বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

নিত্যলীলা

শ্রীকৃষ্ণের নিত্যলীলা নিত্যকালেই আছে। ঐ লীলা অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে বিচরণ করিয়া বেড়ায়। পাঁচ হাজার বৎসর পূর্বে ঐ লীলা এই পৃথিবীকে স্পর্শ করিয়াছিল। ‘স্পর্শক’ (যাহার ইংরাজী নাম tangent) যেমন বৃত্তের পরিধিকে স্পর্শ করিয়াছিল তাহার নাম বৃন্দাবন ধাম। এই ধামকে নিত্যলীলা স্পর্শ করিয়াছিল অনন্তকালের তুলনায় অতি অল্প সময়। সেই অল্পকালের ঘটনা বেদব্যাস পুত্র শুকদেব পরীক্ষিৎ রাজার সভায় সপ্তাহকাল ধরিয়া ভাষণ দিয়াছিলেন। তথাপি আমরা তাহা ঠিক ঠিক বুঝি নাই। কিঞ্চিদধিক পাঁচশত বৎসর পূর্বে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র আবার এই বাংলাদেশে নবদ্বীপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। তিনি সেই লীলা নিজের জীবনের মধ্যে প্রকট করিয়াছিলেন। তাহা তাঁহার শ্রেষ্ঠ পার্ষদেরা গ্রন্থে লিখিয়াছেন। তাহা হইতে আমরা জানি রাগভক্তি কী বস্তু। এই হইল সংক্ষেপিত গোপীদের অনুকম্পার ইতিবৃত্ত। তাঁহাদিগকে গোপী বলে কেন তাহারও কারণ বলি। যে ধাতু হইতে গোপী শব্দ নিষ্পন্ন হইয়াছে, তাহার দুইটি অর্থ। গোপন করা ও রক্ষা করা। যাঁহারা হৃদয়ের রাগ ভক্তিকে প্রাণের অন্তস্তলে লুকাইয়া রক্ষা করিতে পারেন তাঁহারা গোপী। বৈধীমার্গের ভজনে কিছু বাহ্যিক আড়ম্বর থাকিবেই। কিন্তু রাগ পথের ভজনে কোন বাহ্যিক আড়ম্বর নাই। চোখের জল ছাড়া তাঁহাদের আর কোন বাহিরের পরিচয় সহসা পাওয়া যায় না। এই চোখের জলকেও তাঁহারা কিরূপে গোপন করিতেন তাহার দুই একটি দৃষ্টান্ত দিতেছি। রান্না ঘরে বসিয়া কোন গোপবধূ কৃষ্ণের অদর্শন জনিত বেদনায় চোখের জল ফেলিতেছেন। কোন গুরুজন তাহা দেখিয়া ফেলিয়া যদি ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করেন তখন সেই গোপী বলেন—রান্নার কাঠটি অত্যন্ত ভিজা, তাই ধোঁয়া হইতেছে। ধোঁয়ায় চোখের জল পড়িতেছে। তাঁহারা তাঁহাদের চোখের জল কৃষ্ণের নিকট পর্যন্ত গোপন করেন। একদিন সন্ধ্যায় শ্রীকৃষ্ণ গোষ্ঠ হইতে গোকুলে আসিতেছেন। কয়েকজন গোপী আকুলভাবে তাহা দর্শন করিতেছেন। দর্শন করিতে করিতে তাঁহাদের নয়ন হইতে ধারা বহিতেছে। এই ধারা তাঁহারা ক্ষণে মুছিতেছেন। শ্রীকৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করিলেন—তোমরা কান্দ কেন? চোখ মুছিতেছ কেন? গোপীরা বলিলেন—“তোমার সঙ্গে যে একদল গরু বাছুর, তাহাদের পায়ের ক্ষুরে আকাশে ধূলি উড়িতেছে। ঐ ধূলি আমাদের চক্ষে গিয়াছে। তাই মুছিতেছি।” এইভাবে যাঁহারা হৃদয়ের গাঢ় অনুরাগ গোপনে রক্ষা করিতে পারেন তাঁহারা গোপী। শ্রীমন্মহাপ্রভু গৌরাঙ্গদেবও কিভাবে চোখের ধারার কথা গোপন করিতেন তাহার দৃষ্টান্ত দিতেছি। একদিন গৌরহরি স্বরূপদামোদরকে বলিতেছেন—স্বরূপ! আমার হৃদয় বজ্র হইতেও কঠিন। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার এক বিন্দুও প্রেম নাই। স্বরূপ বলিলেন—না প্রভু, তোমার কৃষ্ণে অসীম প্রেম আছে। প্রভু বলিলেন—তুমি কী করিয়া বুঝিলে? স্বরূপ বলিলেন—তুমি দিনরাত এত কান্দ, শ্রীকৃষ্ণপ্রেম না হইলে কেহ এত কান্দিতে পারে না। প্রভু বলিলেন—স্বরূপ, তুমি ভুল বুঝিয়াছ। আমি কৃষ্ণের জন্য কান্দি না। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলিয়া কান্দিলে লোকে আমাকে বড় সাধু মনে করিবে বা খুব ভাগ্যবান মনে করিবে, এইজন্য কান্দি। শুনিয়া স্বরূপ ভাবিলেন, প্রভুর কি অপূর্ব চতুরতা! এখন শ্রীকৃষ্ণের কথা কিছু বলি। শ্রীকৃষ্ণের ‘কৃষ্ণ’ এই নামটি রাখিয়াছিলেন গর্গমুনি ধ্যানে জানিতে পারিয়া। এই নামটি ব্রজবাসীর কাহারও খুব একটা পছন্দ হয় না। জননীরা ডাকিতেন গোপাল, সখারা ডাকিতেন কানাই, গোপীরা কিছু বলিতেন না, ভাবিতেন কী বলিয়া ডাকিব? শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের প্রথম ভাল করিয়া দেখেন কালীয়দমনের দিন। রাধাসহ তাঁহারা আটজন গোপী কালীয় হ্রদের তীরে দাঁড়াইয়া বিষ হ্রদের মধ্যে কৃষ্ণকে দেখিয়া হাহাকার করিয়া কান্দিতেছেন। 
‘শ্রীমহানামব্রত প্রবন্ধাবলী’ (১ম খণ্ড) থেকে

11th     November,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ