বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

ফ্যাশনে জিম, জগিং 

ওয়ার্ক ফ্রম হোম এখন প্রায় সকলেরই বাস্তব। চলাফেরার অভাবে হাতে পায়ে খিল ধরছে তাই। শরীরচালনা করতে এক্সারসাইজই ভরসা। পাশাপাশি চলছে জগিংও। কেমন পোশাক আর জুতোকে সঙ্গী করবেন এক্ষেত্রে? জানালেন কমলিনী চক্রবর্তী।

অমৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বয়স ৪৫। বিবাহিতা। দুই সন্তানের জননী। পেশায় তিনি হোমমেকার। তাই হাতে বেশ খানিকটা অবসর। আর সেই অবসরকে কাজে লাগিয়ে শরীরচর্চায় লেগে পড়েছেন। তবে এই যে শরীরচর্চার অভ্যাস তা কিন্তু হালে তৈরি হয়েছে, মধ্যবয়সে পৌঁছে ছেলে-মেয়ে বড় হওয়ার পর। হঠাৎ এই শরীরচর্চার ইচ্ছা কি নিছকই ঝোঁকের বসে? প্রশ্ন শুনে একগাল হাসলেন অমৃতা। তারপর একটু যেন ভাবলেন মনে মনে। শেষ পর্যন্ত বললেন, ‘নাহ্। অনেকদিন থেকেই মনে মনে সুন্দর হয়ে ওঠার, শরীরকে ফিট রাখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু এর আগে সময় আর সাহস কোনওটাই হয়নি।’ তা এই মাঝবয়সে গিয়ে এমন সাহসী হয়ে উঠলেন কীভাবে? এবার একটুও না ভেবেই বললেন, ‘আরে বাবা শরীর জানান দিল তার খেয়াল রাখা দরকার। নইলে অকালেই ব্যথা-বেদনায় পেয়ে বসবে। আমরা মেয়েরা সবাই একরকম। ঠেলা না খেলে শরীরচর্চার কথা ভাবনাতেও আসে না। মাঝবয়সের আগে তাই মেয়েরা সচরাচর এক্সারসাইজের দিকে ঝোঁকে না।’
অমৃতার সঙ্গে একেবারেই সহমত পোষণ করেন অজন্তা কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাগ্নিক বণিক। নিজেদের কোম্পানির স্পোর্ট শ্যু বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানালেন তাঁদের এই যে স্পোর্টস আইটেম— তার ক্রেতা মূলত মাঝবয়সি মহিলারা। পুরুষদের ক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। ফিটনেসের প্রতি তাঁদের আকর্ষণ বরাবরের। তাই সব বয়সেই ছেলেরা ফিটনেস সচেতন। রানিং, জগিং, জিম ইত্যাদি নানা বিষয়ে পটু। তাই পুরুষদের স্পোর্টস শ্যু যতটা চলে, মহিলাদের তা চলে না। তাও তো হালে মেয়েরা একটা বয়সের পর স্পোর্টস শ্যু, জিম গিয়ার ইত্যাদি কিনছেন। আগে তো মেয়েদের জুতো মানে শুধুই ছিল ফ্যাশনেবল স্যান্ডেল।
স্পোর্টস শ্যু বানানোর ক্ষেত্রে কী কী দিকে খেয়াল রাখতে হয়? সাগ্নিকের মতে, সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানে এই ধরনের জুতো তৈরি করা হয়। স্পোর্টস শ্যু বানানোর ক্ষেত্রে কমফর্ট লেভেল বা পায়ের আরামের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। কারণ স্পোর্টস শ্যুয়ের কাছে আমাদের চাহিদাটাই অন্যরকম। এখানে পায়ের আরামই শেষ কথা। লোকে স্পোর্টস শ্যু পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারবে, হাঁটতে পারবে, পায়ে ব্যথা হবে না বা ফোস্কা পড়বে না— এই জিনিসগুলো মাথায় রাখতে হয়। সাধারণ ক্ষেত্রে যেমন জুতোর ওপরের অংশ আর সোলের মাঝে একটা কাঠের তক্তা লাগানো হয় যার সঙ্গে ওপরের অংশটা পেস্টিং করে বানানো হয়, স্পোর্টস শ্যুয়ের ক্ষেত্রে তা হয় না। এক্ষেত্রে সোলের সঙ্গে ওপরের অংশ জোড়া হয় একটা কাপড়ের টুকরোর মাধ্যমে। তাই এই ধরনের জুতোয় একটা নরম ফিল থাকে, তা পরলে পা ঘেমে যায় না এবং এই জুতো একটানা সাত আট ঘণ্টা বা তারও বেশিক্ষণ পরে থাকা যায়। তাছাড়াও এই ধরনের জুতো বানানোর সময় তার ওজনের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখা হয়। একদম হাল্কা জুতো না হলে তা পরে দৌড়ানো বা হাঁটা যায় না। ফলে স্পোর্টস শ্যু বানানোর সময় হাল্কা ওজন রাখার দিকে আমরা বিশেষ নজর ঩দিই।
আরামের প্রসঙ্গে সাগ্নিক বলেন, স্পোর্টস শ্যুয়ে ডবল ডেনসিটি তো বটেই, এমনকী ফাইভ ডেনসিটি টেকনিকও ব্যবহার করছেন তাঁরা। এতে জুতোর সোল বেশি নরম এবং কুশন যুক্ত হয়। ফলে তা পরে আরাম পাওয়া যায় বেশি। তবে স্পোর্টস শ্যুয়ের ক্ষেত্রে আরও যে জিনিসটা খেয়াল রাখা জরুরি তা হল এর গ্রিপ। সোলের সঙ্গে রবারের ব্যবহারে সেই গ্রিপ বাড়িয়ে তোলা হয় বলেই জানালেন সাগ্নিক।
কথা হচ্ছিল শ্রীলেদার্স-এর লিন্ডসে স্ট্রিট শপের ম্যানেজার বিশ্বজিৎ ঘোষের সঙ্গে। তাঁর মতে পায়ের আরামের জন্য তাঁরা স্পোর্টস শ্যু-তে ইনসক্স প্যাডিং তৈরি করছেন। এই প্যাডিং পায়ের পাতার অতিরিক্ত দেখভাল করে। গোড়ালিতে বা আঙুলে যাতে ব্যথা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা হয় এই প্যাডিংয়ের মাধ্যমে। এমনকী অনেকক্ষণ হাঁটলে বা দৌড়লেও এই প্যাডিং পায়ের পাতার দারুণ দেখভাল করে। তাতে পায়ের তলায় ব্যথা হয় না বা তার চামড়া খসখসে হয়ে যায় না। সোল একটু বেশিই নরম করে তৈরি করা হয়। তার ওপর পা রাখলে মনে হয় যেন মখমলের ওপর পা রাখা হয়েছে।
তবে শুধু তো আর আরামের কথা ভাবলেই চলবে না, একইসঙ্গে দেখনদারির দিকেও নজর দিতে হবে। বিশ্বজিৎ বলেন, খুব বেশি রংচঙে নকশার দিকে তাঁরা ঝোঁকেন না। যেহেতু মাঝবয়সি মহিলাদের কথা ভেবেই এই ধরনের জুতো বানানো হয়, তাই রঙের ক্ষেত্রে প্যাস্টেল শেডসের ওপরই তাঁদের নজর থাকে বেশি। তবে মহিলারা একটু ফেমিনিন রং অনেক সময় চান। তাই একটা বিশেষ রং নিয়ে অজন্তা কোম্পানি পরীক্ষা করছেন, বিটরুট রেড। এটা সব বয়সে, সব চেহারায় মানানসই বলে জানালেন সাগ্নিক।
বিশ্বজিৎ বলেন মেয়েরা অফিস ইউজের জন্যও এই ধরনের জুতো পরতে ভালোবাসেন তাই একটু আকর্ষণীয় চেহারায় তৈরি হচ্ছে এই জুতো। রংও বহু রকম। যেমন মহিলাদের কথা ভেবে কখনও পিঙ্ক, কখনও গ্রিন, কখনও বা নেভি ব্লু রঙে তৈরি হচ্ছে স্পোর্টস শ্যু। অনেকে অবশ্য কম্বিনেশন রং ভালোবাসেন তাই টু ইন ওয়ান রঙের ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে একটা গাঢ় রঙের সঙ্গে একটা হাল্কা রং মেশানো হয়।
জুতো ছেড়ে এবার একটু জামার দিকেও নজর দেওয়া যাক। মেয়েদের জিম গিয়ার বিষয়ে জানালেন রিবক ইন্ডিয়ার রিজিওনাল হেড। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে মেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। তার সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে অনলাইন মার্কেট। সব মিলিয়ে পৃথিবীটাই এখন গ্লোবাল ভিলেজ। তাই ভারতে মেয়েদের জিম গিয়ার বানানোর জন্য ডিজাইনের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়।
জিম গিয়ারের ক্ষেত্রে মেয়েরা ফিটিংস পোশাক পছন্দ করে। তাছাড়া তা হবে লাইট ওয়েট এবং ফ্যাশনেবল। তাই হাল্কা প্যাস্টেল রং, টাইট ফিটিং কমফর্টেবল পোশাক বানানোর দিকে নজর দিয়েছে রিবক। রঙের ক্ষেত্রে ম্যাট পিঙ্ক, মস ও অলিভ গ্রিন, গ্রে, রাস্ট ইত্যাদি রঙের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। তবে সাদা বা কালোর চাহিদা মহিলামহলে ততটা নেই, রিবকের তরফে জানালেন করণ অরোরা। আবার ট্র্যাক প্যান্ট যেমন পুরুষদের খাস পছন্দ, মহিলাদের তেমন নয়। বরং তাঁরা বেশি থ্রি কোয়ার্টার টাইটস পছন্দ করেন। আজকাল অবশ্য মেয়েদের পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাখা হচ্ছে প্রিন্টেড ট্র্যাক প্যান্টস। সেগুলো জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। আরথি শেডের সঙ্গে কনট্রাস্ট বর্ডার মেয়েরা বেশি পছন্দ করেন। গ্রিন, ব্রাউন, গ্রে, রাস্ট ইত্যাদি রঙের চাহিদা তাই মেয়েদের মধ্যে বেশি। কনট্রাস্ট বর্ডারে সাদা, কালো, লাল, নীল জাতীয় সলিড রংই বেশি চলে।
অ্যাডিডাসের জিম গিয়ারে রয়েছে স্লিভলেসের প্রাধান্য। নেক লাইনে অল্প প্লাঞ্জও লক্ষ করা যায়। আর পিঠের দিকে জোড়া স্টাইল। অর্থাৎ কাঁধের স্ট্র্যাপগুলো এসে পিঠের কাছে একটা বড় প্যাচের মতো কাপড় দিয়ে জোড়া হয়। এই ধরনের পোশাক পরে একটানা অনেকক্ষণ এক্সারসাইজ করলেও তা গায়ের সঙ্গে লেগে থাকে। কাঁধ থেকে স্ট্র্যাপ খুলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।
এখন কলকাতার মহিলারা একটু বিদেশি লুক পছন্দ করছেন তাই স্পোর্টস শ্যু থেকে পোশাক সবেতেই এসেছে বৈচিত্র্য। ওয়েস্টার্ন লুকের সঙ্গে অবশ্য অনেকে একটু ইন্দোস্টাইল ফিউশনও চান। সেক্ষেত্রে জিম আপারে থাকছে টি-শার্ট লুক। তবে এই ধরনের টি-শার্টও গায়ের সঙ্গে লেগে থাকে। ঢোলা হলে তা পরে ট্রেডমিল বা ক্রাঞ্চ কোনও এক্সারসাইজই করা যায় না, জানালেন অ্যাডিডাসের তরফে নীলেন্দ্র সিং। ফলে ফিটিংসের দিকে খেয়াল রাখা হয় আবার কমফর্টও দেখা হয়। পোশাক এমন হবে যা পরে আরাম পাওয়া যাবে। এছাড়াও এগুলোর সোকিং কেপাসিটিও খুব বেশি হওয়া দরকার। যাতে তা ঘাম শুষে নিতে পারে। এই ধরনের পোশাকে কটন ফাইবার, সফট টাচ এবং কমফর্ট ফিল— এই তিনটে জিনিসের দিকে বিশেষ নজর দেয় অ্যাডিডাস।
 গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল 

17th     July,   2021
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021