বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিকিকিনি
 

ফ্রিজের দেখভাল

সব্জি, চকোলেট বা ঠান্ডা পানীয়, কখনও বা উদ্বৃত্ত খাবার— ফ্রিজ ছাড়া গতি নেই! কিন্তু রেফ্রিজারেটরের সঠিক ব্যবহার ও যত্ন না জানলে চাপ পড়ে বিদ্যুতের বিলে। কী করবেন? জানাচ্ছেন ঈপ্সিতা সেনগুপ্ত।

সারাবছর রান্নাঘরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে একটি ফ্রিজ। গরমকালে শুধু আইসক্রিম বা কুলফি তৈরি করার কারণেই নয়, খাবার সংরক্ষণ করা, তাকে স্বাস্থ্যকর রাখা, নিত্যদিন খাবারের জোগান দেওয়া এগুলোর জন্যও ফ্রিজের উপর গৃহস্থকে নির্ভর করে থাকতে হয়। তাই সঠিক স্টোরেজ পদ্ধতি ব্যবহার করা, ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা গৃহস্থালীর গুরুতর কাজের একটি। এবং এই গরমে ফ্রিজের উপর নির্ভরশীলতা যেন আরও বেড়ে যায় মানুষের। তা খাবার সতেজ রাখার কারণেই হোক কিংবা ঠান্ডা জলে চুমুক দেওয়ার জন্য! কিছু নিয়ম মেনে চললে ফ্রিজে রাখা খাবারের আয়ু তো বাড়েই। ফ্রিজও ঝকঝকে থাকে। 
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: খাবার সতেজ রাখতে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা খুব প্রয়োজন।  ফ্রিজের তাপমাত্রা ১.৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং ৩.৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখুন। এতে ফ্রিজে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করা যায়। ফ্রিজের আয়ুষ্কালও বাড়ে। ফ্রিজকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের থার্মোমিটার ব্যবহার করুন।
সুচারু গোছগাছ: ফ্রিজ খুললেই হুড়মুড়িয়ে সব পড়ে গেল! এমন ছবি বেশ কিছু বাড়িতে দেখা যায়। যদি জিনিসপত্রের আধিক্য বেশি হয়, তাহলে বড় আয়তনের ফ্রিজ কিনুন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা দেখেই সেটা স্থির করা যায়। নয়তো ফ্রিজে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। ঠিকঠাক গোছগাছ হলে খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দূষণও আটকানো যাবে সহজে। 
পৃথকীকরণ: কাঁচা মাংস, বা মাছ জাতীয় খাবার মুখবন্ধ বা বায়ুনিরুদ্ধ পাত্রে রেখে সংরক্ষণ করুন। এমনভাবে রাখুন যাতে তাদের খাদ্যাংশ বা খাদ্যরস অন্য খাবারে পড়তে না পারে। দুগ্ধজাত দ্রব্য, ডিম এবং অন্যান্য দ্রুত পচনশীল জিনিস মাঝখানের তাকগুলিতে রাখুন। আর্দ্রতার মাত্রা বজায় রাখার জন্য ফল এবং সব্জিগুলো ফ্রিজের ড্রয়ারে রাখুন, নেটের ব্যাগে রাখলে এই জিনিসপত্র বেশি টাটকা থাকে। উপরের তাকগুলিতে মশলা, বাসি খাবার এবং অপচনশীল আইটেম রাখুন। এই নিয়ম একবার মানতে শুরু করলে সহজেই অভ্যেসে পরিণত হবে। এতে খাবার খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন সুবিধা হবে, তেমনই নির্দিষ্ট প্রথা মেনে ফ্রিজ গুছিয়ে রাখলে তাপমাত্রাও অনেক কম পুড়বে। 
খাবার সংরক্ষণ: খাবার ফ্রেশ রাখতে বায়ুনিরুদ্ধ পাত্রে দ্রুত পচনশীল জিনিসগুলি রাখুন। তেমন পাত্র হাতের কাছে না পেলে প্লাস্টিকের মোড়ক বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে তাদের ভালোভাবে মুড়ে দিন।  ফলে খাবারের গায়ে সরাসরি ফ্রিজের আর্দ্রতা লাগবে না, খাবার শুকোতে সময় নেবে।  
ইন-আউটের খেলা: যে খাবার আগে ফ্রিজে ঢুকছে, তা আগে বেরবে। সহজ এই নীতি অবলম্বন করলে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার হাত থেকে অনেকটা বাঁচানো যায়। অনেকেই ফ্রিজে খাবার তোলেন, কিন্তু সঠিক সময়ে তা ব্যবহার করতে পারেন না বলে খাবার নষ্ট হয়ে যায়। তাই ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতি প্রয়োগ করুন। প্রয়োজনে অপচয় এড়াতে স্টোরেজের তারিখ লিখে রাখুন বাক্সের গায়ে। তাহলে কবে কোন খাবার ফ্রিজে ঢুকিয়েছেন, তা মনে থাকবে। 
সংরক্ষণের হিসেব: দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার কম্পার্টমেন্ট ব্যবহার করুন। বায়ুনিরুদ্ধ ফ্রিজার ব্যাগ বা পাত্রে জিনিস রাখুন। প্যাকেটে রাখলে তা থেকে হাওয়া বের করে তারপর ফ্রিজারে রাখুন। ফ্রিজারে ক্ষেত্রেও ‘ফার্স্ট ইন ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতি মেনে চলুন। কাজ সহজ করতে জিনিসগুলিকে লেবেল এবং তারিখ দিতে মনে রাখবেন।
এ তো গেল ফ্রিজে কীভাবে খাবার রাখা যায়, তার খতিয়ান। তবে ফ্রিজ পরিষ্কার না রাখলে যত নিয়ম মেনেই খাবার সংরক্ষণ করুন না কেন,  ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফ্রিজ পরিষ্কারে সময় খানিক দিতেই হবে। নইলে খাবার তো নষ্ট হবেই, ফ্রিজের আয়ুও খুব বেশি দিন থাকবে না। জীবাণুর প্রকোপ থেকে বাঁচতেও ফ্রিজ সাফসুতরো রাখা অত্যন্ত জরুরি।  সহজ কিছু নিয়ম মেনে পরিষ্কার রাখুন আপনার ফ্রিজকে। 
স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য একটি রুটিন তৈরি করুন।  মাসে অন্তত এক-দু’বার পরিষ্কার করুন ফ্রিজ। যেদিন ফ্রিজে খাবারের পরিমাণ নামমাত্র, সেইদিনটিই ফ্রিজ পরিষ্কার করার 
জন্য আদর্শ। 
ফ্রিজ পুরো খালি করে, সমস্ত জিনিস খতিয়ে দেখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট খাবার বর্জন করুন। ভালো থাকা খাবার কিছুক্ষণ বাইরে রেখে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নিন।
তাক, ড্রয়ার এবং অন্যান্য ডিট্যাচেবল অংশগুলিকে খুলে উষ্ণ জল আর সাবান জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  এগুলি আবার ফিট করার 
আগে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং শুকিয়ে নিন।
হাল্কা ডিটারজেন্ট এবং উষ্ণ জল ব্যবহার করে ফ্রিজের ভিতরের অংশ মুছে নিন।
ফ্রিজের গায়ে অসাবধানতাবশত ছিটকে পড়া খাবার ও দাগের দিকেও মনোযোগ দিন। সেই সমস্ত দাগ তুলতে ১ ভাগ জলের সঙ্গে ১ ভাগ ভিনিগারের মিশ্রণ ব্যবহার করুন। একটি ভেজা কাপড় দিয়ে দরজার চারপাশের রাবার গ্যাসকেট পরিষ্কার করুন।
হাল্কা সাবান জল ব্যবহার করে রেফ্রিজারেটরের বাইরের অংশ পরিষ্কার করুন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে কটু গন্ধ হতে পারে।  গন্ধ শোষণ করতে একটি শেলফে একটা পাত্রে খানিক বেকিং সোডা রাখুন। বায়ুরোধী পাত্রে পেঁয়াজ এবং রসুনের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার সংরক্ষণ করুন। মাঝে মাঝে জল এবং লেবুর রসের মিশ্রণ দিয়ে ফ্রিজের ভিতরটা মুছুন বা গন্ধ শুষে নিতে কফি গ্রাউন্ড ব্যবহার করুন।
রেফ্রিজারেটরের মধ্যে যেন হাওয়াবাতাস চলতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য তা অপরিহার্য। ফ্রিজে ঠান্ডা বাতাস যাতে সমানভাবে ছড়ায়, তাই ঠেসে খাবার ঢোকাবেন না। 

10th     June,   2023
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ