বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

হাতের পরশ

একদিকে হালকা আর অন্যদিকে স্টাইলিশ। হাতে বানানো গয়না এখন খুবই ইন। দুই ডিজাইনারকে  নিয়ে লিখেছেন অন্বেষা দত্ত।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মেয়েটি স্বপ্ন দেখত গয়না বানানোর। সকলে কীভাবে শাড়ি গয়না পরে, খেয়াল রাখত সেসবও। সেই শখ থেকে একদিন হাতেকলমে কাজ শুরু। তার আগে ফ্যাশন সংক্রান্ত একটা ছোট কোর্সও করা ছিল। কিন্তু পোশাক তৈরির পুঁজি কিছুটা ধাক্কা খাওয়ায় কল্লোরী দাস ঝুঁকেছিলেন হাতে বানানো গয়নার দিকে। তাঁর কথায়, ফ্যাশনের কোর্সটা কাজে লেগেছিল বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরিতে। ২০১৬-য় কাজ শুরু। কাপড় দিয়ে গয়না, তারপর জুটের গয়না দিয়েও হাত পাকানো শুরু। আন্তর্জাতিক বাজারে জুটের চাহিদা বুঝতে পেরে তাতেই মন দিয়েছিলেন কল্লোরী। বাংলাতেও পাটের ব্যবহার নিয়ে প্রচুর সক্রিয় উদ্যোগ শুরু হয়েছে কিছু বছর ধরে। সব দিকে খেয়াল রেখে কল্লোরী পাটের সঙ্গে আরও নানা সামগ্রী জুড়ে তৈরি করতে থাকেন নেকপিস, কানের দুল ইত্যাদি। তাঁর ব্র্যান্ডের নাম ‘জাঙ্ক বনসাঁই’। 
এখন প্রদর্শনী বা মেলার পাশাপাশি অনলাইনেও গয়না বিক্রি করছেন তিনি। ক্রমশ দেশের বাইরেও গয়না পাঠানো শুরু হয়েছে। এখানকার গরমের কথা মাথায় রেখে তিনি হালকা জুটের গয়না তৈরি করছেন। নববর্ষের জন্য তিনি তৈরি করেছেন জুটের ছোট ছোট চোকার। যা বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে ক্যারি করা যাবে, জানালেন কল্লোরী। 
হাতে বানানো গয়নার ঝোঁক ছিল তাঁরও। কিন্তু অর্থনীতিতে এমএ করার পর গয়নার ডিজাইন? বাড়ির লোকজনের এক্কেবারে পছন্দ হয়নি বিষয়টি। পড়াশোনা শেষে স্বাভাবিক পথে একটা চাকরি করে চলবে মেয়ে, এমনটাই ভাবনা থাকে পরিবারের। যোশিতা পালও সেই গতের ভাবনা নিয়েই এগচ্ছিলেন প্রথমে। কিন্তু মনের কোথাও একটা খুঁতখুঁতুনি ছিল। শান্তিনিকেতনে পড়াশোনার সময় চারপাশে হাতে বানানো গয়নার পসরা দেখে বেশ লাগত তাঁর। আগ্রহ থেকে দোকানে গিয়ে দোকানির সঙ্গে বসে শিখে নেওয়াও চলল। নিজের যে কম্বিনেশন পছন্দ, সেইভাবে নিজে বানিয়ে তুলতেন, সাহায্য করতেন দোকানের দাদারা। সেইভাবেই শেখাটা হয়ে যায় যোশিতার। তারপর শহরে ফিরে নিজের পছন্দে আবার গয়না বানানো শুরু। সেই গয়না দেখে বাকিদেরও পছন্দ হচ্ছিল। তা থেকে ভরসা পেয়ে পরিবারের কিছুটা বিরুদ্ধে গিয়ে শুরু হল যোশিতার তৈরি গয়নার ব্র্যান্ড ‘সীতা_ফর দ্য বিউটিফুল সোল।’ সীতা কেন? তাঁর কথায়, ‘রাবণ যখন হরণ করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সীতা তখন নিজের বিভিন্ন অলঙ্কার ফেলে সেই পথটা চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন। রাম সেই পথ ধরেই তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। গয়নার সঙ্গে সীতার এই সংযোগটা পছন্দ হয়েছিল। তাই নাম সীতা।’
যোশিতাও প্রথম দিকে কাপড় বা নানা রঙের ফ্যাব্রিক দিয়ে গয়না বানানো শুরু করেছিলেন। তারপর কিছুদিন মাটি দিয়ে গয়নার কাজও তিনি করেছেন। পরে মনে হয়েছিল মাটির গয়না তো অনেকেই করেন। তার বদলে বিভিন্ন জিনিস মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে সেলাই করে বানালে কেমন হয়? নিজে সেলাইয়ে ততটা দড় ছিলেন না তখনও। মা-ঠাকুরমা ভালো সেলাই জানতেন। তাঁদের ভরসায় এবং নিজের চেষ্টায় ধীরে ধীরে স্টিচিংয়ের মাধ্যমে গয়না তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। মা তাঁর হাতের কাজ দেখে আর কিন্তু রাগ ধরে রাখেননি। 
ক্রমে ক্রমে সেলাইয়ে বানানো গয়নাই হয়ে ওঠে যোশিতার ইউএসপি। ঋতু অনুযায়ী দুর্গাপুজোর সময় শিউলি ফুল বোনা নেকপিস, বসন্তের সময় পলাশ আর বোগেনভিলিয়া— এমন নানা থিমে এখন গয়না বানাচ্ছেন তিনি। রঙের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল ডাই করে কাপড় ব্যবহার করছেন। এছাড়া মাছ থিম ধরে প্রচুর গয়না বানান যোশিতা। বললেন, বাঙালিদের মধ্যে এই থিম ভীষণ জনপ্রিয়। তাই অসংখ্য গয়না তাঁর রয়েছে মাছ নিয়ে। পরিশ্রমের তুলনায় হয়তো আর্থিক সাফল্য আসতে অনেকটা সময় নেয়। তবু অনেকে ভালোবাসছেন। আরও মানুষের কাছে নিজের হাতে বানানো গয়না ছড়িয়ে দেবেন, আশায় আছেন যোশিতা। 
সীতা_ফর দ্য বিউটিফুল সোল ও জাঙ্ক বনসাঁই 
 

26th     March,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ