বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
আমরা মেয়েরা
 

‘লেখিকার তুলনায় লেখক
নিয়ে যেন বেশি হইহই!’

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর ‘বেস্ট সেলিং অথর’-দের তালিকায় তাঁর নাম থাকে। মার্কিন প্রবাসী সেই লেখিকা সায়ন্তনী দাশগুপ্ত ন্যারেটিভ মেডিসিন, দ্য ইন্সস্টিটিউট ফর কম্পারেটিভ লিটারেচার অ্যান্ড সোসাইটি, দ্য সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব এথনিসিটি অ্যান্ড রেস— সবকিছু নিয়ে পড়ান কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। গল্প উপন্যাস লেখা ছাড়াও জাতি, লিঙ্গ, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক বিষয়ে নানাবিধ লেখা ও বক্তৃতায় ব্যস্ত থাকেন। তাঁর সঙ্গে কথায় অন্বেষা দত্ত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়ন্তনী দাশগুপ্তর সঙ্গে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এবং প্রাক্তন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টনের কন্যা চেলসির কথোপকথন চোখ টেনেছিল। সেই সূত্রে সায়ন্তনী সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা গেল, তাঁর জন্ম আমেরিকার ওহায়োতে। বেড়ে ওঠার পুরোটাই তাই প্রবাসে। চিকিৎসক এবং লেখিকা সায়ন্তনীর তা বলে কলকাতার সঙ্গে নাড়ির টান আলগা হয়নি। জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ ‘একেনবাবু’-র স্রষ্টা তাঁর বাবা, সুজন দাশগুপ্ত। মা শমীতা দাশ দাশগুপ্তও সুলেখিকা, সদা সজাগ নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা কাজকর্মে। এহেন মা-বাবার কন্যার হাতে যে সাহিত্য সৃষ্টি হবেই, তা খানিক স্বতঃসিদ্ধ। ইয়ং-অ্যাডাল্ট ক্যাটেগরিতে সায়ন্তনী দাশগুপ্তর বই ‘ডিবেটিং ডার্সি’ এবছরই প্রকাশিত হয়েছে। জেন অস্টেন-এর ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর কাহিনিকে এসময়ের আলোয় নারীবাদের ভাবনায় ফিরে দেখতে চেয়ে সায়ন্তনীর এই প্রয়াস। এর আগে বাংলার রূপকথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন ‘কিরণমালা অ্যান্ড দ্য কিংডম বিয়ন্ড’ সিরিজ, সেটির প্রথম বই ‘দ্য সারপেন্টস সিক্রেট।’ আছে আরও নানা কাজ। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় উঠে এল তেমন নানা প্রসঙ্গ।  
  
লেখক, চিকিৎসক, নারী, মা— কোন পরিচয়টা আপনার হৃদয় বা মনের সবচেয়ে কাছের?
প্রতিটি সত্তাই তো আমার অংশ! আমার লেখা ‘দ্য সারপেন্টস সিক্রেট’-এ যেমন কিরণমালার মায়ের চরিত্রটি বলে, ‘আমাদের কারও শুধু একটামাত্র অস্তিত্ব নেই— আমাদের জীবনের নানা মুখকে চিনতে শেখাই হল জীবনের প্রক্রিয়া।’

কবে থেকে লেখা শুরু করলেন? 
একেবারে ছোট থেকেই। নিজেকে প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ দিতেন আমার বাবা-মা। বাবা তো আমায় মাত্র ছ’-সাত বছর বয়সেই একটা নোটবুক কিনে হাতে দিয়েছিলেন। তাতে যা ইচ্ছে লিখে গুছিয়ে রাখতে বলেছিলেন। বলেছিলেন, মনে রেখো এটা খুব মূল্যবান একটা জিনিস। সেই কথাগুলো আমার সারা জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল বলতে পারেন।   

লেখিকা হলে আলাদা করে কোনও সীমাবদ্ধতা থাকে কি? যেমনটা আর পাঁচটা পেশায় হয়, মহিলা মানেই কিছুটা কোণঠাসা করে রাখার প্রবণতা...।
আমেরিকায় অন্তত বাচ্চাদের গল্পকাহিনি লেখার ক্ষেত্রে লেখিকারাই সংখ্যাগুরু। তবুও মনে হয় লেখকদের যেন মাথায় করে রাখা হয়। লিঙ্গবৈষম্য সব পেশার ক্ষেত্রেই একটা বড় সমস্যা।

আপনার সাম্প্রতিক বই ‘ডিবেটিং ডার্সি’-র আলোচনায় আপনি কথা বলেছেন চেলসি ক্লিন্টনের সঙ্গে। সেই অভিজ্ঞতার কথা একটু বলুন।
ডাঃ ভার্জিনিয়া অ্যাপগার-এর জীবনী লেখার কাজ করতে গিয়ে চেলসির সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের জন্য চেলসির করা ‘শি পারসিস্টেড’ সিরিজের অংশ ছিল সেটা। সেই বইটির প্রচার চলাকালীন জানতে পেরেছিলাম আমার মতোই চেলসিও প্রখ্যাত লেখক জেন অস্টেন-এর বিরাট ভক্ত। আমি যখন ইয়ং অ্যাডাল্ট-দের জন্য ‘ডিবেটিং ডার্সি’ উপন্যাসটি লিখলাম, তখনই ঠিক করে ফেলেছিলাম ওঁর সঙ্গে কথা বলব। আমার উপন্যাস জেন অস্টেন-এর ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-কে সমসাময়িক কালের আলোয় দেখার চেষ্টা। মিঃ ডার্সির সঙ্গে এসময়ের মেয়ের বাগযুদ্ধ! তা এই বই নিয়ে আলোচনার কথা বলতেই চেলসি রাজি হয়। এক লেখকের দুই ভক্তের আলোচনা দারুণ জমে গিয়েছিল।

লেখক হিসেবে ২১ শতকের মেয়েদের কীভাবে দেখেন আপনি?
আমেরিকায় সম্প্রতি মহিলাদের গর্ভপাতের অধিকারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এ দেশে আরও বেশ কিছু অধিকারের ক্ষেত্রেও বঞ্চিত হচ্ছেন মহিলারা। এত অগ্রগতির পরেও মহিলাদের পিছন দিকে হাঁটতে হচ্ছে। এটা আমার কাছে খুবই উদ্বেগের। এই ধরনের বিষয় নিয়ে আমাদের লড়াইটা আরও দীর্ঘায়িত হল, বুঝতে পারছি। 

কোনও বিদ্রোহী নারী চরিত্র, যিনি আপনার আদর্শ?
ফেমিনিস্ট আবহের সঙ্গে তো ছোট থেকেই আমার বেড়ে ওঠা। আমার মা বরাবর এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সরব। অনেক ব্যক্তিত্বময়ী নারী আমার জীবন ঘিরে ছিলেন। যেমন আমার বিপ্লবী ঠাকুরমা, যিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য লড়াই করেছিলেন, তেমন আমার মা আর তাঁর সক্রিয় সব সহকর্মী— সকলেই আমার অনুপ্রেরণা।

ভারতে বলুন কি আমেরিকায়, মহামারীর পর থেকে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সংখ্যা ভয়ঙ্করভাবে কমেছে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?
সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে আমেরিকায় অনেক মহিলাকেই কর্মক্ষেত্রে কাজের পরেও বাড়ির দিকটা সামলাতে হয়। কারণ এখানে কোনওভাবে পরিচারক বা হেল্প পাওয়া সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত চাকরি বা নিজের কাজের পরেও এটা যেন সেকেন্ড শিফটে কাজ করার মতো। আর মহামারীর মতো সময়ে দুর্ভাগ্যবশত মহিলাদেরই শিশুদের বা বয়স্কদের যত্ন করতে হয়েছে, পরিবার যাতে ঠিকমতো থাকে। এক্ষেত্রে আরও সামাজিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। পেড পেটারনাল লিভ, সাবসিডাইজড চাইল্ড ও এল্ডারলি কেয়ার, আর্থিক সাহায্য— এগুলোর নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হলে মেয়েদের বোঝা একটু কমে।  

আপনার বাবার সৃষ্ট চরিত্র একেনবাবুকে পছন্দ করেন? কলকাতায় তো তিনি খুবই জনপ্রিয়।
খুবই পছন্দ করি। সিনেমায় বাবার একেনবাবুকে দারুণ লেগেছে। পরিবারের খুব কাছের একজন কেউ যেন। 

বাবার না মায়ের, কার লেখা আপনার বেশি পছন্দ?
দু’জনের লেখাই পছন্দ করি। মায়ের সঙ্গে মিলে দু’টি বইয়ের কাজও করেছি। অসংখ্য অ্যাকাডেমিক আর্টিকেল নিয়েও একসঙ্গে কাজ করেছি আমরা। অন্যদিকে বাবার সেন্স অব হিউমার দুর্দান্ত। সেটা লেখাতেও আসে, বাবা এই ধরনের লেখা লিখতে ভালোবাসেন। আমি সেটা ওঁর থেকে পেয়েছি। 

দেশে আসেন? দেশের কোন বিষয়টা আপনার কাছে প্রিয়? মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে ভারতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে আপনার মনে হয়?
আমেরিকায় তিন মাস গরমের ছুটি থাকত। সেই সময়টা কাটাতাম দেশে। মূলত কলকাতা আর শান্তিনিকেতনে। ক্রমে বড় হলাম, আমার সন্তান হল। তাদেরও কলকাতায় নিয়ে গিয়েছি প্রতি বছর। মহামারী আছড়ে পড়ার পর থেকে সেই নিয়মে ছেদ পড়েছে। ঠাকুরমার ঝুলি থেকে শুরু অসংখ্য বাংলা গল্প থেকে অনেক অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছি। কত যে রোল মডেল... স্বাধীনতা সংগ্রামে মহিলাদের লড়াই কোনওদিন ভোলার নয়। আর আমি মনে করি, বাকি দেশের মতো মহিলাদের উন্নয়নে ভারতেও সঠিক পথে সহায়তা যাতে আসে, সেটার ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ লড়াইটা কমবেশি সব জায়গায় একইরকম। তাই একটা গঠনমূলক ভূমিকা তৈরি করা খুব দরকার। 

23rd     July,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ