বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

ঘরের কোনে
চা-ঘর

শহর জুড়ে এখন ক্যাফের ছড়াছড়ি। ঢেউ লেগেছে মফস্সলেও। কোনটা ছেড়ে কোনটায় যাই! কিন্তু কেমন হয় যদি নিজের চেনা আস্তানায় একটুকরো চা-ঘর বানানো যায়? সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে কথায় অন্বেষা দত্ত।

ঘরে বেশি বেশি থাকা যেন বাড়িয়ে তুলেছে ঘরের সঙ্গে বন্ধুত্ব। আগে যে দেওয়ালটা রোজ সকালে হুটোপাটি করে বেরিয়ে যাওয়ার পথে চোখেও পড়ত না, এখন যেন মনে হয় চেনা একঘেয়ে দেওয়ালটা একটু অন্যরকম করে সাজালে কেমন হয়? সাজানোর পরে যখন চোখ টানে সে দেওয়াল, মনে হয় আহা এইটুকু সাজ তো প্রাপ্যই ছিল নিজস্ব নীড়ের। 
রোজকার চার দেওয়ালের আস্তানায় এমনই বদল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎ একদিন কবি ও চিত্রনাট্যকার সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুকে দেওয়া একটি ছবি চোখ টানল। নিজের ঘরের একটা অংশ সাজিয়ে গুছিয়ে দিব্যি চা-ঘর বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। যে কোনও চা-প্রেমী তো বটেই, চা থেকে শত হস্ত দূরে থাকা মানুষটিরও মন ভোলাবে ওই ছোট্ট অংশ। ব্যস্ততা পেরিয়ে ক্যাফেতে বসার সুযোগ হয় না যাদের, বাড়ির মধ্যে এমন একটা নিরালা কোণ কিন্তু তাদের জন্য আদর্শ। একা বা হাতে গোনা বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন যারা, তারা চাইলে ঘরের পাশের চা-ঘরে দীর্ঘ সময় কাটাতেই পারেন। চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার তাড়া নেই, পেয়ালায় তুফান তোলা বাঙালি তর্কে মজুক সব ভাবনা ভুলে।  

কথায় কথায় জানতে চাইলাম তাঁর কাছে, এই আইডিয়াটা পেলেন কোথায়?
সম্রাজ্ঞী বললেন, ‘আমার তো মূলত সারাদিন বসে বসে লেখার কাজ বা ভাবার কাজ। তাই সে কাজের মাঝে একটু উঠে হেঁটে চা খেলে বেশ লাগে। চা খাওয়ার জন্য রান্নাঘরে না ছুটে ভাবলাম ঘরের কোণেই একটা ছোট জায়গা খুঁজে নিলে কেমন হয়, মনে হয়েছিল সেটাই। সারাক্ষণ ল্যাপটপ বা দেওয়ালের দিকে চেয়ে চা না খেয়ে একটা চোখের আরামও হলও ওখানে বসে আর কি।’

কীভাবে সাজালেন একান্ত আপন কোণটি? 
তাঁর কথায়, ‘আমার একটা ছোট্ট কাজের ঘর আর সে ঘর লাগোয়া একটা বারান্দা আছে। সেখানে ঘরের জানলার কাছে একটা মার্বেলের র‌্যাক ছিল। সেটার কোণেই আমার টি-কর্নার। কারণ তার পাশেই প্লাগ পয়েন্ট দিয়ে ইলেকট্রিক কেটল-টা সেট করে রেখেছি। চা করা ছাড়াও সেখানে সন্ধেবেলা সুন্দর করে আলো জ্বালাতেও পারি।’

কী কী উপাদানে সাজালেন? 
‘বই ছাড়া যে কোনও জায়গাই প্রাণহীন লাগে। তাই ওখানে রেখেছি চায়ের ইতিহাস নিয়ে একটা বই। কফির ইতিহাস নিয়ে বই রাখারও ইচ্ছে আছে। কারণ অনেকে কফিও  ভালোবাসে। এছাড়া অন্য ধরনের বই তো আছেই। এর সঙ্গে আছে দু’তিন রকমের টি-পট। একটা কিনেছিলাম দার্জিলিঙের নাথমুলস থেকে। এটা একেবারেই দু’তিনজন বা চারজনের চা বানানোর জন্য আইডিয়াল। আর একটা উপহারে পেয়েছি খুব কাছের বন্ধুর থেকে। উত্তরবঙ্গেরই পাহাড়ি জংলাফুলের মোটিফওয়ালা সেরামিকের একটা টি-পট। তার হ্যান্ডেলটা বাঁশের মতো। খুব অন্যরকম। এছাড়া আরও নানা উপহার পাওয়া সামগ্রী রেখেছি। আর এক কাছের বন্ধুর দেওয়া নানা ফ্লেভারের কফিও আছে। তাই একে ‘টি অ্যান্ড কফি কর্নার’ বলাই যায়! আর রেখেছি চা দেওয়ার জন্য লম্বা মতো কিছু কাপ। যার মোটিফে আছে অনেক মহিলার টেবিলের ধারে বসে গল্প করার চিত্র। মোটিফটা ভীষণ পছন্দের। এছাড়া সেরামিকের অন্য কাপও আছে। পিচ আর ব্লু মিলিয়ে নানা কাপ আর টি-পট রেখেছি। রঙের ছোঁয়ায় সবটা বদলে যায়। কিছু কোস্টারও আছে মানানসই, এসবের অনেক কিছুই ভালোবাসার মানুষজনের উপহার,’ বললেন সম্রাজ্ঞী। চায়ের নানা ভ্যারাইটিও রেখেছেন তিনি। যেমন, নাথমুলসের ফার্স্ট ফ্লাশ, গোপালধারার গ্রিন টি, উলং টি ইত্যাদি। কেউ তার পছন্দমতো আরও নানা ফ্লেভার যোগ করতেই পারেন। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে নানারকমের স্ট্রেনার।


চায়ের সঙ্গে টা-ও তো লাগে একটু? 
‘হ্যাঁ অবশ্যই। চায়ের সঙ্গে একটু কিছু খেতে তো লাগেই। তার জন্য স্বচ্ছ কিছু কৌটোয় কুকিজ রেখেছি। ছোট ছোট জারে রেখেছি ড্রাই ফ্রুটস। টিল আর গোল্ডেন কালার মেশানো একটা ট্রে-র উপর সব জার সাজিয়ে রেখেছি। আর সব কিছু রেখেছি খুব সাধারণ কাপড়ের উপর। মূলত ঘরের নানা জিনিস মোছামুছির কাজে লোকে এখন এসব কাপড় কেনে। আমার এই চেকস মোটিফটা খুব পছন্দ, তাই নানা রঙের এই কাপড় সাজিয়ে নিয়েছি, এতে একটা প্যাস্টেল শেডের সুন্দর রং তৈরি হচ্ছে,’ বললেন তিনি। সম্রাজ্ঞীর এই কাপড় পছন্দ দেখে মনে হল, ঘর সাজাতে গেলেই যে একটা মারকাটারি খরচাপাতি করতে হয়, এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। খুব সাদামাটা জিনিস বাছাই করে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার মধ্যেই রয়েছে সৌন্দর্য। এর সঙ্গে কিছু সুন্দর ম্যাগনেট আশপাশে লাগিয়ে চা-ঘরের আবহকে তিনি দিয়েছেন অন্য আমেজ। ম্যাগনেটগুলোর মধ্যেও আছে চা নিয়ে কথাবার্তা!   

তাহলে আর দেরি কিসের? আইডিয়া তো পেয়েই গেলেন। এবার নিজের মনের মতো করে আপনিও সাজিয়ে তুলুন আপনার চা-ঘর। শীতের আয়েশে ধোঁয়া ওঠা কাপে চুমুক দিন আর ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন!      
ছবি: প্রণব বসু

11th     December,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ