বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
আমরা মেয়েরা
 

মিষ্টি মধুর বিয়ের গল্প

বিয়ে মানেই আনন্দে ঘেরা কয়েকটা দিন। আনুষ্ঠানিক বিয়েতে এমন বিভিন্ন ঘটনা ঘটে যার মাধুর্য বিবাহ অনুষ্ঠানটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখে। তেমনই কয়েকটি মজার ঘটনার বর্ণনায় কমলিনী চক্রবর্তী।

ধুতির কোঁচায় টান
শ্রীপর্ণার বিয়ে ঠিক হয়েছিল ৩ বৈশাখ ১৪২৫। বহু দিনের বন্ধু অপূর্বর সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে শ্রীপর্ণা। মনে মনে উত্তেজনার অন্ত নেই বর-বধূ কারও। কলেজের বন্ধু, তাই বিয়ের কেনাকাটা থেকে নেমন্তন্ন সবই তারা একসঙ্গে করেছে। বিয়ের দিনের নকশা কাটা ধুতিটাও শ্রীপর্ণার পছন্দেই কিনেছে অপূর্ব। ৩ বৈশাখ অপূর্বর বাড়ির সামনে বরের গাড়ি সেজেগুজে  হাজির। শ্রীপর্ণার পিসতুতো দাদা এসেছে বরকে নিতে। কিন্তু বরের ঘরের দরজা বন্ধ। প্রচুর ডাকাডাকি, ধাক্কাধাক্কির পর অপূর্ব বেরিয়ে এল পরনে ট্র্যাক প্যান্ট, হাতে নকশাকাটা ধুতি। ডিজাইনার ধুতির নাকি মোক্ষম অংশে কাটা কাজের নকশা! কোঁচানো ধুতিটি কেনার সময় অনভিজ্ঞ বর-বধূ কেউই দেখে নেয়নি। বাড়িতে তো আর নতুন ধুতি নেই! এদিকে গোধূলি লগ্নে বিয়ে। অপূর্বর মায়ের মাথায় হাত। এমন সময় মুশকিল আসানের ভূমিকায় উত্তীর্ণ অপূর্বর বাবা। বললেন, দারুণ স্টাইল করে ধুতি পরিয়ে দেবেন, কোনও কাটা কাজ চোখেই পড়বে না। কাটা কাজের নকশা ঢাকতে গিয়ে ধুতি খানিক খাটো হল। তা আর কী করা যাবে? ওটাকেই স্টাইল বলে মানতে হবে। কোনওক্রমে বর হাজির হলেন বিয়ে বাড়িতে। শ্রীপর্ণার মা-বাবাও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন যেন। বরণ, আশীর্বাদের পর তড়িঘড়ি বিবাহ মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হল অপূর্বকে। দাদা-কাকাদের কাঁধে চড়ে শ্রীপর্ণাও হাজির। শুরু হল সপ্তপদী। সাত পাক ঘুরে কনে যখন বরের সামনে এসে মালা বদলের জন্য দাঁড়াল ততক্ষণে ধুতি ক্রাইসিস অনেকটাই কেটে গিয়েছে। হালকা মেজাজে সবাই হাসিঠাট্টা জুড়ে দিয়েছে বর-বধূর সঙ্গে। কিন্তু ও মা! মালা বদল করতে গিয়ে যেই না হাত তুলেছে অপূর্ব, অমনি খসখস শব্দ করে ধুতিটি গেল খুলে! ভরা মণ্ডপে হাসির রোল। কোনওক্রমে শ্রীপর্ণাদের পুরোহিতমশাই অপূর্বকে টেনে নিয়ে ভিতরে গিয়ে নিজের ব্যাগ থেকে একটি ধুতি বের করে পরিয়ে দিলেন। কাজ করা তসরের পাঞ্জাবির সঙ্গে মলিন ইঞ্চিপেড়ে ধুতি পরেই বিয়ে হল অপূর্ব-শ্রীপর্ণার। শ্রীপর্ণার বিয়ের গল্প বলতে গিয়ে হেসেই অস্থির পুরোহিত অচিন্ত্য ভট্টাচার্য। দক্ষিণ কলকাতায় একটি কালীবাড়ির পুরোহিত তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠানেও পৌরোহিত্য করেন। বললেন, বিবাহবাসরে হাসির ঘটনা এমন অনেক সামলেছেন। তবে বরের ধুতি খুলে যাওয়ার মতো কাণ্ড ওই একবারই।      
  
বৈশাখটাই ফাঁকা থাক 
বিবাহ অনুষ্ঠানের মজার গল্প বলতে গিয়ে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, আনুষ্ঠানিক হিন্দু বিয়েতে এত রকম পর্ব থাকে যে সেখানে গোলমাল হওয়া আশ্চর্যের নয়। তবে রেজিস্ট্রেশনের মতো ছোটখাট ফাংশনেও যে গোলমাল একেবারে হয় না, তা কিন্তু নয়। তাঁর জানা এমন মজার ঘটনার সম্ভার অফুরন্ত। তার মধ্যে সবচেয়ে মজার দুটো ঘটনার উল্লেখ করলেন মীনাক্ষী। প্রায় বছর দশ আগের কথা। বৈশাখের বিয়ের জন্য চৈত্র থেকেই বুকিং নিতে শুরু করেছেন মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরেও তাঁর অফিস খোলা। ঘামতে ঘামতে এক বয়স্ক দম্পতি এলেন মেয়ের বিয়ের বুকিং করাতে। কন্যার পিতা একটু বিনীত স্বরে প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন। বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের জন্য কী করতে হবে, কত টাকা লাগবে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা এগচ্ছিল ভালোই। এমন সময় স্বাভাবিকভাবেই মীনাক্ষী প্রশ্ন করেন বিয়ের তারিখ কবে? ও মা! অমনি রে রে করে উঠলেন কন্যার মা। বললেন, ‘চৈত্র মাসে শুভদিনের কথা মুখে আনতে নেই আপনি জানেন না? বিয়ের তারিখ আমরা এখনই কিছু বলতে পারব না। খুব জোর বলতে পারি বৈশাখের প্রথম দিকেই...।’ অবাক মীনাক্ষী পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে কোন তারিখ ফাঁকা রাখব আমি?’ কনের মা প্রসন্ন হাসি দিয়ে বললেন, ‘আপনি বরং আপাতত গোটা বৈশাখটাই ফাঁকা রাখুন।’ হতবাক মীনাক্ষীর মুখে আর কোনও কথা সরেনি। 

নামেই ভুল!
‘তবে এবার যে গল্পটা বলব সেটা আরও মারাত্মক,’ বললেন মীনাক্ষী। সেটা ছিল শীতকাল। জানুয়ারির মাঝামাঝি সেবার শীতটাও পড়েছিল জাঁকিয়ে। বাড়ির থেকে একটু দূরে অনুষ্ঠান বাড়ি। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হবে বিয়ের ঠিক আগে। বিয়ের লগ্ন মধ্যরাতে। তাই রেজিস্ট্রেশন ধীরেসুস্থেই করা যাবে। যথাসময়ে মেয়ের বাড়ি থেকে গাড়ি গিয়ে মীনাক্ষীকে নিয়ে অনুষ্ঠানবাড়িতে উপস্থিত। বর, কনে ও সাক্ষীরা রেডি। কাগজপত্র সাজিয়ে এবার সইয়ের পালা। যথা জায়গায় সাক্ষীরা একে একে সই করলেন। বরের সইও কমপ্লিট। এবার কনের পালা। আর গোল বাধল সেখানেই। সইটা ঠিকঠাক করলেন। তারপর যেখানে গোটাগোটা হরফে নিজের নাম লিখতে হয়, সেখানে মায়ের নামটি লিখে বসলেন কনে! এবার উপায়? সে যাত্রা মীনাক্ষীর ব্যাগ থেকেই বেরল সমস্যার সমাধান, একটি মোটা হোয়াইটনার। নিপুণ হাতে ওই হরফগুলো সাদা করে খানিক সময় রেজিস্ট্রেশনের পাতাটা শুকোতে দিলেন মীনাক্ষী। তারপর শান্তভাবে কনেকে বললেন নিজের নামটি লিখতে। এবার আর কোনও ভুল হয়নি। যথা সময়ে রেজিস্ট্রেশন শেষ করা গিয়েছিল।

মাধুর্যই গড়ে তোলে মুহূর্ত
বিবাহ অনুষ্ঠানে এমন নানা হাসির গল্প থাকে। পরবর্তীতে সেই মিষ্টি মধুর গল্পগুলোই এক একটি মুহূর্ত গড়ে তোলে। বিবাহ অনুষ্ঠানের অঙ্গ হয়ে ওঠে। বিবাহবার্ষিকী হীরকজয়ন্তী পেরিয়ে গেলেও সেই মুহূর্তগুলো বর-বধূর হৃদয়ে তো বটেই, এমনকী আত্মীয়স্বজনের স্মৃতিতেও উজ্জ্বল হয়ে থাকে। তা নিয়ে আজীবন হাসিঠাট্টাও হয়। মনে হয়, ভাগ্যিস ওই ঘটনাগুলো সেই সময় ঘটেছিল, নইলে হাসি মজার গপ্পগুলো হতো কী করে!  

30th     January,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021