বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
আমরা মেয়েরা
 

এখন মেয়েরা

গ্রামকে স্বাবলম্বী করছেন দিব্যা
রাজস্থানের রণথম্ভোরে থাকেন দিব্যা খান্ডাল। এই অরণ্য রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য যথেষ্ট পরিচিত। এইখানে একটি ক্রাফট ভিলেজ (ধোঙ্ক সেন্টার) তৈরি করেছেন দিব্যা। সেখানে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয় মেয়েদের। কোন মেয়েদের জানেন? বাঘের চোরাশিকারে যাঁদের স্বামীরা অভিযুক্ত। স্বামীদের ভুল কাজের ফল ভুগতে হতো গ্রামের মেয়েদের। তাই তাঁদের সাহায্যার্থে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন দিব্যা। সেই উদ্যোগ ক্রমশ গোটা গ্রামের জন্যই উপযোগী হয়ে ওঠে। শুধু মহিলা নয়, দিব্যা এখন প্রশিক্ষণ দেন পুরুষদেরও। গ্রামের মানুষ যাতে সৎ পথে রোজগারের উপায় খুঁজে দিন গুজরান করতে পারেন, সেটাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল তাঁর। লক্ষ্যে সফল দিব্যা এখন ক্রাফট ভিলেজের লাভের অঙ্ক কাজে লাগিয়ে শুরু করেছেন মাইক্রো ফিনান্সিংয়ের কাজ। কীভাবে? ধোঙ্ক সম্প্রদায়ের যে কোনও মহিলা বা পুরুষ বিনা প্রশ্নে এখান থেকে ঋণ নিতে পারেন। ওষুধের খরচ, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য টাকা, রান্নাবান্নার জন্য কিছু কেনা অথবা খাবার জোগাড় করা—  তাঁদের যে ধরনের প্রয়োজনই থাক না কেন, পাশে থাকবে দিব্যার সেন্টার। এই সম্প্রদায়ের লোকজনের পক্ষে সাধারণ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ জোগাড় করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। দিব্যা তাই তাঁদের জন্য এভাবেই ঋণদানের ব্যবস্থা করেছেন। আফ্রিকান প্রবাদ বলে, একটা বাচ্চাকে মানুষ করতে একটা গোটা গ্রাম লাগে। রণথম্ভোরে একজন মহিলাই স্বাবলম্বী করে তুলছেন গোটা গ্রামকে। দিব্যা দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষ কীভাবে একাই সব কিছু বদলে দিতে পারে। হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে গোটা গ্রামকেই বদলে দিতে পেরেছেন এই নারী।   

রাধিকার অনুপ্রেরণায় 
একজন মহিলা কীভাবে আর একজন মহিলার পাশে দাঁড়াতে পারেন, তার আদর্শ উদাহরণ রাজস্থানের জয়পুরের ‘পিঙ্ক সিটি রিকশা কোম্পানি’-র রাধিকা কুমারী। বস্তি এলাকার মহিলাদের অটো রিকশা চালাতে শেখান রাধিকা। সারা ভারতে যত মহিলা অটোচালক আছেন, ওঁরা তাঁদের কয়েকজন। শুধু অটো চালানো শেখানোর পর কাজে নিয়োগ করা নয়, মহিলাদের ওই সংস্থার শেয়ারহোল্ডারও করে তোলেন রাধিকা। কাজটা কিন্তু একেবারেই সহজ নয়। বলতে পারেন, জয়পুরের মতো ঘিঞ্জি শহরের পথে অটো চালাতে অন্তত ছ’জোড়া চোখ লাগে! অটো চালানো শেখার পরে আছে পুরুষ চালকদের ‘দাপট’ এড়িয়ে চলার শিক্ষা মাথায় রাখা। তাঁদের অকারণ হর্ন দেওয়া, মহিলা-চালক বলে যখন তখন দু’চার কথা শোনানো, তাকিয়ে থাকা— সবকিছু কাটিয়ে চলতে হয় মহিলাদের। বিশেষত প্রথাগত ধারণায় যেটা পুরুষদের কাজ (যেমন অটোচালনা), সেটা যখনই কোনও মহিলা করতে যান, তখন তাঁকে শুধু সে কাজের যা যা ঝক্কি তা তো পোহাতে হয়ই, সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি সেই কাজের উপযুক্ত। রাধিকার মতো ‘পিঙ্ক সিটি রিকশা কোম্পানি’-র সব মেয়ে তাই অসীম সাহসী। সমালোচনাকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে ইতিবাচক দিক থেকে জীবনকে দেখতে পারেন তাঁরা। একইসঙ্গে অনুপ্রেরণা জোগান পরিবারের অন্য মহিলাদের জন্যও। তাঁদের মতো সাহসী পদক্ষেপ যাতে বাকিরাও করতে পারেন, প্রতিদিন সে আশা জাগাচ্ছেন রাধিকারা। 

ট্যুর গাইড বিজয়লক্ষ্মী 
মুম্বইয়ে স্থানীয় ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করেন বিজয়লক্ষ্মী রডরিগেস ওরফে ভি জে। দ্বিতীয় নামে তাঁকে ডাকলেই বেশি পছন্দ। কাজ আর ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা দেখিয়ে দিয়েছেন বিজয়লক্ষ্মী। তিনি ট্যুর গাইড হয়েছেন নিজের পছন্দে। কিন্তু নিজের পছন্দ বজায় রাখতে গিয়ে কম লড়াই করতে হয়নি ভি জে-কে। সমাজ থেকে পরিবার, প্রত্যেকেরই ধারণা ছিল বিজয়লক্ষ্মী উল্টোপাল্টা ভাবনা, মনগড়া চিন্তা নিয়ে চলেন। তাই তিনি যে প্রথাগত সমাজের ‘বাইরে’ অবস্থান করেন, সেটা বহু আগেই বুঝেছিলেন ভি জে। তাঁর বাবা-মা বিয়ের কথা বলে বলে হাল ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু ৩১ বছর বয়সে পৌঁছনো এই কন্যা হাল ছাড়েননি, নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে তিনি অটল। পাত্রপক্ষও বুঝে গিয়েছিল এই মেয়ের বিয়ে থা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বিজয়লক্ষ্মী বলেন, ‘পরিবারের চোখে ছেলেরা সম্পদ। আর মেয়েরা হল বোঝা। তাই জন্য মেয়েদের পিছনে সময় বা অর্থ কোনওটাই নষ্ট করেন না কোনও বাবা-মা। তাঁরা মনে করেন, বিয়ে করে মেয়ে পরের ঘরে চলে যাবে। তাই তাঁদের লেখাপড়া শিখিয়ে কী হবে?’ তবে ভি জে জানেন, ছবিটা ধীরে হলেও বদলাচ্ছে। বড় শহরে বদলাচ্ছে পুরুষের মন, সমাজের মন। পরিবারে এমন মেয়ের কদর বাড়ছে যে সকলের দায়িত্ব নিতে সক্ষম। মেয়েরা কাজ করবে, পরিবারে একমাত্র রোজগেরে হবে—  এগুলো মানতে সবসময় আর হোঁচট খাচ্ছে না সমাজ। বদলটা ধীরে হলেও আসছে, শহরের মতো গ্রামেও। এই আশাতেই বাঁচছেন ভি জে। পাচ্ছেন লড়ে যাওয়ার ভরসাও। 

30th     April,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ