন ঋষি সুনাক। কঠোর পরিশ্রম ও লেখাপড়া—এটাই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের মূল পুঁজি। ভাগ্যান্বেষণে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন দাদু-দিদা। মা উদয়াস্ত খাটতেন নিজেদের ফার্মেসিতে। ঋষির যাত্রা শুরু সাউদাম্পটন জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সেই দোকানেই। কাজ বলতে সাইকেলে চেপে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা অবশ্য কোনও দিনই খুব খারাপ ছিল না। ২১ বছর বয়সে মা–বাবা লন্ডনে একটি ফ্ল্যাটও কিনে দিয়েছিলেন। তবুও ছাত্রাবস্থায় কুটি মিয়ার রেস্তরাঁয় ওয়েটারের কাজ করতেন ঋষি। হাতখরচের টাকা মিলত। সঙ্গে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলার উপরি পাওনা। কথা বলতে বরাবরই পটু অক্সফোর্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী। পড়া শেষে কর্মজীবন শুরু ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার হিসেবে। ‘গোল্ডম্যান স্যাকস’-এর মতো সংস্থায় বিশ্লেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। সেই চাকরি ছাড়েন ২০১৫ সালে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পা দেওয়ার আগেই।

অক্ষতার প্রেমে...
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়তে গিয়েছিলেন ইনফোসিসের অন্যতম কর্তা এন আর নারায়ণ মূর্তির মেয়ে। সেখানেই ফ্যাশন ডিজাইনার অক্ষতার সঙ্গে আলাপ। ঋষি তখন অক্সফোর্ড থেকে প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি নিয়ে স্কলারশিপে এমবিএ পড়তে আসা উজ্জ্বল, সম্ভাবনাময় এক ছাত্র। প্রথম আলাপেই ভালো লাগা। শোনা যায়, এক কফি শপে দীর্ঘ আলাপচারিতার পর তাঁরা হাতে হাত রেখে বাকি পথ চলার সিদ্ধান্ত নেন। এক সাক্ষাৎকারে ইনফোসিস কর্তা নারায়ণ মূর্তি জানিয়েছিলেন, প্রথমে ব্যাপারটা তাঁর খুব একটা পছন্দ হয়নি। ব্রিটিশ জামাই কেমন হবে তা নিয়েই ছিল সংশয়। কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই আত্মবিশ্বাসী ও সুদর্শন ঋষিকে ভালো লেগে যায়। এরপর বছর কয়েক চুটিয়ে প্রেম। ২০০৯ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন অক্ষতা-ঋষি। সেই পার্টি হয়েছিল কুটি মিয়ার রেস্তরাঁতেই।

সুখী সংসার...
দুই মেয়ে কৃষ্ণা, অনুষ্কা এবং পোষ্য নোভাকে নিয়ে সুখের সংসার সুনাক দম্পতির। তবে রাজনৈতিক পরিকল্পনা থেকে ব্যক্তিগত জীবন— কোনও কিছুই বাইরে আসতে দেন না তাঁরা। ঋষি এমনিতে অবশ্য স্বল্পাহারী। তবে মিষ্টি খেতে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। সবচেয়ে পছন্দ এক ধরনের মেক্সিকান ঠান্ডা পানীয়। মাঝেমধ্যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংও করেন। তবে খাবারে থাকে গ্রিক ইয়োগার্ট, ব্লুবেরি।
সাইকেলে চেপে ঘোরা ‘সুনাক ফার্মেসি’র ছেলেটি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কে বলবে ঋষির রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ঘটেছে স্রেফ গত সাত বছরে।
এই সাফল্যের মূল মন্ত্র কী? ঋষি বলেন, ‘অবশ্যই পরিশ্রম...।’ 

6th     November,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা