বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

সাধনা

একটি লক্ষ্যে তীরের মত তন্ময় থাকাই শ্রেষ্ঠ সাধনা—এতেই মন হয় অন্তর্মুখী, আত্মার হয় দিব্য প্রকাশ। ঈশ্বর স্বয়ম্ভূ ও সর্বময়—এই সীমার জগতে তাঁর রূপের লীলাময় বিচিত্র বিকাশ। একটি কীটকেও যদি সুখী করতে পার, এতে তাঁকেই সন্তুষ্ট করা হয়। কেবল দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য ফলের এই তারতাম্য—একটি পথিকের কাছে যা শিলাখণ্ড, সাধকের কাছে তাই আবার শালগ্রাম—সেখান থেকেই সত্যলাভ করেন তিনি। এই যে সংসারের কাছে আত্মনিবেদন, প্রতিদিনের ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তুমি যে দুঃখের দুশ্চর তপস্যা করছো—এ যে তাঁরই সেবা, এইটুকু ভাবতে শিখো—দেখবে এরই ভিতর দিয়ে হয়েছো তুমি অমৃতের অধিকারী, তোমার সকল পূজা ও প্রণাম গিয়ে পৌঁছেচে তাঁরই পায়ে। যে কোনো ব্যক্তিকে তুমি ভালোবাসতে শেখো, সেই নিষ্কাম ভালোবাসাই দেবে তোমাকে দেবত্বের অপার মহিমা—ব্যক্তির ভেতর দিয়ে তুমি লাভ করবে বিভুকে।
আমি নিতান্ত ক্ষুদ্র মানুষ—আমাকে বড় ভেবো না, কোনো মহতের সঙ্গে আমার তুলনা হয় না। আমি তাদের চরণাশ্রিত এক অধম, অভাজন ব্যক্তি। আমি শুধু তাঁদের নয়—তাঁদের ভক্তদেরও দয়া ভিখারী। আমি যেন মহতকে পূজা করার যোগ্যতা লাভ করি—এ আশীর্বাদ মনে-মনে তোমাদের কাছেও ভিক্ষা করি। ধন জন মানের আকাঙ্ক্ষা থাকতে প্রকৃত বিশ্বাসের রাজ্যে প্রবেশ করা যায় না। কাম বাধাপ্রাপ্ত হলেই ক্রোধ হয়—এরপর অবিশ্বাস, সন্দেহ, বুদ্ধিভ্রংশ সমস্তই ঘটে, বিচার বিবেকের আলো যায় নিভে। শ্রীরামচন্দ্র পরব্রহ্ম—তিনি হা-সীতা, হা-সীতা বলে বনে-বনে ক্রন্দন করে ফিরেছেন। ব্রহ্মাও ব্রজের কৃষ্ণকে পরমপুরুষ বলে বিশ্বাস করতে পারেননি। শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে অন্বেষণ করে কুঞ্জে-কুঞ্জে ভ্রমণ করেছেন। ছোটো হরিদাস কোথায় গেলো—সে খবর মহাপ্রভু তাঁর ভক্তদের কাছে বারবার জিজ্ঞাসা করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলতেন, পঞ্চভূতের ফাঁদে ব্রহ্ম পড়ে কাঁদে। রামদাস কাঠিয়াবাবা তাঁর ঘোড়া হারিয়ে সারাদিন ব্রজের মাঠে মাঠে তাকে অন্বেষণ করে ফিরেছেন। বৈষ্ণব মহাত্মারা প্রত্যেকেই নিত্যসিদ্ধ। শ্রীরূপ গোস্বামীর লীলাদর্শন বন্ধ হ’ল কেন? তা তিনি জানতে পারেন নি। কবিরাজ গোস্বামীর মহাগ্রন্থ ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ লুণ্ঠিত হলো—কে নিলো, কোথায় গেলো—তারি শোকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। গোস্বামীপ্রভু মহাত্মা যোগজীবনকে জনৈক সাহেবকে জানাতে বলেছিলেন যে কলকাতা গেলে তাঁর সাধন হবে। কিন্তু তাঁর আর কলকাতা যাওয়া হয়নি। শ্রীক্ষেত্রে লীলা সংবরণ করেন। রামদাস কাঠিয়াবাবা গোস্বামীপ্রভুর জনৈক শিষ্যকে বলেছিলেন, ‘যাও, এখন থেকে তোমার রোগ সেরে যাবে।’ কিন্তু তা হয়নি। কেন হলো না প্রশ্ন করা হলে বললেন, কি করবো রামজী আমার কথা রাখলেন না। এ ধরনের আরো অসংখ্য দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়। বাসনা না গেলে বিশ্বাস আসে না। বিশ্বাসে মানুষ এমন এক রাজ্যে প্রবেশ করে—সেখানে ইন্দ্রত্বও তুচ্ছ।যত তাঁর চরণে নিজেকে নিবেদন করবে, শাস্ত্রও মহাজনবাক্য অনুসরণ করে চলবে ততই জীবন ধন্য হবে। সুখ শান্তি সম্পদ সম্মান সমস্ত কিছুর দাতা তিনি। 
পত্রসাহিত্যে শ্রীপরমানন্দ (২য় খণ্ড) থেকে

19th     September,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ