বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

সফর সাজে স্বস্তিকা

সদ্য মরু শহর থেকে ফিরেছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। বালি উট কেল্লার ফাঁকে ফাঁকে নজর কেড়েছে তাঁর সাজও। শুধুমাত্র চতুষ্পর্ণীর পাঠকদের সঙ্গে ভাগ  করে নিলেন সাজ-কথা। লিখেছেন অন্বেষা দত্ত। 

রোদ্দুরে জ্বালা
পাহাড় আর সমুদ্র খুব প্রিয় স্বস্তিকার। কিন্তু রাজস্থান যাওয়ারও ইচ্ছেটাও নাকি মনের ভিতর লুকানো ছিল অনেকদিন। সোলো ট্রিপ বা একলা বেড়ানো আবার একদম পারেন না অভিনেত্রী। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমায় ভিতু টাইপের বলতে পারেন! বাবা মায়ের সঙ্গে কোথাও একটু গেলাম, ওই অবধি। বাবা-মাও আমার মতো ঘরকুনো। এখন শোভন (গঙ্গোপাধ্যায়) আমায় ঠেলে ঠেলে নিয়ে যায়। ওর যে জায়গাগুলো দেখার খুব ইচ্ছে, ও চায় আমাকে সেখানে  নিয়ে যেতে।’ ভ্যালেন্টাইন’স ডে-র সময় প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে রাজস্থান সফর কি সেভাবেই? স্বস্তিকার সলাজ উত্তর, ‘এই ট্রিপটা আমার কাছে সারপ্রাইজ ছিল। হঠাৎ করে দেখলাম ই-মেল-এ টিকিট এসে গিয়েছে!’ 
গায়ক শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের প্ল্যান তো বেশ জমজমাট, এদিকে স্বস্তিকা যে একেবারেই ‘নো সান পার্সন’। রোদ্দুরে গেলেই তাঁর স্কিন অ্যালার্জি হয়।  তাহলে মরু শহরে কীভাবে সামলালেন নিজেকে? ‘রাজস্থানে বেশিরভাগ ফুল স্লিভ জামা পরেছি। কারণ আমাদের অনেকের ত্বকেই ট্যান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। আর সঙ্গে অবশ্যই ছিল সানস্ক্রিন। আমি এমনিতে নো মেকআপ-এ বিশ্বাসী। ছবিগুলো দেখলেই বুঝবেন, শুধু সানস্ক্রিন মেখেছি বেশ করে! শুধু তাই নয়, চুলের সানস্ক্রিনও নিয়ে গিয়েছিলাম। এত চড়া রোদ্দুর। তাই মাথায় রেখেছিলাম স্টাইল যেমন করব, তেমনই ত্বক-চুলও যেন সুরক্ষিত থাকে। পাঠকদের একটা কথা মনে রাখতে বলব, খুব চড়া রোদ এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক খুব টানে। তাই ফুল স্লিভ একেবারে মাস্ট। এতেই ত্বক বাঁচবে।’ 

আরামও চাই
সাজব, ঘুরব বেড়াব যেমন, তেমন খেয়াল রাখব আরামের দিকেও— সাফ কথা স্বস্তিকার। আমাদের এমনিতেই গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। রাজস্থানের গরমের মতো না হলেও আমাদের দীর্ঘ সময় প্যাচপেচে গরমেই কাটাতে হয়। তাই অভিনেত্রীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে লিনেনের পোশাক। ‘আমাদের তো এখন চারটে ঋতু— গরম, বর্ষা, তারপর গরম শীত মেশানো, তারপর আবার বর্ষা! তাই এত আর্দ্র আবহাওয়ায় লিনেন আমায় খুব আরাম দেয়। সবসময় বুটিক থেকেই কিনি, এরকম নয়। যেখানে পাই পছন্দমতো, ঢিলেঢোলা জামাকাপড় কিনে নিই। আমি জিনস-ও খুব টাইট ফিট পরতে পছন্দ করি না। আমার কাছে কমফর্ট সবসময়েই বেশি দরকারি। ছোট থেকেই ঢিলেঢালা পোশাকে অভ্যস্ত আমি।’ তাই রাজস্থানে বেড়ানোর ক্ষেত্রে সেই ধরনেরই পোশাক বেছেছিলেন? ‘চিরকালই যেখানে যাই, সেখানকার আমেজ অনুযায়ী জামাকাপড় পরতে ভালোবাসি। যখন পাহাড়ে যাই, তখন যেমন সোয়েটশার্ট আর জিনস পরি। তেমনই জয়পুর বা জয়সলমীরে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন কিছু পরলে দারুণ মানাবে মনে হয়েছিল। ওখানে সব কিছুই তো ছবি তোলার মতো, যেমন ঐতিহ্যের ছাপ, তেমনই ইতিহাস অলিতে গলিতে। এমনিতে হালকা রং পরতে পছন্দ করি। তার জন্য হালকা বেজের কুর্তার সঙ্গে জিনস পরে একটা নেকপিস সঙ্গে পরেছি। এমন নেকপিস কিন্তু গোটা লুকটা বদলে দিতে পারে। আমার মনে হয় যখন কেউ একটা সাদা শার্ট আর ডেনিম পরে সঙ্গে একটা কানের বা গলার বড় ঩কিছু পরে, পুরো লুক অন্যরকম।’  

ফুল স্লিভ স্টাইল
সোনার কেল্লার রাজ্যে ফুল স্লিভ পোশাক পরে স্মার্ট লুক তৈরি করার পথটা একটু বলুন? ‘ফুল স্লিভ মানেই শুধু শার্ট বা টি শার্ট কিন্তু নয়। তাতে ভালো ছবিও উঠবে না। বেড়াতে গিয়ে ভালো ছবি না উঠলে কি মন ভরে? তাই আমি কলমকারি কাজ করা ফুল স্লিভ টিশার্টের সঙ্গে জিনস পরে তার উপরে একটা লং ব্ল্যাক শ্রাগ পরে নিয়েছিলাম। ব্ল্যাক এমনিতেই সব কিছুর সঙ্গে কনট্রাস্টে যায়। সেরকমই বিকেল বা সন্ধ্যেবেলায় পরেছি হারেম প্যান্টের সঙ্গে ব্যাগি টপ, থ্রি কোয়ার্টার হাতা। তার সঙ্গে চুল বেঁধে খোঁপা করেছি, গলায় পরেছি চোকার। চোখে চশমা, লুক একদম তৈরি। এতে এথনিক টাচও রইল আবার ইন্দোওয়েস্টার্ন লুকও এল। শুভা ডিজাইন স্টুডিও থেকে পোশাকগুলো কিনেছিলাম।’ 
স্বস্তিকার মতে, ‘যা পরবেন, যেভাবে ক্যারি করবেন সেটাই আপনার স্টাইল। আজ দীপিকা পাড়ুকোনের মতো অভিনেত্রী যদি ওয়েস্টলাইনের নীচে জিনস পরেন, সেটাই স্টাইল হয়ে যাবে। আমার যদি আরাম হয়, হাফপ্যান্ট আর টপ পরেও কোনও ছবির প্রিমিয়ারে চলে যেতে পারি। সবটাই কীভাবে আপনি ক্যারি করছেন, তার উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে ফুটপাত থেকে একটা মাস্ক চেন কিনেছিলাম, তাতে বিভিন্ন রঙের বিডস দেওয়া। সেটাও একটা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে ক্যারি করেছি বেড়ানোর সময়। আবার আমাকে অনেকে যেমন বলে আমি চুল বেশি খোলা রাখি না। বেঁধে রাখতে পছন্দ করি। তাই ওটাই আমার স্টাইল।’

ডিজাইনারের ইনপুট
শুভা ডিজাইন স্টুডিও-র তরফে শুভা মিত্র জানালেন, রাজস্থান সফরে স্বস্তিকা যে ধরনের পোশাক পরেছেন, সবই অর্গানিক কটন বা কটন মাল-এর উপরে করা। কারণ রাজস্থানে এমনিই এত রং, প্রিন্টের থেকে ওখানে সলিড রং ভালো লাগে। তাই ওকে যে ব্ল্যাক শ্রাগটা বানিয়ে দিয়েছি, ওতে অনেক লেয়ারসও আছে। এটা একটা ডেফিনিট লুক দেয়।  যে লাল লং শ্রাগ পরেছে সেটা একেবারে টকটকে লাল। আর রাজস্থানের ব্যাকগ্রাউন্ডে মিল্কি হোয়াইট ভালো লাগবে না, তাই বেজ অর্গানিক লিনেন কুর্তা পরেছে। ট্র্যাডিশনাল অথচ ফাঙ্কি, এরকমটাই কথা বলে লুক ঠিক করেছিলাম আমরা। 

প্যাকিং প্ল্যান
বেড়াতে যাওয়ার আগে প্যাকিং করার সময় কী কী মাথায় রাখা উচিত? ‘বেড়ানোর প্ল্যান হলে আমি আগে থেকে সবটা ভেবে নিই কবে কী পরব। এমনিতেই সব কিছু গুছিয়ে করতে ভালোবাসি। ওই গিয়ে সব এলোমেলো হয়ে গেল, কবে কী পরব, ভেবে পেলাম না, এমনটা চলবে না আমার। অযথা বেশি জামাকাপড় নিয়ে ব্যাগ ভারী করারও কোনও মানে হয় না। আমার মনে হয় প্যাকিংয়ের সময়েই যদি কেউ তার পছন্দমতো জিনিস বুঝে বুঝে সবটা গুছিয়ে ফেলে, সেটা অনেক সহজ। আমারও তাই প্ল্যান ছিল। পাঁচটা সেট পাঁচ দিনের জন্য, যাতে ডেস্টিনেশনে পৌঁছে আর দু’বার ভাবতে না হয়,’ পরামর্শ তাঁর।
জার্নির জন্য কী ধরনের পোশাক পছন্দ? স্বস্তিকার জবাব, ‘এয়ারপোর্টের জন্য বা ট্রাভেলের সময় আমি বেশিরভাগ পরি শার্ট-ড্রেস। এটা স্রেফ গলিয়ে নেওয়া। আর পায়ে স্নিকার্স। এতে পায়ের আরামও আর ঠিকঠাক থাকে। সাধারণ চপ্পল পরলে অনেক সময় পা বেশি ঘেমে যায়, তাই আমার জন্য স্নিকার্স আদর্শ। যে কোনও পোশাকের সঙ্গে আমি এটা পরতে পারি। হারেম প্যান্টের সঙ্গে বিকেলবেলা স্লিপার্স পরেছিলাম শুধু। আর ঘড়ি বলতে স্মার্ট ওয়াচই আমার সঙ্গী।’ 

রিসাইক্লিং
না-পরা প্রচুর জিনিস থাকে আলমারিতে। ফলে বেড়াতে যাওয়া মানেই একগাদা নতুন জামাকাপড় কিনে ফেলা, এটা মানেন না স্বস্তিকা। তাঁর কথায়, ‘একই জামা যতক্ষণ না ন্যাতার মতো হয়ে যাচ্ছে, আমি পরতেই থাকি। অর্থাৎ ওটার আরাম পুরোটা চাই আমার। আউট অব দ্য বক্স পোশাক পরতেও ভালোবাসি। আজকাল লং শ্রাগ বেশ লাগছে। যেমন জিনসের সঙ্গে একটা ট্যাঙ্ক টপ পরে উপরে একটা শ্রাগ গলিয়ে নিলাম। খুব স্মার্ট দেখতে লাগে। রাজস্থানে সেটাই ট্রাই করেছি। এছাড়া অনেক পুরনো শাড়ি, যা এখন আর পরি না, সেগুলো ফেলে না দিয়ে আমার চেনাশোনা দর্জিকে দিয়ে শ্রাগ বানিয়ে নিই। রিসাইক্লিং তো হলই, ফ্যাশনও হল।’
কী ভাবছেন? স্বস্তিকার সফর সাজের মতো লুক ট্রাই করলে কেমন হয়? আশপাশ কিন্তু জানান দিচ্ছে, বসন্তের পিছনেই হাওয়া গরম!    
 
ছবি: শোভন গঙ্গোপাধ্যায়
 

26th     February,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ