বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

অন্য আশা

আশা ভোঁসলের গান নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। কিন্তু গায়িকা ছাড়াও তাঁর একাধিক সত্তা রয়েছে। তিনি একাধারে মা, বাড়ির গৃহিণী, আবার ঠাকুরমাও। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নব্বইয়ে পা দিচ্ছেন আশা। তাঁর জীবনের অন্যদিকগুলির উপর আলো ফেললেন স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী।
 
মাহিমের হাইরাইজগুলোর ফাঁক দিয়ে ভোরের নরম আলো এসে লুটোপুটি খাচ্ছে আরব সাগরের তীরে। মাহিম আর মাতুঙ্গার মধ্যিখানে সিটি লাইট বাজারে শুরু হয়েছে মুম্বইকরদের আনাগোনা। মাছ নিয়ে বসা জেলেনিদের ঘিরে ছোটখাট জটলা। কাটিং চায়ের গ্লাস হাতে নিয়ে হাই তুলছেন অনেকে। এরই মধ্যে কয়েকজনের নজর আটকে গেল এক মাছের দোকানে। মাছওয়ালির সঙ্গে দরাদরি করছেন এক প্রবীণা। যে কোনও বাজারেই এ খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু এই প্রবীণা তো যে সে ব্যক্তি নন। অনেকেই চোখ কচলে নিলেন। ঘুমলাগা চোখে ভুল দেখছেন না তো! নাঃ ভুল নয়।  প্রবীণার পাশে ভিড় জমতে শুরু করেছেন ততক্ষণে। কিন্তু মহিলা নির্বিকার। অনেক বাছাবাছি দরদাম করে মাছ নিয়ে ভিড়টার দিকে আলতো হাসি ছুড়ে দিয়ে উঠে পড়লেন অপেক্ষমান দামি গাড়িটায়। তাঁর পিছনে বাজারের থলি হাতে দুই সাহায্যকারী। 
শুধু মাতুঙ্গার বাজারে নয়। ক্রফোর্ড মার্কেট কিংবা প্রার্থনা সমাজের বাজারেও এইরকমই অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেক মুম্বইবাসীর। আসুন মহিলার সঙ্গে পরিচয় করা যাক। ইনি আশা ভোঁসলে। বছর তিন-চারেক আগেও মাসে দু’-একবার আশাজিকে মুম্বইয়ে বিভিন্ন বাজারে দেখা যেত। আসলে রাঁধতে আর খেতে যে খুব ভালোবাসেন তিনি। খাওয়াতেও। আশাজির ভাষায় দু’টি জিনিস ঘিরে ওঁর জীবন আবর্তিত হয়। সে দু’টি হল, ‘গানা ঔর খানা’। কিন্তু তাই বলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন গায়িকা নিজে ঘুরে ঘুরে বাজার করছেন, আমাদের দেশে এ কথা ভাবা যায়! আসলে নিজের অতীতকে ভুলে যাননি আশাবাঈ। একসময় বহু কষ্ট করেছেন। মুম্বই থুড়ি সেই সময়ের বম্বের শহরতলি থেকে ট্রেনে চেপে এসে সিনেমার প্রোডিউসার আর মিউজিক ডিরেক্টরদের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াতেন। লতা মঙ্গেশকর, গীতা দত্তদের ছেড়ে দেওয়া গানগুলি গাইতেন। বাড়িতে তিনটি সন্তান, তাঁদের পড়াশোনা সহ ভরণপোষণের সব দায়িত্ব যে তাঁরই! ওই লড়াইয়ের সময়েই আলাপ কিশোরকুমারের সঙ্গে। বহুদিন দু’জনে মহালক্ষ্মী স্টেশনে একসঙ্গে চা আর বড়াপাও দিয়ে টিফিন সেরেছেন। বড়াপাও এখনও আশাজির অন্যতম প্রিয় খাবার। তবে, ঘন দুধের চা আর খান না শারীরিক কারণে। নব্বই হতে চলেছে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। যে কারণে খাওয়াদাওয়াও খুব মেপেঝুপে করেন। খাওয়াদাওয়ার পুরনো অভ্যেস বদলালেও দুটো অভ্যেস কিন্তু এখনও এই নব্বই বছর বয়সেও বজায় রেখেছেন তিনি। সে দু’টি হল— ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা আর রেওয়াজ করা। মোটামুটি চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে ঘুম ভাঙে তাঁর। তারপর ঘণ্টাখানেক রেওয়াজ। রেওয়াজ হয়ে গেলে স্নান সেরে পুজো। সেখানেও ঘণ্টাখানেক সময় যায়। তারপর যাবতীয় বাইরের কাজ। ইদানীং অবশ্য চট করে বাইরে বের হন না। করোনার সময় থেকে তো ফাংশনও প্রায় বন্ধ। খুব উচ্চমহল থেকে অনুরোধ না এলে চট করে ফাংশন করতে আর রাজি হন না। মূলত ছেলে, নাতি-নাতনিদের আপত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। করোনার সময় তো টানা দু’ বছর ছেলে ও নাতি-নাতনিদের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। প্রথমবার কোভিড যখন আতঙ্কের স্রোত বইয়ে দিয়েছিল মানুষের শিরদাঁড়ায়, তখন আশাজিকে কোথাও বেরতে দিতেন না ছোটছেলে আনন্দ। মুম্বইয়ে করোনায় যখন মানুষ মারা যাচ্ছেন, তখন আশাজি পরিবার নিয়ে চলে গিয়েছিলেন মহাবালেশ্বরে তাঁর বাংলোবাড়িতে। কয়েক সপ্তাহ চার বোন (লতা, আশা, ঊষা ও মীনা) মিলে সেখানেই কাটিয়েছিলেন। বাকি তিন বোন একসময়ে পেডার রোডের প্রভুকুঞ্জে নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরে গেলেও আশাজি কিন্তু মহাবালেশ্বরেই থেকে গিয়েছিলেন আরও অনেকদিন। তখন রেকর্ডিংও করতে দিতেন না আনন্দ। কিন্তু গান যাঁর প্রাণবায়ু তাঁকে আটকে রাখা কি সম্ভব! ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে মুম্বই যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাঁপছে, তখন আশাজি বলতে গেলে বাড়ি থেকে প্রায় পালিয়ে এসে রেকর্ড করেছিলেন একটি বাংলা গান। সুরকার মনোজিৎ গোস্বামী শুনিয়েছেন সেই গল্প। ছোটছেলে আনন্দ তখন দুবাইয়ে গিয়েছেন কাজে। সেই সুযোগে অনুগত ড্রাইভারকে রাজি করিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে এসেছিলেন পঞ্চম স্টুডিওতে। পইপই করে মনোজিৎ ও পঞ্চম স্টুডিওর সাউন্ড ইঞ্জিনিয়র দর্পণ আগরওয়ালকে সাবধান করে দিয়েছিলেন, ‘খবরদার আনন্দ যেন জানতে না পারে যে, আমি গান রেকর্ড করতে এসেছি, তাহলে অনর্থ হয়ে যাবে।’ তারপর বেশ কয়েকটি টেকের পর সুরকারের মনোমতো করে গান রেকর্ড করে তবেই ফিরেছেন বাড়িতে। 
সাধারণত রাত আটটার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া সেরে শুয়ে পড়েন আশাজি। তবে, একসময় পঞ্চম অর্থাৎ রাহুলদেব বর্মনের কল্যাণে সে অভ্যেস প্রায় ভুলতে বসেছিলেন। কারণ, আর ডি ছিলেন বন্ধুবৎসল। বন্ধুদের ডেকে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। মাঝেমধ্যেই তাঁর বাড়িতে বসত খাওয়াদাওয়া আর আড্ডার আসর। আর সেই আসরের অতিথিরা প্রায় সবাই ছিলেন নিশাচর। আমন্ত্রিতদের তালিকায় থাকতেন মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির হু’জ হু-রা। শাম্মি কাপুর, রণধীর কাপুর, ঋষি কাপুর, দেব আনন্দ, অমিতাভ বচ্চন, কাকা অর্থাৎ রাজেশ খান্না, গুলজার, শচীন ভৌমিক, নাসির হুসেন, শক্তি সামন্ত, রাহুল রাওয়াল, শৈলেন্দ্র সিং, কিশোরকুমার, অমিতকুমার এছাড়া তাঁর মিউজিক হ্যান্ডসের কয়েকজন। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই আসতেন সপরিবারে। রাহুল হঠাৎ করে এসে আশাকে বলতেন, ‘আজ কয়েকজন খাবে বুঝলে।’ আশাজি অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতেন, কয়েকজন মানে কম করে চল্লিশজন তো হবেই। নিমন্ত্রিতরা সবাই আসতেন রাত ন’টা-দশটা নাগাদ। পার্টি চলত রাত দুটো-আড়াইটে পর্যন্ত। ব্যতিক্রম কাকা। তিনি রাত তিনটে নাগাদ পুরোপুরি স্যুটেড বুটেড হয়ে আসতেন। পঞ্চমের সঙ্গে আড্ডা চলত সকাল না হওয়া পর্যন্ত। এঁদের সবার জন্য আশাজি নিজেই রান্না করতেন এবং বাজারও অনেকটাই নিজে করতেন। মানে এক্কেবারে বাড়ির গিন্নির ভূমিকায় দেখা যেত তাঁকে। এরকমই এক পার্টিতে জীবনের সেরা কমপ্লিমেন্ট পেয়েছিলেন তিনি। রণধীর কাপুর তাঁকে বলেছিলেন, ‘আশাজি, আপ গানা ছোড় দিজিয়ে, সিরফ্‌ খানা বনাইয়ে।’ তবে অতিথিদের সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত জাগতেন না তিনি। ওই কাজটা করতেন রাহুলদেব বর্মন। তিনিও ছিলেন নিশাচর। আশাজির কথায়, ‘বহুদিন রাত তিনটের সময় সুর করতে বসে যেত।’ 
রাহুলদেব বর্মনের কথা উঠলে কলকাতার কথা এসেই যায়। কলকাতার শাড়ি আর মিষ্টি এই দুই-ই আশাজির প্রিয়। রাহুলদেব বর্মনের সঙ্গে বছরে দু’-একবার কলকাতায় আসতেনই। তখনই কলকাতার মিষ্টির প্রেমে পড়া। আশাজির প্রিয় মিষ্টি ল্যাংচা। এমনও হয়েছে, কলকাতায় একটি পুজোর উদ্বোধন করতে এসে প্রায় মধ্যরাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিষ্টির দোকান খুলিয়ে ল্যাংচা খেয়েছেন আশাজি। এই ঘটনার সাক্ষী তাঁর বড়নাতি চৈতন্য। 
একবার কলকাতায় তাঁর শাড়ি কেনার গল্প শুনিয়েছিলেন আশাজি। উনি বাংলা বুঝতে পারেন। এমনকী, কাজ চালানোর মতো বাংলা বলতেও পারেন। সেই ভাঙা বাংলাতেই মজাচ্ছলে রীতিমতো অভিনয় করে গল্পটা শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন, একবার হামলোগ কলকাত্তা আয়ে থে। তো একদিন পঞ্চম লে গয়া গড়িয়াহাটকে সবসে বড়া এক দুকানমে। চশমা পহেনা হুয়া এক আদমি থা। উনহোনে পুছা, ‘কী শাড়ি চাই?’ (গলা মোটা করে নকল করে)। ম্যায় বোলি, ‘ভালো শাড়ি কী আছে দেখান।’ উনহোনে ফির পুছা, ‘কত দামের শাড়ি দেখাব?’ আমি বললাম, ‘একটু ভালো যেরকম দামের হয়, তাই দেখান।’ তখন চশমা পরা ভদ্রলোক হাঁক দিয়ে বললেন, ‘অ্যাই রোন্টু, চা নিয়ে এসো তো।’ হামলোগ শাড়ি চুনা, খরিদ ভি লিয়া। লেকিন সেই রোন্টু চা নিয়ে এসে আর পৌঁছল না। বলেই হো হো করে হেসে উঠলেন। আশাজির বাংলা উচ্চারণে টান আছে। তাই বাংলা গান রেকর্ড করার সময় খুব সতর্ক থাকেন। বিশেষ করে সুরকার যদি হতেন নচিকেতা ঘোষ, তবে তো কথাই নেই। কারণ, যতক্ষণ না উচ্চারণ নিখুঁত হচ্ছে ততক্ষণ নচিকেতা ঘোষ কিছুতেই ছাড়তেন না। তাই নচিকেতা ঘোষের গানের রেকর্ডিং থাকলে আশাজি রীতিমতো ভয়ে ভয়ে থাকতেন। রেকর্ডিং রুমে আশাজি সবসময় সুরকারকে মান্য করে চলেন। সে তাঁর বয়স এবং অভিজ্ঞতা যতই কম হোক না কেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না গান সুরকারের চাহিদা মতো হচ্ছে ততক্ষণ তিনি স্টুডিও ছেড়ে যান না। সুরকার মনোজিৎ গোস্বামী সেই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন— একবার গানের একটি লাইন কিছুতেই মনোজিতের মনোমতো হচ্ছে না। বার তিন-চারেক আশাজিকে দিয়ে গাওয়ানোর পরও যখন পছন্দ হচ্ছে না সুরকারের, তখন পাশে বসে থাকা আশাজির এক ম্যানেজার মনোজিৎকে বললেন, ‘ভাই, য্যায়সা হুয়া, অ্যায়সেহি ছোড় দো। ম্যানেজ কর লো। আশাজিকে উপর প্রেশার মৎ ডালো। নারাজ হো যায়গি।’ সুরকারের সামনে থাকা মাইক চালু ছিল। ফলে এই কথা রেকর্ডিং রুমের ভিতরে থাকা আশাজির কানে পৌঁছে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বেরিয়ে এসে সেই ম্যানেজারকে ধমকে বলেন, ‘খুদ কো কেয়া সমঝতে হো তুম? মিউজিক ডিরেক্টর কো ইজ্জত করনা শিখো। যবতক উনকো পসন্দ না আয়ে তবতক ম্যায় রেকর্ড করুঙ্গি।’ এই বলে সেদিন ছ’বারের চেষ্টায় লাইনটা মনোজিতের মনের মতো করে গেয়ে তবেই ক্ষান্ত দেন এই মহান গায়িকা।
এমনই একটা ঘটনা—‘অভিমান’ ছবির একটি গান সুরকার অজয় দাস নিয়ে গিয়েছিলেন আশাজিকে দিয়ে রেকর্ড করানোর জন্য। গানটি ছিল, ‘তুমি যে আমার সে কথাটি বলি যতবার, ভালো লাগে যেন ততবার’। গানটি লিখেছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘সি’ শার্পে বাঁধা ছিল গানটা। ডামি রেকর্ড শুনে আশাজি বললেন, অজয়বাবু একটা রিকোয়েস্ট আছে। গানটার স্কেলটা একটু নামালে আমার সুবিধে হয়। অজয়বাবু পড়লেন মহাবিপদে। যে সিচ্যুয়েশনে গানটা আছে, তাতে গানটার স্কেল নামালে সিনটার দফারফা হয়ে যাবে। অগত্যা তিনি আশাজিকে বললেন, ‘আপনি তো মা সরস্বতী, একটু চেষ্টা করলেই আপনি পারবেন।’ শুনে আশাজি হেসেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার আর অজয়বাবুকে কিছু বলেননি। সি শার্পেই গানটা রেকর্ড করেছিলেন এবং সে গান সুপারহিট হয়েছিল।
গান নিয়ে এই চূড়ান্ত আবেগও কিন্তু একদিন হারিয়ে যেতে বসেছিল আশাজির জীবন থেকে। আশাজির দুই ছেলে হেমন্ত ও আনন্দ এবং এক মেয়ে বর্ষা। মেয়ে বর্ষা ছিলেন সাংবাদিক। ২০১২ সালে বর্ষা আত্মঘাতী হন। তার ঠিক তিন বছর পর বড় ছেলে হেমন্ত ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান সুইজারল্যান্ডে। উপর্যুপরি এই আঘাত সহ্য করতে পারেননি তিনি। গান গাওয়া একদম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তখন ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর এসে বোঝান দিদিকে। ভাইয়ের ক্রমাগত চেষ্টায় অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন আশাজি। ইদানীং রেকর্ডিং, ফাংশন প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন। নাতি-নাতনিদের নিয়েই সময় কেটে যায় তাঁর। বড় নাতি চৈতন্য (হেমন্তের ছেলে) আর ছোটছেলে আনন্দের এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়েই জীবন তাঁর। একটাই আশা এখনও অপূর্ণ। তা হল, দুই নাতির বিয়েতে জমিয়ে গান গাওয়া আর নাচা।
 ছবি : আশা ভেঁাসলের টুইটার অ্যাকাউন্ট, সুদীপ্ত চন্দ ও মনোজিৎ গোস্বামীর সৌজন্যে
  গ্রাফিক্স : েসামনাথ পাল
  সহযোগিতায় : উজ্জ্বল দাস

4th     September,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা