বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
আমরা মেয়েরা
 

৩৫৩ বছর পার করল 
ভোজেশ্বর পাল চৌধুরী বাড়ির পুজো

মাতৃ আরাধনার রীতিনীতি কিন্তু এক এক জায়গায় এক এক রকম। বাড়ির পুজোর কথা বলতে গেলে যৌথ পরিবার ভেঙেছে। মহিলারা আর অন্তঃপুরবাসিনী নন। ঘরের বাইরেও তাঁদের কর্মজগৎ হয়েছে। বাইরের জগতে পা রেখেছেন তাঁরা। পুজো নিয়ে কথা হচ্ছিল ৩৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভোজেশ্বর পাল চৌধুরী বাড়ির বর্ষীয়াণ সদস্যা গৌতমী পাল চৌধুরীর সঙ্গে। বললেন, ‘সময়ের পরিবর্তন তো ঘটেছেই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের পুজোকে ঘিরে আগ্রহ কমেনি। আমাদের পুজোর বিশেষত্ব রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্গার ডানদিকে থাকেন লক্ষ্মী ও গণেশ আর বাঁদিকে কার্তিক এবং সরস্বতী। কিন্তু আমাদের উল্টো। ডানদিকে লক্ষ্মীর পাশে কার্তিক আর বাঁ দিকে সরস্বতীর পাশে গণেশ। স্বপ্নে এইভাবেই দেবী সন্তানদের নিয়ে দেখা দিয়েছিলেন। সেই থেকেই এই রীতি।’ পরিবারের আর এক সদস্যা স্বাতী পাল চৌধুরী বললেন, ‘বাড়ির পুজোর আমেজই আলাদা। আমাদের হইহই করে সাজো করার রীতি। মহালয়ার আগেই শুভ দিন, শুভ তিথি আর সময় দেখে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। ‘সাজো’ করা অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের নাড়ু, মোয়া, মুড়কি খইয়ের উপড়া, তক্তি এইসব তৈরি করা। এইগুলোই ঠাকুরকে ভোগে দেওয়া হয়। সুতরাং প্রচুর পরিমাণে তৈরি করতে হয়। বাড়ির মহিলারা সমবেত হয়ে নিজেরাই এগুলো তৈরি করি। এছাড়াও মাকে সাজানো, অষ্টমীর সন্ধিপুজোয় ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো, পদ্ম ফোটানো এই সবই আমরা মেয়ে বউরা করি।’ এই পরিবারে পুজোয় পালা পড়ে। ট্রাস্টি বোর্ডও রয়েছে। চার থেকে ষোলো বছরের মধ্যে পালা পড়ার নিয়ম। বাড়ির দিক অনুযায়ী পালা ভাগ হয়। পূর্ব বাংলার রীতি অনুযায়ী, পূবের দ্বার, পশ্চিমের দ্বার, উত্তরের দ্বার, দক্ষিণের দ্বার। তবে পালা যাদের পড়ল তারা তো রয়েছেই। এছাড়াও পরিবারের প্রত্যেকের সমান উৎসাহ উদ্দীপনা থাকে ঐতিহ্যমণ্ডিত এই পারিবারিক পুজোকে ঘিরে। একেবারে নবীন প্রজন্মের কর্মরতা দুই সদস্যা সঞ্চারী পাল চৌধুরী ও সোনালী কুন্ডু পাল চৌধুরী বললেন, ‘এতদিন পুজো মানে একটা প্যান্ডেলে যাব, পুজো দেখব। সেখানে হইহই খাওয়া-দাওয়া হবে এমনটাই হতো। কিন্তু বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখলাম পুজো তো বাড়ির আয়োজন। দেবী এখানে বাড়িরই একজন হয়ে ওঠেন পুজোর চারটে দিন। তাঁকে ঘিরেই কাজকর্মে মেতে উঠি আমরা। এটা ভাবতেই ভালো লাগে। হয়তো কাজকর্ম সেভাবে করে ওঠা বা শেখা এখনও হয়ে ওঠেনি। তবে অপটু হাতে বড়দের সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করি আমরা। এটাই আনন্দ।’ তবে সময়ের সঙ্গেই মহিলাদের পুজোর কাজে যুক্ত থাকার মেয়াদ বদলাচ্ছে। ঘরে আর বাইরে সমান তালে সামলাতে গিয়ে কিছু কাজের ভাগ করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রবীণ এবং নবীন প্রজন্ম মিলে ভোজেশ্বর পাল চৌধুরী বাড়ির পুজো মহাসমারোহে পালিত হয়ে চলেছে। অতীতকালের রীতিনীতি আজও বয়ে নিয়ে চলেছে এই পরিবার। 
তনুশ্রী কাঞ্জিলাল মাশ্চরক

1st     October,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ